রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক


এ. মুখার্জী এণ্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেড

 

 

 

 

 

 

 


 

সাতসুরবায় আধিভৌতিক

(৬)

ইন্সপেক্টর দত্ত আমাকে বাঁচাতে পারলেন না। বিপদ আপদ আমাকে কাঁধে তুলে নেত্য শুরু করেছে। সুযোগ বুঝে সাধারন ইনটিউশনগুলো মাথা থেকে পালিয়ে গেল। এতদিন নিজেকে বেশ বিচক্ষণ বলেই মনে হয়ে এসেছে। সেটা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় দুঃখ হচ্ছে বৈকি। আসলে বিচক্ষণতার একটা ইল্ড পয়েন্ট থাকে অনেকটা ইলাস্টাসিটি ধর্মের মত, একটা জায়গার পর ধ্বংস হয়ে যায়। গতকাল রাতে হোতোখো আসার খবরটা যদি ইন্সপেক্টরকে জানাতাম তাহলে হয়ত এতটা আফশোষ হত না। বেচারা ধিলোঁ, আমার বোকামির জন্য তার যাওয়া হল না। প্রকাশ হত্যার ঘটনায় আমরা নাকি কেউ সন্দেহের বাইরে নই। কিছুক্ষণ আগে প্রকাশের লাশ মর্গে চালান দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত একটার পর একটা ঘটনা অনেকটা ডিটেকটিভ সিরিয়ালের মত পার্ট বাই পার্ট ঘটে যাচ্ছে। কাল বিকেলে গাড়িটা ঠিকঠাক হয়ে শপ থেকে এল। আজ সকালে প্রকাশকে স্টেশন থেকে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা। গতকাল রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়েছিলাম। সবে চোখটা লেগে এসেছে। শুনি কে যেন আমাকে ডাকছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি হোতোখো কোনরকমে তাঁবুর খুঁটি ধরে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। বেহেড মাতাল। আমায় দেখে আঙুল তুলে শাসাতে শুরু করল, "মিট্টিবাবু খবরদার প্রকাশ ফিরে আসলে কিন্তু আবার আগুন জ্বলবে। ও শালাকে জানে খতম করে দেব দেখিস। কোন দারোগার ব্যাটা কিছু করতে পারবে না।"
যত বোঝাতে চাই, "তুই ভুল শুনেছিস, প্রকাশ আসবে না," ভবি ভোলে না। শেষমেষ ধিলোঁ এসে টানতে টানতে ওকে ওকে তাঁবুর বাইরে নিয়ে যায়। ও চলে যাওয়ার পর অবশ্য মনে হয়েছিল খবরটা ইন্সপেক্টরকে জানান দরকার। ধিলোঁকে বলতে সে হেসে উড়িয়ে দেয়, "ছোড়িয়ে সাব। আপ ভি! ও বেওড়া ঠিক সে কড়া নহি হো পাতা। ও মারেগা প্রকাশ কো। যাইয়ে শো যাইয়ে। কল সুবহ জলদি উঠনা হ্যায়।"
আজ ভোরে প্রকাশকে আনতে যাওয়ার আগেই বিরাট বিভ্রাট ঘটে গেছে। গাড়িটা আবার স্টার্ট নিচ্ছে না। অথচ কাল বিকেলে ঝকঝকে হয়ে শপ থেকে বেরোল। অগত্যা ধিলোঁকে বাসে পাঠাই। স্টেশনে পৌঁছাতে ঘন্টাদুয়েক দেরী হয়ে থাকবে। টিকিট ঘরের সামনে পুলিশ তাকে আটকে দেয়। মোকটচুং স্টেশন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলে তার লাশ পওয়া গেছে। গলায় গভীর ক্ষত। দুপুর একটা পনেরো নাগাদ ধিলোঁকে সঙ্গে নিয়ে ইন্সপেক্টর দত্ত এলেন আমার তাঁবুতে। প্রকাশের খবর দেওয়ার পর ঠোঁটের ডগায় ঝুলে থাকা প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিলেন, "গাড়িটা পাঠাননি কেন?"
বলি, "স্টার্ট নিচ্ছিল না। অথচ গতকাল শপ থেকে ঠিক হয়ে এসেছে।"
ধিলোঁ মিনমিনে গলায় বলে, "ইঞ্জিন মে প্রব্লেম হ্যায় সাব।"
"কই দেখি," ইন্সপেক্টর দত্ত গাড়ির বনেট খুলে ফেলেন। কাল শপ থেকে গাড়ি আসার সময় দেখে নেননি?"
"কি হয়েছে মিঃ দত্ত?" আমি বেশ ঘাবড়ে গেছি।
"তারগুলো জ্বলে গেছে। শর্ট সার্কিট। ঠিক আছে থানায় চলুন, কাগজপত্রে সই করতে হবে।"

