রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক

 

 

 

 

 

 

 


 

শান্তি-ধামের অশান্তি

 

হুকা-কাশির ঘটনাবহুল জীবনে মাঝে মাঝে ছোট এমন অনেক ছো্টখাটো য়্যাডভেঞ্চার ঘটেছে যা গুছিয়ে বলতে পারলে তোমাদের বেশ কিছু গল্পের খোরাক জুটে যায়। তারই একটা আজ তোমাদের শোনাব।
ঘটনাটা ঘটেছিল অনেক দিন আগে, সোনার হরিণের অনুসন্ধানে তখনো তিনি হাত দেন নি। পুজোর সময় কিছুদিন বিশ্রাম-লাভের আশায় তিনি গিয়েছিলেন বিল্বনগরম-মাদ্রাজ প্রদেশের সীমান্তে জায়গাটি, বেশ স্বাস্থ্যকর বলে নাকি খ্যাতি আছে। সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না ? তা ছিল বই-কি, নইলে ঐ জনবিরল তেপান্তরের মাঠে নিঃসঙ্গ অবস্থায় স্বাস্থ্যলাভ হতে পারে কখনো ? রণজিতের ছোট ভাই অভিজিৎ সে যাত্রায় হুকা-কাশির সঙ্গী হয়েছিল।
সেদিন সকাল বেলায় চায়ের পাট চুকিয়ে দিয়ে টেবিলের ধারে, মুখোমুখি বসে দু’জনে গল্পে মেতে আছেন, দেখা গেল এক মধ্যবয়সী বাঙ্গালী ভদ্রলোক ফটকের সমনে এসে কেমন একটু ইতস্ততঃ করছে, ভাবটা ঢুকি কি ঢুকি না! হুকা-কাশি মুখ তুলে চাইতেই ভদ্রলোকের সঙ্গে তাঁর চোখাচোখি হয়ে গেল, তখন সমস্ত সঙ্কোচ ঝেড়ে ফেলে ফটক খুলে তিনি ঘরে এসে ঢুকলেন। হুকা-কাশিকে ছোট্ট একটু নমস্কার জানিয়ে বল্লেন, “আপনি আমায় চিনতে পারবেন না, কিন্তু আপনাকে আমি চিনি; কলকাতায় যেখানে আপনি থাকেন সেই ডাফ ষ্ট্রীটে আমারও বাস। কালকেই নদীর ধারে বেড়াতে বেড়িয়ে আপনাকে এখানে প্রথম দেখতে পাই। এই তেপান্তরের মাঠে কিছুদিন একত্রে বাস করলে ক্রমে আলাপ-পরিচয়ও ঘটবে আশা ছিল, কিন্তু তখন ভাবতেও পারি নি যে এক অপ্রত্যাশিত কারণে আজকেই আপনার সঙ্গে দেখা করা অনিবার্য্য হয়ে উঠবে। কাল রাত্রে আমার বাড়ীতে এক অলৌকিক কান্ড ঘটায় এই বন্ধু-বান্ধবহীন দূর দেশে আমি একেবারে হতভম্ব হয়ে পড়েছি; সকাল হতেই তাই পরম আত্মীয় জ্ঞানে আপনার কাছে চলে এসেছি।” ভদ্রলোক অতি করুণ ভাবে হুকা-কাশির দিকে চাইলেন।
হুকা-কাশি নস্যিদানটা খুলে জোর এক টিপ নস্যি নিতে নিতে বল্লেন, “বেশ, আপনার রাত্রির অভিজ্ঞতা খুলে বলুন – আমার তরফ থেকে চেষ্টার কোনই ত্রুটি হবে না।” তার পর অভিজিতকে দেখিয়ে বল্লেন, “এর কাছে আপনার দ্বিধা করবার কিছু নেই; আমায় যা বলবার আছে নিঃসঙ্কোচে এর সামনেই তা বলতে পারেন।”
ভদ্রলোক তখন তার বক্তব্য সুরু করলেন –
“সব ব্যাপার গুছিয়ে বলতে হলে গোড়ার কয়েকটি কথাও আগে বলে নেওয়া দরকার। পুজোর ছুটিতে কোথায় চেঞ্জে যাওয়া যায় কলকাতায় বসে তারই আলোচনা হচ্ছিল, এক বন্ধু পরামর্শ দিলেন বিল্বনগরম; কেবল পরামর্শ দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হন নি, কথা-প্রসঙ্গে এ কথাও জানিয়ে দিলেন যে এখানে তাঁরই জানাশোনা এক ভদ্রলোকের চমৎকার একটা বাড়ী আছে, এবং খুব সস্তায় সেখানা তিনি ভাড়াও দিতে পারেন।
