রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক

 

 

বাংলা গোয়েন্দাসাহিত্যের আদিযুগের লেখক

বরকতউল্লা: ঠগী দমনে নিযুক্ত স্লীম্যান সাহেবের এক দারোগা। তিনি কিছু কিছু কাহিনী সরকারী ফাইল থেকে উদ্ধার করে ইংরেজীতে ছাপিয়েছিলেন। পরে বাংলায় 'বাঁকাউল্লার দপ্তর' নামে এগুলি প্রকাশিত হয়।

গিরিশচন্দ্র বসু: ১৮৫৩ থেকে ১৮৬০ - এই সাত বছর দারোগার চাকরি করেছিলেন। দুষ্কৃতিদের নানার কীর্তিকাহিনী তিনি লিপিবদ্ধ করেন 'সেকালের দারোগার কাহিনী'-তে। ১৮৯৪-১৯৯৫ সালে একটি পত্রিকায় এগুলি প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে পুলিশী গোয়েন্দাকাহিনী এদের বলা যাবে না।

ভুদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮৪২-১৯১৯): বটতলার বই 'হরিদাসের গুপ্তকথা' লিখে খ্যাত হয়েছিলেন। দেশী-বিদেশী নানান কেচ্ছা ও অপরাধকাহিনীর মিশ্রণে তৈরী এই লেখা। ভুবনচন্দ্রের বহু বই বটতলা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু তার সবগুলিই ভুবনচন্দ্র লিখেছিলেন বলে মনে হয় না।

হরিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বি.এল: পেশায় উকিল ছিলেন। 'নেপাল ডাক্তারের কাহিনী' (১৮৯৮) লিখে প্রসিদ্ধ হন।

প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৫৫-১৯৪৭): বহু বছর দারোগার চাকরি করেছিলেন। নিজের পুলিশ-জীবনের নানান কাহিনী (সম্ভবতঃ কিছু কল্পিত) 'দারোগার দপ্তর' নাম দিয়ে এক কালে মাসে মাসে প্রকাশিত হত।

ক্ষেত্রমোহন ঘোষ: প্রথম বই 'আদরিণী' ১২৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 'জাল গোয়েন্দা' 'তিন খুন' ইত্যাদি অনেকগুলি বই তিনি রচনা করেছিলেন।

দেড়ে বাবাজী: লেখকের আসল নাম কী ছিল জানা নেই। 'উদাসিনী রাজকন্যার গুপ্তকথা (১২৯৪) বইটি বটতলার বই।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: 'রাণী সুধামুখী' (১৩০১)।

শরচ্চন্দ্র দেব (সরকার): 'তীর্থ বিভ্রাট', 'গুম খুন' ইত্যাদি বইয়ের রচয়িতা। কিন্তু উনি বিখ্যাত হন 'গোয়েন্দা কাহিনী' নামে মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করার জন্যে।

কুসুমেষু মিত্র: 'কামিনীকণ্টক' (১৩০৮)।

সতীশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: 'রেলে চুরি' (১৩১৯)।

মহিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: চাঁদের হাট' (১৩২৭, ৪র্থ সংস্করণ)। বইটির প্রথম প্রকাশকাল অজ্ঞাত।

পাঁচকড়ি দে: বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের আদি-পর্বের অন্যতম শ্রেষ্ট লেখক। বাংলা গোয়েন্দা-সাহিত্যের জনক বলে অনেকে ওঁকে মর্যাদা দেন। ওঁর 'মায়াবিনী' (১৮৯৯), 'মায়াবী (১৯০১) ও জীবস্মৃত রহস্য (১৯০৩, পরে নাম পাল্টে 'সেলিনাসুন্দরী') এককালে বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্য জগতে সাড়া এনেছিল।

অম্বিকাচরণ গুপ্ত: সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কিন্তু ডিটেকটিভ উপন্যাসও লিখেছিলেন। 'স্বর্ণবাঈ' (১৩১৫) এবং 'নথীর নকল' (১৮৯৯) ওঁরই লেখা।

দীনেন্দ্রনাথ রায় (১৮৬৯ -১৯৪৩): প্রথম বই বাসন্তী (১৮৯৮)। বহু রহস্য ও গোয়েন্দাকাহিনী লিখেছেন। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওঁর রহস্যলহরী সিরিজ-এর ডিটেকটিভ ব্লেক এবং সহকারী স্মিথ-এর গল্প। এগুলি অনুবাদকহিনী।

হরিসাধন মুখোপাধ্যায় (১৮৬২-১৯৩৮): ঐতিহাসিক প্রবন্ধ ও গল্প লিখে সাহিত্যসাধনা শুরু। পরে ডিটেকটিভ গল্প লিখতে শুরু করেন। 'কঙ্কণ-চোর' (১৯১৬) , 'লালচিঠি' (১৯১৬), 'মৃত্যু প্রহেলিকা' (১৯১৭)। ওঁর কিছু লেখা ছিল অনুবাদ।

সূত্র: ক্রাইম কাহিনীর কালক্রান্তি - সুকুমার সেন; আনন্দ পাবলিশার্স, ২০০৮।