(৭)

স্নো ভিউ হাউসিং কম্প্লেক্স, কোহিমা শহরের অন্যতম পশ এলাকা। অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স বলতে যা বোঝায় এটা ঠিক তেমন কিছু নয়। তিন চারটে বিল্ডিং, একটি পার্ক আর আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা দু তিনটে শপিং সেন্টার। কমপ্লেক্সের তিন নম্বর বিল্ডিং এর দোতলায় সিঁড়ির ডানদিকে ২ বি অ্যাপার্টমেণ্ট। দরজার নেমপ্লেটে লেখা 'মিসেস এস গিমেজ'। ইন্সপেক্টর দত্ত কলিং বেল টিপলেন। জনপ্রিয় ইংরেজী গানের সুর ভেসে আসছে। দরজাটা অল্প একটু ফাঁক হল। চোট্ট গোলগাল একটি মুখ উঁকি দিল। বাকি অবয়ব দরজার ওপারে।
"কাকে চাই?"
"আমি মিস রীটার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।"
"আমিই রীটা", মেয়েটি বেশ অবাক হযেছে।
দত্ত আইডেন্টিটি কার্ড বের করে দেখালেন, "আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। ভেতরে আসতে পারি?"
"আসুন।"
ঘরে ঢুকতে ঢুকতে দত্ত আড়চোখে ওকে দেখে নেন। সদ্য স্নান সেরেছে। আকাশী রঙা শার্টিন গাউনে ঢাকা পিঠের উপর ভেজা চুলের অগ্রভাগ যেন শিশির ধোয়া শিউলি পাতার ডগা। বিন্দু বিন্দু জল চুঁইয়ে পড়ে চুলের শেষপ্রান্তের কিছুটা আকাশী জমি জলসিক্ত মেঘের মত গাঢ় হয়ে ভেজা।
"গতকাল কি কোহিমার বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন? সরি প্রশ্নটা একটু বেখাপ্পা শোনাল বোধহয়। পুলিশের লোক তো, সহবৎ শিক্ষাচর্চার অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।"
"নাতো! কাল এখানেই ছিলাম।"
"এই ফ্ল্যাটে আপনি একা থাকেন? এই দ্যাখো প্রশ্নটা তো প্রথমে করার কথা ছিল। এক্সট্রিমলি সরি।"
"নানা ঠিক আছে। হঁযা এখানে একাই থাকি। মিসেস গোমস এগারো মাসের চুক্তিতে এটা ভাড়া দিয়েছেন। আপনি ঠিক কেন এসেছেন বুঝতে পারলাম না তো।"
"ঠিক আছে ভণিতা না করে সরাসরি কাজের কথায় আসি। ব্লু মুন হোটেলে আপনি কি ধরনের কাজ করেন?"
"আ-আমি রিসেপশানিস্ট।"
"হুম। আপনার বাড়ি কোথায়? আত্মীয় স্বজন এখানে দেখা করতে আসেন?"
"আমার বাড়ি মোকটচুং ডিস্ট্রিক্টে। বাবা আছেন। সৎমা সৎভাই আছেন। ওদের সাথে আমার বনিবনা হয় না। আমি নিজের মত থাকি ওরা ওদের মত।"
"ক মাস ধরে এখানে এসেছো? এর মধ্যে একবারও যোগাযোগ করনি?""
"চারমাস হল কোহিমায় এসেছি। এখানে আসার পর ওদের কথা ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। তাই যোগাযোগ করিনি।"
ইন্সপেক্টর দত্ত ধৈর্য হারিয়ে 'আপনি' থেকে 'তুমি'তে চলে এলেন, "আহ্, বাজে বকা বন্ধ কর। একজন ঘাঘু পুলিশের সামনে বসে আর কতক্ষণ সত্যি মিথ্যে মিশেল দেবে? নাম ভাঁড়িয়েছ, পেশা পাল্টালে, এখন বাবা মাকেও সিন থেকে সরিয়ে দিলে। গপ্পো বানানোর একটা লিমিট থাকা দরকার।"
"কি যাতা বলছেন?"
"ঠিকই বলছি। মানছি লজ্জার খাতিরে নিজেকে কল গার্ল বলতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু বাড়ির সাথে যোগাযোগ নেই কথাটা মিথ্যা। গতমাসেও তুমি ওদের মানিঅর্ডার পাঠিয়েছ। এই যে তার রসিদ।"
রিটা মুখ নামিয়ে ফেলেছে। দত্ত সুযোগটার সদব্যাবহার করলেন, "টোংলি। এই নাম নিয়ে তুমি চামখার গাড়িতে উঠেছিলে। এখন বলত দামাংকে খুন করতে কে তোমায় লাগিয়েছে।"