পুজোয় কোথাও যেতে হলে সব চেয়ে বড় সমস্যাই হল বাড়ী-সমস্যা; সেটা এত সহজেই মিটে যাওয়াতে এখানে আসাই স্থির করে ফেলা গেল। তার পর কাল সকালের ট্রেনে এখানে এসে পৌছেছি।
এসে দেখলাম বন্ধুটি একটুও বাড়িয়ে বলেন নি। বাস্তবিকই খাসা বাংলো প্যাটার্ণের বাড়ীখানা, ভেতরে অনকখানি কমপাউন্ড, আর গোটা বাড়ীটাই উচু পাচীলে ঘেরা। বাড়ির নাম ‘শান্তি-ধাম’। ও ভাড়ায় মরুভূমির ভেতরেও অমন বাড়ী কল্পনাতীত সস্তা। ঘর যা আছে আমাদের প্রয়োজনের পক্ষে তা পর্য্যাপ্ত, কেননা আমরা ক’টি মাত্র প্রাণী – আমি, আমার স্ত্রী, বছর চোদ্দ বয়সের একটি মেয়ে, আর সঙ্গের ঝি আর উড়ে বামুন। সদর দরজার সম্মুখে মালপত্র নামিয়ে ভেতরে ঢুকবার উদ্যোগ করছি, লক্ষ্য করলাম রাস্তা দিয়ে যে যাচ্ছে সেই যেন অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ আমাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তাদের এই অহেতুক কৌতুহলের কোন অর্থ বুঝতে পারি নি, কিন্তু এখন বুঝছি; এ বাড়ীতে লোকের বসবাস দেখতে তারা আদৌ অভ্যস্ত নয়, কেননা এ বাড়ীর রহস্য জানতে এ অঞ্চলে কারোরই বোধ করি বাকী নাই।
গুছিয়ে-গাছিয়ে বাড়ীটাকে বাসোপযোগী করে নিতেই সারা দুপুর কেটে গেল। বিকেলে এক কাপ চা খেয়ে সামনের বারান্দায় বসে সবেমাত্র খবরের কাগজখানা খোলবার উপক্রম করছি, দেখি ফটক খুলে এক প্রৌঢ় বয়সের মাদ্রাজী ভদ্রলোক এগিয়ে আসছেন। ‘গুডয়াফটারনুন’ বলে অভিবাদন করে তিনি বারান্দায় উঠে এলেন, ইংরাজীতে বললেন, “মাফ করবেন, আপনিই কি এ বাড়ীটা ভাড়া নিয়েছেন?”
“জবাব দিলাম ‘আজ্ঞে হাঁ”।
“একেবারে পাকাপাকি কথা হয়ে গেছে ? ভাড়া আগাম আদায় করে নিয়েছে নাকি ?”
“বল্লাম, ‘কথা পাকা-পাকিই হয়েছে বটে, কিন্তু ভাড়াটাড়া এখনও কিছু দেওয়া হয় নি। বাড়ীওয়ালা যে ঠিক আমাদের অপরিচিত এ কথা বলা যায় না।’
“কি বল্লেন, এ বাড়ীর মালিক রমেশ বাবু আপনার পরিচিত ? অথচ তিনি জেনেশুনে আপনার এ বাড়ী ভাড়া নেওয়ার অনুমোদন করেছেন ?’ ভদ্রলোকের মুখে বিস্ময়ের স্পষ্ট ছাপ এবার ফুটে উঠল।
বিস্মিত আমিও কম হই নি, বল্লাম, ‘আপনার ইঙ্গিতটা আমি ভাল মত বুঝতে পারলাম না, আর একটু স্পষ্ট করে বলবেন কি ?’
কিন্তু ভদ্রলোক বোধ করি আমাকে আর বেশী বিব্রত করে তোলা উচিত মনে করলেন না, কথাটাকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে বল্লেন, “আপনি বিদেশী লোক, নতুন জায়গায় এসে নানা রকম অসুবিধা বোধ করা বিচিত্র নয়। সে রকম কিছু ঘটলে আমাদের খবর দিতে সঙ্কোচ বোধ করবেন না। আমার নাম ভেঙ্কট চারি, পাশের বাড়ীটাই আমার।’
