রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক

 

 

গোয়েন্দাসাহিত্য  কি?

রহস্য কাহিনী হল এক ধরণের গল্প যেখানে কোনও অপরাধ বা কোনও রহস্যজনক ঘটনা সংক্রান্ত নানান তথ্য পাতায় পাতায় সাজানো থাকে। পাঠকদের সেগুলি বিশ্লেষণ করে সংঘটিত অপরাধ বা রহস্যের কিনারা করার সুযোগ দেওয়া হয়। গল্পের শেষে অবশ্য লেখক তাঁর নিজের সমাধানটি প্রকাশ করেন, সাধারণতঃ সেটি অভিনব হয়। রহস্যকাহিনীতে গোয়েন্দা না থাকলেও চলে, কিন্তু গোয়েন্দা কাহিনীতে গোয়েন্দা থাকতেই হবে। সেই মুখ্য চরিত্র। গোয়েন্দা নিজেই তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধি ব্যবহার করে অপরাধীকে খুঁজে বার করবেন কিংবা উপস্থিত বুদ্ধি ও দুঃসাহসিকতা দেখিয়ে অতি শয়তান অপরাধীকে কব্জা করবেন।

সাধারণভাবে গোয়েন্দা গল্পের বৈশিষ্ট্য হল:

  • আপাতদৃষ্টিতে একটি নিখুঁত অপরাধকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ।
  • পারিপার্শিক ঘটনাবলী না তলিয়ে দেখার ফলে নির্দোষ ব্যক্তিকে অপরাধী বলে মনে করা হয়েছে ।
  • রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ অপদার্থ ভোঁতাবুদ্ধি পুলিশ নির্দোষ ব্যক্তিকে আটক করেছে ।
  • গোয়েন্দার তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধি এবং বিশ্লেষণীশক্তি প্রয়োগ করে রহস্যের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়েছেন।
  • নানান তথ্য পর পর সাজিয়ে পাঠককে হতচকিত করে গোয়েন্দা সন্দেহের তালিকায় যে ছিলো না তাকেই দোষী বলে ধরতে পেরেছেন।

গোয়েন্দাকাহিনী কাহিনী নানান ধরণের হয়। এর একটি বহু-প্রচলিত রূপ হল: whodunits বা কে করেছে? এটি এক ধরণের গোয়েন্দাকাহিনী যেখানে ধাঁধা বা রহস্যই গল্পের মূল আকর্ষণ। এতে পাঠককে বিভিন্ন সূত্র ধরিয়ে দেওয়া হয় যার থেকে আসল দোষীকে চিহ্নিত করা সম্ভব। দোষী কে সেটা প্রকাশ করা হয় বইয়ের শেষ কয়েকটি পাতায়। এটির গোয়েন্দা সাধারণতঃ সখের বা পেশাদার গোয়েন্দা হয়। এর একটি উপশাখা হল লকড-ডোর বা ক্লোজড-ডোর মিস্ট্রি। লকড ডোর রহস্যতে হত্যাকাণ্ড (বা অপরাধ) ঘটেছে ভেতর থেকে দরজা-জানলা বন্ধ এমন একটি ঘর বা বাড়িতে, যেখানে অন্য কোনও ব্যক্তি ছিল না।

গোয়েন্দা কাহিনীর আরেকটা রূপ হল আদালত-নাটক (courtroom drama)। কোর্টে উকিলের ক্ষুরধার সওয়ালে ধীরে ধীরে প্রমাণিত হবে যে, অভিযুক্ত লোকটি নির্দোষ। সেই সঙ্গে প্রকাশ পাবে কে এই অপরাধটি আসলে করেছে। বাংলা বা হিন্দী সিনেমায় এই ধরণের কোর্ট সিন মাঝেমধ্যে দেখা যায় ।

যাঁরা অপরাধী ধরার ব্যাপারে পুলিশ-পদ্ধতি জানতে আগ্রহী, তাঁদের তৃপ্তির জন্য যেসব গোয়েন্দা-কাহিনী সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলি পুলিশী পদ্ধতি বা পুলিশী তদন্ত বলে চিহ্নিত। এখানে পুলিশের বিভিন্ন অনুসন্ধান পদ্ধতিকে তুলে ধরে রহস্যের কিনারা করা হয়।

গোয়েন্দাকাহিনীর আরেকটা রূপকে বলা হয় 'হার্ড বয়েলড' গল্প। এতে যে গোয়েন্দা সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে 'টাফ্'। সবরকম প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে বিপদ-আপদকে দৃঢ়ভাবে (দরকার হলে বল প্রয়োগ করে ) মোকাবিলা করে অতি ধূর্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে গোয়েন্দা ঘায়েল করে।

এগুলি ছাড়াও নানা ধরণের গোয়েন্দাকাহিনী আছে| অনেক সময়ে অন্যভাবেও গোয়েন্দাকাহিনীকে ভাগ করা হয়, যেমন, কোজি মিস্ট্রি অনেক সময়ে (একে ম্যানর হাউস মিস্ট্রিও বলা হয় - অতি-পরিচিত কাছাকাছি বসবাসকারীদের মধ্যেই একজন দোষী), ইনভার্টেড নভেল (দোষী কে - সেটা প্রথমেই পাঠকের জানা থাকে, গল্প হচ্ছে কীভাবে রহস্য উদ্ঘাটন করে গোয়েন্দা তাকে ধরেন), ফরেন্সিক নভেল (এতে ফরেন্সিক বিজ্ঞানের প্রচুর প্রয়োগ থাকে), ঐতিহাসিক গোয়েন্দাকাহিনী, ইত্যাদি, ইত্যাদি|