রিটা নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, "বিশ্বাস করুন, দামাংকে আমি মারিনি।"
"আবার মিথ্যা। গত শনিবার তুমি মোকটচুং এ যাওনি? যে ধাবায় চামখা আর দামাং মদ খেয়েছিল সেখানে তুমিও খেয়েছ। তারপর ওদের পিছু নিয়েছিলে।"
রিটা চোখের জল মুছে সোজা হয়ে বসে, "ওকে মারতে গইযেছিলাম, কিন্তু পারিনি। পিছু নিয়েছিলাম। রাস্তায় ও একটা জঙ্গলে ঢুকে গেল। তারপর কে যেন চেঁচিয়ে উঠল। আমি পালিয়ে গেছি।"
"দামাং সেই সময়টায় খুন হয।"
"শুনেছি। মোকটচং এর খবর সব আমার জানা।"
"কেন মারতে গিয়েছিলে?"
"ও একটা শয়তান। আমার দিদিকে বরবাদ করেছে। লোক পাঠিয়ে মেরেছে। আমার মা, দিদির দুঃখে তিল তিল করে মারা গেছে। ও আমার পরিচয় জানে না কিন্তু আমি ওকে চিনি। ওকে মারার জন্যই আমি এ পথে নেমেছি। এতদিন ধরে সুযোগ খুঁজছিলাম।"
"মোকটচুং এ প্রতি শনিবার তুমি কার কাছে যেতে? এ চারমাস বাড়ির লোকজনের সাথে যে দেখাসাক্ষাৎ করনি সেটা আমি জানি। তাহলে ওখানে যেতে কেন?"
"সেটা বলতে পারব না। জান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।"
"নির্ভয়ে বল টোংলি। প্রমিস করছি কেউ জানবে না।"
টোংলি খানিক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে, "লোকটার নাম ডি জে।"
"ওর সাথে কিভাবে আলাপ হল?"
"ব্লু মুনে এসেছিল দামাং এর সাথে। সেদিন আমি ওর ঘরে ছিলাম। বখরা নিয়ে দুজনের খুব ঝগড়া হল। 'এক সপ্তাহের মধ্যে দশ হাজার না দিলে ওর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে', এই বলে দামাং রেগেমেগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। আমি সরাসরি বললাম দামাংকে সরিয়ে দিতে চান আমি হেল্প করব। ও রাজি গেল।"
"এরপর আর কোনদিন ডি জে হোটেলে গিয়েছিল?"
"না আমি যেতাম ওর কাছে দামাং এর খবরাখবর নিতে।"
"যেদিন দামাংকে মারতে গেলে সেদিন কোন অস্ত্র ছিল তোমার কাছে?"
"রিভলভার ছিল। ডি জেই দিয়েছিল।"
"তোমার কাছে আছে?"
"হ্যাঁ। ফেরত দেওয়ার সুযোগ হয় নি। একটু বসুন নিয়ে আসছি।"
দত্ত রিভলভারটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফেললেন। এটা মায়ানমারের মাল, খুব সম্ভবত চোরাই। বাড়িতে রাখলে জেল হয়ে যাবে।"
"কিন্তু..." টোংলি কিছু বলার আগেই দত্ত হাত তুলে তাকে থামালেন, "তুমি গাঁয়ের সহজ সরল মেয়ে। প্রতিশোধের নেশায় এ পথে নেমেছ। কিন্তু এই নোংরা পৃথিবীর অনেকটাই তোমার অজানা। এক শয়তানকে মারতে আরেকটা বদমাইশের পাল্লায় পড়েছ। এর থেকে নিস্তার পাবার একমাত্র পথ আমাকে সাহায্য করা। যে দামাংকে তুমি মারতে চেয়েছিলে সে এক বিরাট চক্রের ছোট অংশ। এদের সব্বাইকে শাস্তি না দিলে তোমার দিদির আত্মা তো শান্তি পাবে না।"
টোংলি দুহাতে মুখ ঢেকে বসে থাকে। দত্ত তার পাশে বসেন, "আমার উপর ভরসা রাখ। যে জীবন ছেড়ে এখানে এসেছ সেখানে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাব।"
টোংলি মুখের ওপর থেকে হাত সরায়, "সত্যি বলছেন?"
"ইয়েস। যেভাবে বলছি ঠিক সেভাবে কাজ করে যাও। কাল একজন আর্টিস্ট নিয়ে আসব। ডি জের চেহারা ঠিকঠাক বর্ণণা দিতে হবে। পারবে?"
"পারব।"
"চলি তাহলে। কাল রাত নটায় আসব।"