ভদ্রলোক চলে যাওয়ার পর মনের ভেতরটা কেমন খচখচ করতে লাগল; একটা অজানা ভয়ও যে মাঝে মাঝে উঁকি মারছিল না, এ কথাও জোর করে বলতে পারি না।। যাই হোক, সব ঝেরেঝুরে মনটাকে চাঙ্গা করে তোলবার উদ্দেশ্যে বিকেল বেলা সদলবলে বেরিয়ে পড়লাম নদীর ধারে – ভগবানের বিশেষ দয়া বলতে হবে, সেখানেই আপনার দেখা পেলাম। তার পর বাজার হয়ে কিছু তরি-তরকারি, কিছু টাটকা মাছ কিনে যখন বাড়ী ফিরলাম রাত তখন আটটা বেজে গেছে। বামুন ঠাকুর রান্নার যোগাড় আরম্ভ করল। ঠিক এই সময় এক পশলা বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় বেশ একটু হিমেল হাওয়া বইতে সুরু করে দিল। চারিদিক একেবারে নীরব, নিস্তব্ধ, ধারে পাশে জনমানবের সাড়া নেই; আমরা জানলার সার্সি বন্ধ করে আমাদের হল ঘরটায় এসে বসলাম। আমার স্ত্রী একখানা মাসিক পত্রিকা পড়ে আমাদের শোনাচ্ছিলেন। পাশের কামরায় ঝির নাকের ডাক উঠে গেল। ঘড়িতে দশটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হঠাৎ সকলেই যেন একটু চমকে উঠলাম, মনে হ’ল আমাদের মাথার ওপরকার ছাদে অবিশ্রাম খটাখট খটাখট কেমন একটা শব্দ হচ্ছে – ঠিক যেন ছাদ-পেটানোর আওয়াজ। একটু কান পেতে থাকতেই লক্ষ্য করলাম, শব্দটা ক্রমেই বেড়ে চলেছে; আর একটু বাদে অসম্ভব জোরে শব্দ হতে লাগল – দপ দপ ধুপ ধুপ – যেন ছাদময় কারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে। আমার স্ত্রী স্বভাবতঃই একটু ভীতু মানুষ, চেয়ে দেখি তাঁর সারা কপাল ঘেমে উঠেছে, কেননা ছাদে উঠবার যে কোন সিঁড়ি নেই বাড়ীতে ঢুকেই তা আমরা টের পেয়েছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্ত্তেই একটা ব্যাকুল আর্ত্তনাদ কানে এল, দেখি কিনা, বামুন ঠাকুর রান্নাঘর ছেড়ে পাঁই পাঁই করে উর্দ্ধশ্বাসে আমাদেরই দিকে ছুটে আসছে। বেচারার সারা দেহ বাঁশপাতার মত কাঁপছে, গায়ের প্রত্যেকটি রোঁইয়া খাড়া হয়ে উঠেছে, আর চোখ দুটো ঠিক যেন ঠিকরে আসার উপক্রম! একটু বাদে বাকস্ফূর্ত্তি হতে কোনক্রমে সে জানাল যে কড়ার উপর তেল চাপিয়ে সবে ভাজবার মাছগুলো সে ছেড়েছে অমনি সুমুখের জানলা থেকে দুধের মত সাদা দু’খানা হাত তার সামনে বেরিয়ে এল, ঠিক ভাজা মাছ চাইবার ভঙ্গীতে। সে আঁৎকে পিছিয়ে আসতে ঝপাৎ করে একরাশ ছাই এসে পড়ল মাছ ভাজবার কড়াটার ওপর আর সঙ্গে সঙ্গে কে খিল খিল করে হেসে উঠল – রক্ত হিম করা এক অদ্ভুত হাসি। আর এক তিলও দাঁড়াবার ভরসা সে পায় নি, দু’হাতে পৈতাগাছে জড়িয়ে ‘রাম রাম’ করতে করতে পালিয়ে এসেছে। এবার ভয়ে সকলেরই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, গিন্নির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। তাঁর বারবার নিষেধ সত্ত্বেও ব্যাপারটা নিজে্র চোখে প্রত্যক্ষ করবার জন্য একাই আমি রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে চল্লাম। উঠান পার হয়ে রান্নাঘরে যেতে হয়, পথে পরে মস্ত একটা নেবুগাছ। সবে তার তলায় এসেছি অমনি সেই গাছের আবডাল থেকে চওড়া লাল পাড় শাড়ী পরা, বোধ করি সাড়ে আট ফুটেরও বেশী ঢ্যাঙ্গা একটী স্ত্রীলোক ঘোমটা মাথায় ঢিপ করে আমার পায়ের কাছে একটা গড় করল। অতখানি ঢ্যাঙ্গা মেয়েছেলে তো দূরের কথা, পুরুষও আমি ভাবতে পারি না। আমার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গিয়েছিল। রান্নাঘরে যাওয়া মাথায় উঠল, দৌড়ে কোন মতে ঘরে ফিরে এলাম। তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করতে করতে দেখতে পেলাম, হো হো করে বিরাট এক অট্টহাসি হেসে স্ত্রীলোকটা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেল।