রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক

 

 

 

 

 

 

 



 

শার্লক হোমস-কে নিয়ে লেখা একটি ক্ষুদ্র গল্প

সকালে খাবার টেবিলে বসার পর থেকেই ওয়াটসন মন দিয়ে সঙ্গীকে লক্ষ্য করছিলো। হোমস মুখ তুলতেই তার নজরে এলো।
"কি নিয়ে ভাবছো এতো।"
"ভাবছি তোমাকে নিয়ে।"
"আমাকে নিয়ে!"
"হ্যাঁ। ভাবছিলাম, তোমার চিন্তা করার কায়দাটা নিতান্তই মামুলী, অথচ লোকেদের এখনও তাতে কী আগ্রহ -- সেটা অবশ্য আনন্দেরই কথা। "
"ঠিকই বলেছো", হোমস বলল। "সত্যি কথা বলতে কি, আমার মনে পড়ছে আমিও এক সময়ে ঐ একই কথা বলেছিলাম।"
"তোমার চিন্তা-ভাবনার ধরণটা সহজেই শেখা যায়", ওয়াটসন একটু বাঁকা ভাবেই মন্তব্য করল।
"নিঃসন্দেহে", হোমস মুচকি হেসে বলল, "বোধহয় তুমি নিজেও আমি কি ভাবে চিন্তা করি তার উদাহরণ দিতে পারো। দেবে।"
"সানন্দে", ওয়াটসন উত্তর দিলো। "আমি বলতে পারি আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যন্ত তুমি কিছু নিয়ে খুব ভাবছো।"
"চমত্কার!" হোমস বলল, "কি করে তুমি সেটা বুঝলে।"
"কারণ তুমি নিজে সব সময়ে ফিটফাট থাকো, কিন্তু আজকে দাঁড়ি কামাতে ভুলে গেছো।"
"সত্যি, তুমি চালাক", হোমস বলল। "আমার কোনও ধারণাই ছিল না যে তুমি এতো যোগ্য চ্যালা। তোমার তীক্ষ্ণ চোখে আর কিছু ধরা পড়েছে।"
"হ্যাঁ। তোমার বার্লো নামে একজন মক্কেল আছে এবং তুমি তার সমস্যার সমাধান করতে পারো নি।"
"ওরে বাবা, সেটা তুমি কি করে জানলে।"
"ওর খামটার বাইরে নাম লেখা আছে। তুমি খামটা খুলে বিরক্তি প্রকাশ করে ভুরু কুঁচকে পকেটে রেখে দিলে। "
"নাঃ, তোমার পর্যবেক্ষণ শক্তি আছে। আর কিছু বলতে পারো।"
"আমার ধারণা হোমস, তুমি ফাটকাবাজি শুরু করেছো।"
"সেটা কি করে বুঝলে, ওয়াটসন।"
"তুমি খবরের কাগজ খুলে সোজা শেয়ার মার্কেটের পাতায় চলে গেলে, তারপর তোমার হর্সোচ্ছ্বাস শুনলাম।"
"এটাও দারুণ বলেছো, ওয়াটসন। আর কিছু।"
"হ্যাঁ, হোমস। তুমি ড্রেসিং গাউন না পরে, তোমার কালো কোটটা পরেছো। তারমানে তুমি কোনও নামিদামি অতিথির অপেক্ষায় আছো।"
"আর কিছু।"
"নিঃসন্দেহে আরও অনেক কিছু খুঁজে বার করতে পারি; শুধু কয়েকটা বললাম তোমাকে দেখাতে যে, অন্যরাও তোমার মতোই চালাক।"
"এক আধজন নিশ্চয়, তবে সবাই নয়। আমার আশঙ্কা তুমি ঐ পরের দলেরই একজন।"
"তারমানে।"
"প্রিয় বন্ধু, তোমার সিদ্ধান্তগুলো ঠিক যেরকম হবে ভেবেছিলাম সেরকম কিন্তু হল না।"
"তারমানে আমি ভুল বলেছি।"
"একটু বোধহয় ভুলই বলেছো। তুমি যা পরপর বললে সেগুলোই ধরি। আমি দাঁড়ি কামাই নি, কারণ আমার ক্ষুরটা ধার দিতে পাঠিয়েছি। আমি কোট পরেছি, কারণ আমার মন্দভাগ্য যে, সকাল সকাল আমাকে আজ ডেণ্টিস্টের কাছে যেতে হবে। তার নাম বার্লো, এবং চিঠিটা সেই অ্যাপয়েণ্টমেণ্টের কথাটাই মনে করিয়ে দেবার জন্য পাঠানো হয়েছে। শেয়ার কেনা-বেচার পাশের পাতাটাই ক্রিকেটের পাতা। সেখানে দেখছিলাম সারে-র দল কেণ্ট-এর বিরুদ্ধে লড়াইটা কিরকম করল। যাইহোক, তুমি চালিয়ে যাও। আমার চিন্তা-ভাবনার করার কায়দাটা সত্যিই মামুলি, তুমি নিঃসন্দেহে শিগগিরি রপ্ত করতে পারবে।"

আর্থার কোনান ডয়েল

 

এটি সম্ভবতঃ শার্লক হোমস নিয়ে লেখা আর্থার কোনান ডয়েল-এর ক্ষুদ্রতম গল্প। গল্পটি পাওয়া যাবে: শার্লোকিয়ান.নেট-এ । গল্পটির অন্য একটি অনুবাদ পাওয়া যাবে প্রসাদ সেনগুপ্তের লেখা গবেষণামূলক গ্রন্থ 'আর্থার কোন্যান ডয়েল - জীবন ও সাহিত্য' গ্রন্থে। প্রকাশক প্রেসিডেন্সী লাইব্রের্রী