পরদিন ইন্সপেক্টর দত্তকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই রিটার ঘরে যেতে হল। রিটার গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ ঠিক তেমনভাবেই দরজার কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে যেমনটি কাল রাতে চিংকোস রেস্তোরার সেই ডেলিভারি বয় খাবার দিতে এসে দেখেছিল। সেই ডেলিভারি বয়ের জবানবন্দী অনুযায়ী গতকাল রাত পৌনে নটা নাগাদ রিটা দুপ্লেট ভেজ ফ্রায়েড রাইস আর এক প্লেট ফিস মাঞ্চুরিয়ান অর্ডার দেয়। খাবার অর্ডার দেওয়ার সময় খুব সম্ভবত তার ঘরে গেস্ট ছিল কারণ অর্ডার দেওয়ার আগে সে কাউকে জিঞ্জাসা করেছে, "এক প্লেট অর্ডার দিই?" ডেলিভারি বয়টি দশটা বাজতে দশ নাগাদ দরজার বেল বাজায়। কোন সাড়া না পেয়ে দরজায় অল্প ধাক্কা দেয়। দরজার পাল্লা অল্প খুলে যেতেই সে রক্তাপ্লুত অবস্থায় রিটাকে পড়ে থাকতে দেখে। সিল করার আগে ইন্সপেক্টর দত্ত একবার ঘরটা জরিপ করে নেন। দামি বার্মাটিকের অzাশট্রেতে পোড়া সিগারেট শুদ্ধু, মিউজিকাল লাইটার, রান্নাঘরের বেসিনে রাখা দুটো কাঁচের গ্লাস ইতিমধ্যেই থানায় জমা পড়েছে। পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট পেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। কোহিমা থানার সেকেণ্ড অফিসার অরূপ প্রুস্টিকে নিয়ে দত্ত ব্লুমুন হোটেলে এলেন। "বুঝলে প্রুস্টি মেয়েটি এই হোটেলে বোর্ডারদের এন্টারটেইন করত। গত কাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই হোটেলে আসা প্রতিটি কলের নম্বর আমার চাই। সেই সাথে রিটার মোবাইলে গত তিন চার দিনের কল হিস্ট্রি। এখন থানায় চল অনেক কাজ বাকি। মেয়েটির বাড়িতে একটা খবর দিয়ে দিও।"
হোটেল ব্লু মু এবং রিটার মোবাইল নম্বর পরীক্ষা করলে একটি বিশেষ ফোন নম্বর প্রকটভাবে নজরে আসছে। এই নম্বর থেকে শনিবার দুপুরে ব্লুমুনে একবার কল এসেছে। সময়সীমা (?) পনেরো মিনিট। রিটার মোবাইল লিস্টে কলটি এসেছে শুক্রবার দুবার শনিবার দুবার। শনিবারের দুটি কলের মধ্যে একটা মিস্ড কল। ব্লুমুনের রিসেপশানিস্ট জানালে শনিবার দুপুরে পনের মিনিটের কলটি নুদা অzাটেণ্ড করে কারণ কলটি যিনি করেছিলেন তিনি নুদার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। নুদাকে ডেকে পাঠান হল। দত্ত নম্বরটি দেখালেন, "নম্বরটি চিনতে পার ?"
"হঁযা শাব, রিটা ম্যাডামের পুরোনো ক্লায়েন্ট সিনহা শাব।"
"গতকাল তোমার সাথে কি কথা হয়েছিল?"
"রুুপম শাব বলল ম্যাডামের ফোন সুইচ অফ্। তার ঘরে গিয়ে খোঁজ করে আসি। আমি জানি শনিবার ম্যাডাম কোহিমায় থাকে না। কিন্তু শাব বলল সে আছে। গিয়ে দেখি ম্যাডাম ঘরেই আছে। ম্যাডামের মুডটা বোধহয় ভাল ছিল না শাব। আমার সাথে বেশী কথা বলেনি। তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিল। তখন কি জানতাম এমনটা ঘটবে।" নুদার চোখ আর্দ্র হয়ে আসে।

(৮)