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রান্নাঘরে দুমদাম হাঁড়িকলসী ফাটার শব্দ শোনা গেল; তার পরেই আক্রমণ সুরু হ’ল বাংলোখানার ওপরে – ঠিক বর্ষাকালের বৃষ্টির ফোঁটার মত ইট আর পাটকেল, ইট আর পাটকেল! সারা রাত ক’টি প্রাণী ঠায় ঘরের মেঝের ওপর বসে কাটালাম, একটি বারের তরেও কারুর চোখের পাতা মুদতে সাহস হ’ল না। তার পর সকাল হলে ছুটে গেলাম পাশের বাড়ী ভেঙ্কট চারির কাছে। সমস্ত খবর খুঁটিয়ে শোনবার পর তিনি গম্ভীর ভাবে বল্লেন, ‘হুঁ, যা আশঙ্কা করেছিলাম তাই ঘটেছে। কাল আপনাকে সমস্ত কথা খুলে বলা হয় নি, হয়তো আপনি খুবই বিচলিত হয়ে পড়বেন মনে করে, কিন্তু আজ আর বলতে বাধা নেই যে, যে বাড়ীটা আপনি নিয়েছেন এ অঞ্চলে সবারই ধারণা ওটা ভূতের বাড়ী। প্রায় দু’বছর হল এমনি-ধারা উপদ্রব আরম্ভ হয়েছে। এই দু’বছরে অন্তত বার চারেক বাড়ীটা ভাড়া হয়েছিল কিন্তু এক রাতের বেশী কোন ভাড়াটেই টিঁকতে পারে নি ওখানে। রমেশ বাবু বাড়ীর ভাড়া খুবই কমিয়ে দিয়েছেন, তবু প্রাণ হাতে করে কে যাবে বলুন! শেষ বারে বাড়ীটা যখন ভাড়া হয় সে আজ ছ’মাসের কথা – সে যাত্রাও এক রাতের বেশী ভাড়াটে টেঁকেনি। ভেবেছিলাম এ ছ’মাসে কিছু উন্নতি হয়তো বা হয়ে থাকবে, কিন্তু তা যে হয়নি সে তো প্রত্যক্ষই করা গেল। ওটা আমার পাশের বাড়ী হওয়াতে মাঝে মাঝে আমারও যে একটু ভাবনা হয় না তা নয়, তবে ভগবানের পরম দয়া আজ অবধি এখানে কোন উপদ্রব ঘটে নি। আপনি এক কাজ করুন, এ বেলার মত সবশুদ্ধ আমারই এখানে উঠে আসুন। বাড়ীতে আমার মা, ছেলেমেয়ে, স্ত্রী সকলেই আছেন, কাজেই মেয়েদের কোন অসুবিধা হবে না। আজকের দিনের মধ্যেই লোকজন লাগিয়ে অন্য একটা বাড়ী খুঁজে পাওয়া যায় কি না আমি দেখছি।
ভদ্রলোককে অশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে, ঝি-বামুন সমেত মেয়েদের তাঁরই ওখানে পাঠিয়ে আমি সোজা আপনার কাছে চলে আসছি। কাল রাত্তিরে নিজের চোখে যা দেখেছি তা কিছুতেই অবিশ্বাস করতে পারি না, অথচ বিংশ শতাব্দীর লোক হয়ে ভূতের অস্তিত্ব, বিশেষ করে ভূতের উপদ্রবের কথা বিশ্বাস করতেও মন সায় দিতে চাইছে না। যাকে বলে কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ় সত্যিই আমি তাই হয়ে আপনার কাছে এসেছি, আশা করি প্রতিবেশীর এ বিপদে তাকে সাহায্য করতে আপনি বিমুখ হবেন না।”
হুকা-কাশি হাতের দু’আঙ্গুলে অবশিষ্ট নস্যিটুকু একটানে নিঃশেষ করে বল্লেন, “আমায় দিয়ে যতটা উপকার সম্ভব তা অবশ্যই আপনি পাবেন। অভিজিৎ পাঞ্জাবীটা একবার গায়ে চড়িয়ে নাও তো, বাড়ীটা একটু ঘুরে আসা যাক। হ্যাঁ, আপনার নামটা কি সেটা কিন্তু জিজ্ঞাসা করা হয় নি।”