রকস্টোন কন্সট্রাকশন। পাহাড় থেকে আনা পাথর কেটে পালিশ করে বিভিন্ন মাপের স্ল্যাব বানান হয়। গ্র্যানাইট, নাইস, ডিউনাইট, মার্বেল স্ল্যাব একতলা বিল্ডিং এর দেওয়াল ঘেঁষে সারি সারি দাঁড় করিয়ে রাখা। বিল্ডিংটি সম্ভবত রকস্টোন কন্সট্রাকশনের অফিস। ভিতরে ঢুকে দু একমিনিটের কসরতে রূপম সিনহার নেমপ্লেট লেখা ঘর খুঁজে পাওয়া গেল। কাঁচের দরজার ওপরে বসে থাকা মানুষটি ফোনালাপে ব্যাস্ত। দত্ত দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে দেখে রূপম তাড়াতাড়ি কথা শেষ করে রিসিভার নামালেন। দত্ত আইকার্ড দেখিয়ে রূপমের মুখোমুখি চেয়ারে আয়েশ করে বসেন।
"আপনি নিশ্চয় রূপম সিনহা, রকস্টোন কন্সট্রাকশনের মালিক।"
"মালিক আমার বাবা হৃষিকেশ সিনহা। তিনি অসুস্থ, তাই আমাকে পুরোটা দেখাশোনা করতে হচ্ছে।"
"বাইরে অনেকধরনের পাথর দেখলাম, এগুলো কি লোকাল অঞ্চল থেকে আসে?"
"কিছু লোকাল, কিছু জাপডো পাহাড় থেকে আনা হয়।" রূপম সিনহা একটু নড়েচড়ে বসেন, "কি ব্যাপার বলুন তো হঠাৎ আমার কাছে?"
"আপনার একটা জিনিস ফেরত দিতে এলাম।"
"আমার জিনিস? কি?"
"এই লাইটারটা। শনিবার রিটার ঘরে ফেলে এসেছিলেন। রিটার ঘর থেকে পাওয়া বিদেশী লাইটারটা তেবিলের উপর রাখতেই রূপম সিনহার মুখের রং পাল্টাল, "ক্যান আই কল মাই ল ইয়ার (?)"
"অফ কোর্স ইউ ক্যান। পুলিশের ভ্যান একটু বাদেই আসবে। এ পর্যন্ত যাবতীয় সাক্ষ্য প্রমাণ আপনার দিকেয় আঙুল উঁচিয়ে আছে। আমি এসেছিলাম আপনাকে সাহায্য করতে। সত্যি কথা স্বীকার না করলে আপনার ল ইয়ার যে কতটা আপনাকে ব্মাচাবে তাতে সন্দেহ আছে। আপনার অপরাধটি যামিন অযোগ্য।"
রূপম সিনহা টোপ গিলেছে, "বিশ্বাস করুন আমি খুন করিনি।"
"খুনের সময় তো ওখানেই ছিলেন।"
"ছিলাম।" রূপম সিনহার গলার স্বরে সমর্পণের ভঙ্গি। "গত শনিবার ওর বাড়ি যাই। একটু ডিস্টার্ব্ড লাগছিল। দু পেগ ড্রিঙ্ক করে খাওয়ার অর্ডার দিল। প্রায় মিনিট পনেরোর মধ্যে ডোরবেল বাজে। দরজা খুলতে ওঠার সময় ও বলল, 'এত তাড়াতাড়ি খাবার অর্ডার নিয়ে এল?' আমি তখন সোফায় বসে ও দরজা খুলছে। গুলির শব্দে চমকে উঠি। ওর কাছে যাওয়ার আগেই আরেকটা গুলি ওর মাথায় এসে লাগে। ওখানেই পড়ে যায়। আমি....."
"বীরপুরুষের মত পালিয়ে এলেন তাই না মিঃ সিনহা?"
"এছাড়া আর কি করতাম বলুন। ঘরে স্ত্রী আছেন, ছেলে বড় হয়েছে। থানায় গেলে জানাজানি হওয়ার ভয় ছিল।"
"তখন না পালালেই বোধহয় ভাল করতেন। যাক আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। বাইরে পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। দুজন কন্সটেবল এলে ওদের সাথে সোজা গাড়িতে উঠে বসুন। তারপর দেখি কি করা যায়।"
রূপম সিনহা বাধ্য ছেলের মত কন্সটেবলের সাথে গাড়িতে উঠে পড়েন। বিল্ডিংএর বাইরে যান্ত্রিক নীরবতা। পাথর কাটার মেশিনগুলির দাঁত ঘষা বন্ধ হয়ে গেছে। একজন উর্দি পরা দারোয়ান উঁকিঝুকি দিয়ে গোটা ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছেজিপের ঠিক পেছনে রাখা অzাম্বাসাডার গাড়ি সেকেণ্ড অফিসার প্রুস্টি এবং দত্তকে তুলে জীপের পিছু পিছু ধুলো মেখে চলল। প্রুস্টি উত্তেজনা গোপন করতে পারেন না, "কি মনে হল স্যার?"
ইন্সপেক্টর খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলেন। প্রুস্টি উতলা হয়ে ডাকেন, "স্যার।"
"হুঁ" দত্তর চোখ জানালার বাইরে।
"সিনহা কিছু বলেছে?"
"আচ্ছা অরূপ রিটার লাশটা ঠিক কিভাবে পড়ে ছিল মনে আছে?"
"থাকবে না কেন স্যার। সদ্য সদ্য দেখেছি। দরজার কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।"
"আর গুলিদুটি কোথায় লেগেছে মনে পড়ে?"
"কপালের মাঝখানে আর বুকের বাঁদিকে।"
"এবার ভেবে দেখ রূপমবাবু গুলি করলে রিটার দেহ ওভাবে দরজার দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকত? তাছাড়া গুলিটা যে ছুঁড়েছে তার অব্যর্থ লক্ষ্য এবং সে ক্ষিপ্র। পরপর চালিয়েছে কিন্তু দুটোই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। দুপেগ পেটে পড়ার পর খুব ভাল শুটার না হলে এমনটা পারবে না।"
"তাই তো স্যার, মাথায় আসেনি।"
"সেই তো কথা। কেসটা এক্টু জটিল ব্রাদার। এ বেচারা শুধুমুধু পরকীয়া করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে।"

(৯)

উঠোনের এক কোণে ছোট্ট টুলের উপর মাটির হাড়ি বসানো। দিন সাতেক আগেও হাড়িটা যে বড় বড় পাম্প স্টোভের কাঁধের উপর জাঁকিয়ে বসত সেটি কুড়ি টাকার বিনিময়ে গ্রামের আরেক বাড়িতে চালান হয়ে গেছে। চুলো থেকে একটু দূরে রোদে বসে আছে আশি বছরের ভামরি বুড়ি। রোদ পোহাতে পোহাতে সিদ্ধ চালের গন্ধে মৌতাত নিতে তার বড্ড ভাল লাগে। এমনিতে চোখে ছানি ভরা। হেলথ সেন্টারে গিয়ে ছানি কাটিয়েও ফারাক কিছু টের পায়নি। সারাদিন থুপ্ হয়ে বসে গা হাত পা রোদে সেঁকে। নাতি নাতনিগুলো আশপাশ দিয়ে বোঁ বোঁ করে চলে যায়। বুড়ি চিনতে পারে না। আল্টপকা প্রশ্ন বাতাসে ভাসিয়ে দেয়, "কে রেবুংলি নাকি? মাথায় পাকা চুল তুলে দিবি?" অথবা "ও জুজু যাচ্ছিস কোথায়? আমায় একটু ছায়ায় বসিয়ে দে না বাবা।" ইদানিং ভামরির মুখে একটাই কথা এঁটুলির মত লেগে আছে। থেকে থেকে বৌমাকে জিঞ্জাসা করে, "ও বউ চাম কবে আসবে রে?"
বুড়ুলা বার কয়েক উত্তর দিয়েছে, "শ'রে গেছে কাজ করতে শেষ হলে ফিরবে।" বুড়ি তবু প্রতিদিন ঘ্যানঘ্যানানি জোড়ে, "কি রে আজও তো এল না।" বুড়ুলা এখন হালছাড়া হয়ে গিয়েছে। বুড়ির কথায় চুপ করে থাকে। তবে নাতি নাতনীরা অবিরাম জবাব দিয়ে চলেছে, "বুড়ির ছেলে আসবে, নক্সী চাদর আনবে, বুড়ি মঙে নাচবে।" বুড়ি তাতে করে আরও রেগে যাচ্ছে, "আমার ছেলে যে তোদের বাপ রে। দাঁড়া আসুক সে। তোদের মজা দেখাচ্ছি।" ছেলেপিলেরা হেসে ওঠে, 'হিহি ফুফু।' একমাত্র বুড়ুলা ছাড়া ঘরের হালহকিকত সম্পের্কে কারও মাথাব্যাথা নেই। সে পড়েছে মহা আতান্তরে। ঘরের মানুষ দু হপ্তা ধরে থানায়, শেষ বার ব্যবসায় যে টাকাটা পেল সব ঐ থানায় জমা পড়েছে। কদিন ধরে শুধু আলুভাতে ভাত। তাও কদ্দিন জুটবে কে জানে? ছোট মেয়ের ডাকে চমকে ওঠে বুড়ুলা, "মা ঐ দেক বাপ আসছে।" মানুষটা বেড়ার দরজা খুলে ভেতরে ঢুকছে।
"একি তুমি?"
বেহায়াপানা হাসি দেখে মুখ ঝামটা দেয় বুড়ুলা, "তোমায় ছাড়ল কে?"
চামখা হেসেই চলে, "ছাড়ানোর লোকের কি অভাব আছে?"
ছেলের গলা শুনতে পেয়ে ভামরি বুড়ির ঘ্যানঘ্যানানি শুরু হয়, "ও চাম এলি বাপ। বলি এ্যাদ্দিন ধরে কেউ শ'রে পড়ে থাকে।"