“আজ্ঞে আমার নাম শ্রীভবানীপ্রসন্ন গুপ্ত।”
সদর দরজার তালা খুলে সকলে বাড়ীর মধ্যে ঢুকে পড়লেন। বাড়ীর সবটাই কমপাউন্ড, ওয়ালে ঘেরা, ভেতরে জায়গা প্রায় চার পাঁচ বিঘে। পাঁচীল বরাবর ওঁরা হাঁটছিলেন, হঠাৎ হুকা-কাশি হাতের রুমালখানা টপ করে একবার মাটিতে ফেলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আবার তুলে নিলেন; ভবানী বাবু আর অভিজিৎ কথাবার্ত্তায় অন্যমনস্ক ছিলেন, কিছু টের পেলেন না। আরও খানিকক্ষণ চলবার পর দেয়ালের ধারে এসে হুকা-কাশি ফের থামলেন, অভিজিৎকে লক্ষ্য করে বল্লেন, “মাটির ওপর এ দাগগুলো লক্ষ্য করছ ? বেশ করে দেখে বল দিকিনি কিসের দাগ এগুলো ?”
আবস্তবিকই জায়গাটাতে – কেবল ওই জায়গাটাতেই – কোন অজ্ঞাত জীবের ছোট ছোট গোল গোল কতকগুলো পায়ের দাগ অভিজিতের নজরে এল। অনকক্ষণ ধরে বিশ্লেষণ করবার পর সে বল্লে, “ঠিক ধরতে পারছি না, তবে কোন জন্তুজানোয়ারের পায়ের দাগ নিশ্চয়ই।”
“তুমি তো ভাল শিকারী, অনেক জানোয়ারেরই পায়ের দাগের সঙ্গে তোমার পরিচয় আছে – বল তো এগুলি কোন জানোয়ারের পায়ের দাগ ?”
পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করে শেষ পর্য্যন্ত অভিজিৎকে স্বীকার করতেই হল যে সে কিছুই ঠাহর করতে পারছে না। হুকা-কাশি আবার বললেন, “দাগগুলো কেমন এলোমেলো সেটা লক্ষ্য করছ কি ?”
“হু”।
“আরও একটা লক্ষ্য করবার জিনিস – সব কটা দাগেরই এক দিক খুব জোর স্পষ্ট ভাবে উঠেছে, অন্য দিকটা দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত হাল্কা। কেমন নয় কি ?”
অভিজিৎ ঘাড় নাড়ল, “তা বটে।”
“আর ওই যে পর পর গোটাকতক নেবু গাছ রয়েছে, তাও কিন্তু উপেক্ষার বিষয় নয়। সব চাইতে আশ্চর্য্যের বিষয়, কাল রাত্রে বৃষ্টি হওয়াতে মাটি সর্ব্বত্রই নরম হয়ে আছে, অথচ দাগ পাচ্ছি শুধু এই জায়গাটাতেই।”
আরও খানিকটা এগিয়ে এসে আর এক অভিনব জিনিস সকলের চোখে পড়ল – একটা চাল মাপবার সের, চলতি কথায় আমরা যাকে ‘পালি’ বলি। “এটা আবার কোত্থেকে এল ? একেবারে আনকোরা নতুন দেখছি। আপনার সঙ্গের বুঝি ?” হুকা-কাশি বলে উঠলেন।
“না তো!” ভবানী বাবু বলে উঠলেন।
“ওহ, বোঝা গেছে তবে! আচ্ছা ভবানী বাবু, সাধারণতঃ আপনি কি মার্কা সিগারেট খেয়ে থাকেন ?”
ভবানী বাবু এইবার বিস্মিত হলেন, “সিগারেট ? সিগারেট তো আমি খাই না। আমি ছেড়ে আমার বামুন-চাকরদের পর্য্যন্ত ও জিনিসটি খাওয়া বারণ। গিন্নীর হাঁফানির মাদুলি আছে, তামাকের গন্ধ পর্য্যন্ত ওঁর নাকে যাওয়া নিষেধ। ওই জন্যই তো বামুন-চাকর জোটানো আমার পক্ষে এক মহা দায়! তামাক খায় না, বিড়ি টানবে না – এমন লোক ও শ্রেণীর মধ্যে হাজার করা বোধ করি আপনি একজনও পাবেন না।”
“নস্যিটা নিশ্চয়ই বাদ, ওতে বুদ্ধি খোলে” হুকা-কাশি হেসে বল্লেন, “যাক রহস্য থাক, বাড়ীতে ঢুকে ঘরোর বারান্দাগুলোর আপনি কি অবস্থা দেখেছিলেন, বলুন তো!”