চামখা মায়ের পাশে এসে বসে। বুড়ি রোদে ভাজা গরম হাত ছেলের পিঠে খানিক বুলিয়ে দেয়। চামখা ঘরের ভিতরে মুখ ঘোরায়, "আমি চান করে আসছি। দুটো গরম ভাত বেড়ে রাখ।"
বুড়ুলা ঝাঁঝিয়ে ওঠে, "কেন মামারবাড়িতে ভাত পাওনি বুঝি?"
ভামরি নাকি সুরে অভিযোগ করে, "ও চাম তোর মামাবাড়ি কুথা থেকে এল? ধ্বসে চাপা পড়ে তারা তো সব মরে হেজে গেছে।"
চমখা ফিক্ করে হাসে, "তোর বউ এর মাথায় একটু ছিট ধরেছে বুঝলি।"
বিকেলের দিকে চমখা গেল দামাং এর ঠেকে। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। পাঁচবার টোকা মারতে দরজা খুলে গেল। পারভেজ অবাক হয়ে চেয়ে আছে।
"ছাড়া কবে পেলি?"
"জামিন হয়েছে। আজ সকালে।"
এখানে এলি? টিকটিকি ফলো করলে?"
"তারা এখন জ্যান্ত মানুষ ছেড়ে ভূতনীর পেছনে ছুটছে।"
পারভেজ খ্যাক খ্যাক করে হাসে, "ভূতনী যা খেল দেখাচ্ছে না। এক্কেবারে 'এ' মার্কা হরর ফিল্ম মাইরি।"
"বাদ দে। আমাদের কারবার আসলি হিরোইনদের নিয়ে।"
পারভজ চারপাশটা দেখে নেয়। সঙ্গীরা সব জুয়া খেলায় মত্ত। গলা নামিয়ে জিঞ্জাসা করে, "কোন চিড়িয়ার খোঁজ পেয়েছিস?"
চমখা নির্বিকার মুখে বলে, "পেয়েছি, কিন্তু দামাং নেই এসব খোঁজে লাভ কি?"
পারভেজের চোখ লোভে চকচক করে ওঠে, "আরে ছোড়। যো গয়া ও গয়া। দামাং নেই তো কি আছে। পারভেজ আছে। ডিটেলস দে, তুলে নিয়ে আসব।"
"না বস। ওটি হচ্ছে না। এবার শালা কোন মিডল ম্যান রাখব না। দামাং বহুত ভুগিয়েছে। ডাইরেক্ট বসের সঙ্গে ডিল হবে।"
পারভেজ ভুরু জোড়া ঠেলে উপরে তোলে, "কদিন থানায় থেকে তোর হেভি তেল হয়েছে দেখছি।"
"সে তুমি যাই বলো গুরু। ঝাক্কাস মাল পেতে হলে বসকে ডাইরেক্ট কথা বলতে হবে। যদি রাজি থাকে তো পরশু সন্ধ্যায় আমার বাড়ি নিয়ে আসবি। আর কাল সকালে আমার হাজার টাকা চাই।"
"তোর বাড়ি কেন? এখানে চলে আয়।"
"এখানে বারবার এলে টিকটিকি ঘোরাঘুরি করবে।"
"ঠিক আছে। বসকে জানিয়ে দেব। দেখি রাজি হয় কিনা।"
"সেটা বসের ব্যাপার। আমি তাহলে চলি। দরজাটা বন্ধ করে দে।"

(১০)