“ধুলো আর ঝুলে গোটা বাড়ীটাই একাক্কার হয়ে ছিল।”
“রান্নাঘরটা ?”
“তারও ওই একই অবস্থা। পূরো এক দুপুর লেগেছে, বাড়ীটাকে শুধু বাসোপযোগী করে তুলতেই।”
“উনোনও তবে পাততে হয়েছিল নিজেদেরই!”
“নিশ্চয়ই।”
কথা বলতে বলতে সবাই সদর দরজার দিকেই ফিরে এসেছিলেন, হুকা-কাশি বললেন, “চলুন, এবার আপনার আস্তানায় গিয়ে বসা যাক। এ বেলার মত চারির ওখানেই তো আপনার থাকবার ব্যবস্থা ?”
অতিথি সৎকারের জন্য ভেঙ্কটচারি তখন নিজে দাঁড়িয়ে মালী দিয়ে তাঁর বাগান থেকে কপি, বেগুন, শালগম প্রভৃতি তোলাচ্ছিলেন, সেখানেই সকলের তলব পড়ল। শিষ্টাচারের পালা শেষ হলে, চারিকে হুকা-কাশি বললেন, “বাগানখানা করেছেন তো মন্দ নয়, সব রকম তরি-তরকারিই তো দেখতে পাচ্ছি।”
বাগান সম্বন্ধে ভেঙ্কট চারির সত্যিকারের গর্ব্ব ছিল, একটু সলজ্জ হাসি হেসে তিনি বল্লেন, “এই আমার একটা ‘হবি’ আছে। ছোট বাগান, তবে এরই মধ্যে যতটা হয় চেষ্টার ত্রুটি করি নি আসুন না দেখবেন সবটা।”
ঘুরে ঘুরে সকলে বাগান দেখতে লাগলেন, সেই সঙ্গে রমেশ বাবুর ভূতুরে বাড়ীটা সম্বন্ধেও আলোচনা চলতে লাগল। হুকা-কাশির আরও যে সব কথা জানবার ছিল, চারির কাছ থেকেই তা জেনে নিলেন। রমেশ বাবুর বাংলো থেকে ক্রমে গোটা সহরটার কথা উঠল। চারি বল্লেন, “সহরের আশ-পাশে দেখবার অনেক কিছুই আছে, চলুন এক দিন সঙ্গে করে আপনাদের সব দেখিয়ে আনা যাবে – য়্যাঁ, হ্যাঁ এটা আমারই গাড়ী।”
হুকা-কাশি বল্লেন, “আপনার আবার নৌকো চালাবারও হবি আছে নাকি ? কিন্তু এদেশের নদীতে কি বার মাস জল পান ?”
“নৌকো চালানো ? না না, সে সব ‘হবি’ আমার নেই। এগুলো আঁকশি, মালীদের ব্যবহারে লাগে। আরে কে ও সম্মুখম নাকি ? রামানুজমকে জিজ্ঞাসা কর তো, ওরা বাড়ী হোয়াইট-ওয়াশ করে দিতে রাজী হয়েছে কিনা! ভাল কথা, গল্পে-গল্পে আসল কথাই আপনাকে বলা হয় নি ভবানীবাবু! ছোটখাটো একখানা বাড়ী ভদ্র পল্লীর ভেতরই পাওয়া গেছে। আশা করি এবার আপনার ভেকেশনটা শান্তিতেই কাটবে!”
বেলা নাগাদ তিনটার সময় হুকা-কাশি অভিজিৎকে খামে মোড়া একখানা চিঠি দিয়ে বল্লেন, “আমি বেরুচ্ছি, ভবানী বাবুদের সঙ্গে নিয়ে নদীর ধারে বেড়াতে যাব। ঠিক পাঁচটার সময় তুমি গিয়ে ভেঙ্কট চারির হাতে এ চিঠিখানা দিয়ে আসবে; কেমন পারবে তো ?”
“তা আর না পারবার কথা কি! কিন্তু এ কিসের চিঠি ? কী লেখা আছে এতে ?”
“এ চিঠিতে ভেঙ্কট চারিকে লেখা হয়েছে, রমেশ বাবুর ও বাড়ীটাকে ভূতুরে বাড়ী বলে লোকসমাজে প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা আজ থেকে তিনি একদম ছেড়ে দেবেন; নইলে ভেতরকার সমস্ত রহস্যই প্রকাশ হয়ে পড়বে। তিনি এ সহরে বিশেষ সম্মানিত লোক, তার আর অপদস্থের সীমা থাকবে না।”
অভিজিৎ একেবারে আকাশ থেকে পড়ল, “বাড়ীটাকে ভূতের বাড়ী বলে প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করছেন ভেঙ্কট চারি ? বলেন কি! কিন্তু তাতে তাঁর লাভ ?”
“লাভ, মাটির দরে ও বাড়ীখানা কিনে নেওয়া। বসত বাড়ী, এবং ‘হবি’র বাগান, দুটোরই কলেবর কিছু বৃদ্ধি পাবে, আর ফালতু আরও একখানা বাড়ী লাভ হবে, যার দাম কমসে-কম বিশ হাজার টাকা। রমেশ বাবু থাকেন সুদূর কলকাতাতে; তিনি যখন দেখবেন ভাড়াটের পর ভাড়াটে মাত্র একটা রাত্রি বাসের পরেই ভূতের উপদ্রবে বাড়ী ছেড়ে পালাচ্ছে, ভাড়া যথেষ্ট কমিয়েও সিকি পয়সার আয় হচ্ছে না, তখন যে দাম পান তাতেই ওটা বেচে দিতে তিনি উৎসুক হয়ে পড়বেন – চার হাজার, তিন হাজার, যা আসে। প্রথমে হয় তো কোন ভাড়াটে অহেতুক কোন কারণে ভয় পেয়েছিল, সেই থেকেই চারি ভায়ার মাথায় ফন্দিটা খেলেছে ভাল।
“আসল ব্যাপারটা কি করে আঁচলাম বলি শোন। আজ সকালে রমেশ বাবুর বাড়ীর কমপাউন্ডটা যখন ঘুরে বেড়াচ্ছি তখন রান্নাঘর থেকে থেকে অনেক দূরে এসে আধ-পোড়া একটা সিগারেট পড়ে রয়েছে দেখতে পেলাম। কাল রাত্তিরে যোর এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে অথচ সিগারেটের ওপর তার চিহ্নমাত্র নাই। বোঝা গেল, বৃষ্টি থামবার পর এইখানটাতে কেউ সিগারেট ফুঁকেছে। এদিকে ভবানী বাবু বলে রেখেছেন বৃষ্টি ধরার পর তাঁরা কেউই ঘরের বার হন নি; কাজেই বুঝতে হবে এ সিগারেট বাইরের কোন লোকের খাওয়া। রুমালে করে তুলে তক্ষুণি সেটা পকেটে পূরে ফেললাম।
তার পর আরও এগিয়ে পাঁচীলের কাছাকাছি আসতেই সেই রহস্যময় দাগগুলো দেখতে পাওয়া গেল। কোন অজানা জানোয়ারের পায়ের দাগ ও হতেই পারে না, কেননা প্রত্যেক জীবেরই একটা পা থেকে অন্য আর এক পায়ের ভেতর প্রকৃতিদত্ত একটা স্বাভাবিক ব্যবধান আছে যা মোটামুটি চলবার পথের দাগেও প্রতিফলিত হয়। কিন্তু ও দাগগুলো একেবারেই অসম্বদ্ধ, এলোমেলো – কোনটা হয়তো মাত্র দু’আঙ্গুল দূরে, আবার কোনটা পাঁচ হাত তফাতে। তা ছাড়া জানোয়ারের পায়ের দাগ হলে মাত্র অল্প একটু জায়গাতেই তা আবদ্ধ থাকবার কারণ কি ? আরও একটা লক্ষ্য করবার বিষয় হল এই যে পাঁচীলের কাছাকাছি এ দাগগুলো পাচ্ছি, আর সবগুলো দাগেতেই পাঁচীলের বিপরীত দিকটা খুব গভীর হয়ে বসেছে – অথচ পাঁচীলের দিকটা অপেক্ষাকৃত হাল্কা। অর্থাৎ লগীর সাহায্যে পোলভল্ট করে দেওয়াল টপকালে যে রকম হওয়া উচিত ঠিক সেই রকম। অবশ্য লগীর দাগ বলে কারো মনে যাতে কোন রকম সন্দেহ না হয় সেই উদ্দেশ্যে ওগুলোর গোড়ায় এক একটা করে বিশেস আকারের লোহার টুপি পরিয়ে নেওয়া হয়েছিল নিশ্চয়ই। জায়গাটা আড়াল করে নেবু গাছের ঝাড় থাকায় সন্দেহ আরও দৃঢ় হল; বাস্তবিক, অলক্ষ্যে অনেক লোকের দেওয়াল টপকাবার এমন চমৎকার জায়গা আর কোথাও নেই। বুঝলাম ভূত নয়, কয়েকজন মানুষের দ্বারাই রাত্তিরের উপদ্রবটি ঘটেছে। কিন্তু কেন ? ভবানীবাবু যখন বল্লেন তিনি আসার আগে সমস্ত বাড়ীটা ধূলোয় আর ঝুলে ভর্তি হয়ে ছিল তখন কোন চোর-ডাকাতের পাকা আড্ডা বলেও সেটাকে মেনে নিতে পারলাম না।