মানুষটার মতিগতি কিছু টের পাওয়া যাচ্ছে না। থানা থেকে ফিরে এল দিব্বি খোশ মেজাজে। গতকাল রাতে একটা গুণ্ডা মত লোকের সাথে গুজগুজ করছিল। আজ সকালে বুড়ুলার হাতে পাঁচশ টাকা গুঁজে দিয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ছেলেমেয়ে নিয়ে শুধু বুড়ুলাকে মঙের মেলায় পাঠাতে চায়। নিজে বাড়িতে পড়ে ঘুমোবে। কদিনের ধকল শরীর নাকি সইতে পারছে না। বুড়ুলার ভয় অন্যখানে। লোকটা আবার খারাপ কাজ করছে না তো? দেওতার দয়ায় সেবার ভূতনীর হাত থেকে একটুর জন্য বেঁচে গেছে। কুকর্ম করতে গিয়ে আবার যদি কোপে পড়ে। চামখার দেওয়া টাকা থেকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট হাতে বুড়ুলা বেরিয়ে পড়ে।
বিমলা তার ঘরে ঝাঁট দিচ্ছে। কদিনের ঝড়ে অনেক শুকনো পাতা জড়ো হয়েছে। ঝাঁট দিতে দিতে বুড়ুলা হাঁপিয়ে পড়ছিল। খানিক জিরোতে উঠোনে বসে পড়ল। "অ দিদি কি করছিস?"
"কি রে এ্যাদ্দিন পরে। আয় ঘরে আয়। ঝড় বৃষ্টিতে মেঝেটা নোংরা হয়ে গেছে," বিমলা মাদুর পাতে।
"ঝিংলি কোথায়?"
"পিছনের বাগানে খেলছে।"
"ওর জন্য বড্ড মায়া হয় রে। মা নেই, বাপটা থেকেও নেই।"
বিমলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, "দেবতার মর্জি। চামখার খবর কি?"
"পরশু থানা থেকে ফিরেছে। ওকে নিয়েই যত চিন্তা।"
"কেন? আবার কি হল?"
"আমার একটা কাজ করে দিবি দিদি? বল করবি।"
"নে ধর," একবাটি মুড়ি এনে বুড়ুলা সামনে রাখে, "কি কাজ?"
"আমার মরদটাকে একটু ফুঁক করে দে।"
"কি হয়েছে বলবি তো।"
"ওর মতিগতি ভাল বুঝছি না ভাই।"
"হঠাৎ এমন মনে হল কেন?"
"মেয়েমানুষ সব বুঝতে পারে দিদি। ভাবলাম থানায় গিয়ে শুধরাবে। কিন্তু যে কে সেই। আমার মন কু গাইছে।"
"আমি ঝাড়ফুঁক করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে?"
"যাবে। এ গাঁয়ে তোর মত ভাল ঝাড়ফুঁক কেউ করতে পারে না। তাছাড়া...." বুড়ুলা হঠাৎ চুপ করে গেল।"
বিমলা বলল, "তাছাড়া কি?"
"না মানে," বুড়ুলা দোনোমোনো করতে করতে কথাটা বলে ফেলে, "নারোলাকে নিয়ে লোকে নানা কথা বলে। অপঘাতে মরল, শরীরটাও খুঁজে পাওয়া গেল না। লোকে বলে ও নাকি...."
"চুড়েল হযে গেছে তাই তো?" বিমলা চোয়াল শক্ত করে।
"রাগ করিস না। আমি নিজে তো দেখিনি। তবে দু একজন ওকে দেখেছে। তারা কেউ বেঁচে ফেরেনি।"
"তাহলে আমার কাছে এলি কেন? ভূতনীর মা বলে কথা।" বিমলার রাগ তখনো পড়েনি।
"আমি জানি তোকে দিয়েই হবে। ও তোর খুব বাধ্য মেয়ে ছিল। তুই মন্তর পড়লে ও ঠিক বশ মানবে।"
"নারে বুড়ুলা। ওসব আমি ছেড়ে দিয়েছি। মেয়েটা মারা যাওয়ার পর ওতে মন বসে না। এসব করতে সাধনা লাগে, অভ্যাস করতে হয়। তুই অন্য কারো কাছে যা।"
"একাজ তোকেই করতে হবে। টাকাটা ধর। যা দরকার কিনে নিয়ে আয়। বাকিটা তোর।" বুড়ুলা ব্লাউজে হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করে আনে। বিমলা আর না করতে পারে না। সংসারে বড় অভাব। ওই টাকায় আর কিছু না হোক কদিন ভাত জুটবে।
"ঠিক আছে। দেখি কি করি। আগে তোর ঘরটা বেঁধে দিতে হবে।"
বুড়ুলার মুখে হাসি ফোটে। "আজ রাতেই চলে যা। আমরা মেলায় যাব। বুড়ি আর ও থাকবে। যা লোক হয়ত নেশা করে পড়ে থাকবে। তোর কাজের কোন অসুবিধা হবে না। ঝিংলিকেও বরং আমাদের সাথে মেলায় পাঠিয়ে দে।"
বিমলা বলে, "নিয়ে যা। আমারও সুবিধা হবে।"

 

পরের অংশ

মৈত্রী রায় মৌলিক