“যেখান থেকে লোকগুলো দ্রোয়াল টপকে বেরিয়ে গিয়েছিল – অর্থাৎ পাঁচীলের ওধারটাও একবার পরীক্ষা করা দরকার বোধ হল। সেটা চারির কমপাউন্ডের মধ্যে। বাগান দেখবার অছিলায় বরাবর পাঁচীলের আশপাশে নজর রেখে এগুতে লাগলাম, রমেশ বাবুর বাড়ীর নেবু ঝাড়ের বরাবর আসতেই ওধারের মত পাঁচীলের এ ধারেও অবিকল সেই রকম লগীর দাগ দেখতে পেলাম – একটুও প্রভেদ নেই। নিঃসংশয়ে প্রমাণ হয়ে গেল। এ পথেই প্রভুদের যাওয়া এবং আসা দুটি কাজই ঘটেছে।
“এইবার একটা প্রশ্ন স্বভাবতঃই মনে জেগে উঠল; চারি বিশেষ ধনী লোক, দাসদাসী মালী-বেহারায় তার বাড়ী ভরতি। রাত দশটায় তাদের সম্পূর্ণ অজানাতে কতগুলো বাইরের লোকের পক্ষে তারই বাগানের ভেতর দিয়ে পাঁচীল টপকে ওভাবে যাতায়াত করা কি সম্ভব ? মনে ঘোরতর সন্দেহ হ’ল। তার পর তার গ্যারেজের পেছনে লম্বা লম্বা অনেকগুলি বাঁশের লগী পড়ে থাকতে দেখে সমস্ত সমস্যারই সমাধান হয়ে গেল, কেননা চারি ওগুলোকে আঁকশি বলে চালাবার চেষ্টা করলেও ওগুলোর প্রত্যেকটারই গোড়াতে লোহার টুপি আঁটবার ব্যবস্থা আমি দেখতে পেলাম। আর ঠিক সেই সময়টাতেই আঁকশির কথা জোর করে চাপা দিয়ে ওর বাড়ীর কথা তোলার চেষ্টা তুমিও বোধ হয় লক্ষ্য করে থাকবে।”
অভিজিৎ একেবারে অভিভূত হয়ে পড়েছিল, একটু খানি চুপ করে থেকে সে বল্লে, “আর ওই চাল মাপবার পালিটা ? ওটি ওখানে এল কোথা থেকে ?”
হুকা-কাশি একটু হেসে তাঁর দুটো হাত মাথার দু’পাশ দিয়ে সোজা ওপর পানে তুলে দিলেন, বল্লেন, “এইবার আমার দু’হাতের ডগায় ওটা চাপিয়ে দাও তো! কেমন, ঠিক মানুষের মাথার মত মনে হচ্ছে কিনা ? এখন যদি আমার পায়ে লালপাড় শাড়ী জড়িয়ে এই পালির ওপর ঘোমটা পরিয়ে দেওয়া হয় আর সেই অবস্থায় আমি তোমার পায়ের গোঁড়ায় একটা ঢিপ করে প্রণাম ঠুকি তবে এই কার্ত্তিক মাসেও তুমি ঘেমে উঠবে। অথচ আমি যে খুব ঢ্যাঙ্গা এ কথা বোধ হয় আমার অন্তরঙ্গ বন্ধুও প্রাণ খুলে বলতে পারবেন না।”
সে রাত্রিটা হুকা-কাশি আর অভিজিৎ ভবানী বাবুদের সঙ্গে তাঁদের বাংলোতেই কাটিয়েছিলেন, আর সন্ধ্যার পরেই গোটা দুই ফাঁকা আওয়াজ করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁদের আরও এক সঙ্গী আছে – বন্দুক। এর পর থেকে আর কোন দিন ‘শান্তি-ধামে’ ভূতের উপদ্রবের কথা শোনা যায় নি।

সমাপ্ত

 

অধ্যাপক মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য, এম.-এ, বি.-এল

 

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য (১৯০৪ - ১৯৩৯) ছিলেন অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মাত্র ২৪ বছর বয়সে 'রামধনু' পত্রিকায় 'পদ্মরাগ' গল্পে জাপানী ডিটেকটিভ হুকাকাশি'র সঙ্গে উনি পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেন। পড়ে মুগ্ধ হয়েছিল নবীন পাঠকরা - বড়রাও। হুকাকাশি সেকালে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন বোঝা যায় , যখন হাসির রাজা শিবরাম চক্রবর্তী ডিটেক্টিভ কল্কেকাশিকে নিয়ে গল্প লেখেন। মনোরঞ্জন রামধনু পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।