রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক

 

 

 

 

 

 

 


 

প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী

------১------

বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুদিন। আর বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক আর্যশেখর রায়চৌধুরীর আবার সেদিন ই জন্মদিন । শুধু তাই নয়, সেই ভরা শ্রাবণের দিনে সমস্ত কলকাতা যখন রবীন্দ্রনাথকে বিদায় জানাচ্ছিল, তখনই দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এক অখ্যাত গ্রামে তাঁর জন্ম। এমন দিন বলে তাঁর মা বাবা আর ইংরাজি জন্মদিন না করে বাংলা তারিখটিকেই ছোটবেলা থেকে পালন করে এসেছেন। তিনি নিজে অবশ্য এসব পালনের একদমই পরিপন্থী, স্ত্রী অতসী যতদিন ছিলেন তিনি অবশ্য তাঁর শাশুড়ী মার কাছ থেকে শেখা এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। তখন আবার ঘটা করে বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধবদের ও ডাকা হত। অতসীর মৃত্যুর পর বন্ধই হয়ে গিয়েছিল একরকম। বছর তিনেক আগে আবার তাঁর গুটিকয় তরুণ অনুরাগী ও অনুরাগিণী ভক্তের কল্যাণে আবার শুরু হয়েছে ব্যাপারটা। তারাই এসে হৈ চৈ করে, খাবার দাবার আনিয়ে, গান টান করে বেশ মাতিয়ে রাখে। আর্যশেখর ও ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করতে শুরু করেছেন। সাধারনতঃ পরের রবিবারেই সকাল ও দুপুর মিলিয়ে বেশ একটা চিত্তাকর্ষক ব্যাপার হয়।
মোটামুটি পাঁচজনের একটি দল - সরিৎ, হেমন্ত, দেবলীনা, কিংশুক ও সরমা। আর্যশেখরের ভাইপো রজতাভ ও এসে হাজির হয়ে যায়। আরেকজন ও বিশেষ ভক্ত আছে - সি আই ডি ইন্সপেক্টর মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃগাঙ্ক ছিল ইংরেজি সাহিত্যের একনিষ্ঠ ছাত্র, পুলিশের কাজে জড়িয়েও তার সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা যায়নি, বরং বেড়েছে। ঠাট্টা করে বলে - ‘পরস্ত্রী সবসময়ে নিজের বঊএর চেয়ে বেশী সুন্দরী। মৃগাঙ্কর আরো একটি অসাধারণ গুণ - মুখে মুখে তার কাজের গল্প বলতে পারা। জন্মদিনের খাওয়া দাওয়ার পর গড়াতে গড়াতে মৃগাঙ্কর কেস হিস্ট্রি শোনার আকর্ষণ ও কিছু কম নয়। অবশ্য এবারে অন্য আরো একটি বিশেষ ব্যাপার ও আছে।
আর্যশেখর তাঁর প্রকাশককে ও ডেকেছেন। আজ তাঁর হাতে তুলে দেবেন একটি পাণ্ডুলিপি যেটা তাঁর মতে হবে তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা। আত্মজীবনী লেখার সৎসাহস তাঁর নেই, এটা ভালো করেই জানেন তিনি। কজনেরই বা আছে এদেশে! বিদেশের সাহিত্যিক রা অকপটে তাঁদের জীবনের ভুল ভ্রান্তি তুলে ধরতে পারেন, এদেশে সে চল নেই। এছাড়া অন্য অনেক মানুষের জীবনও জড়িয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের সঙ্গে। সবকথা প্রকাশ করলে নানা বিতর্কের সম্মুখীন হতে হবে। আর্যশেখরের পদ্ধতিটা একটু অন্য – নিজের জীবনের ওপর ভিত্তি করে উপন্যাস। তিনি অবশ্য আদপেই স্বীকার করবেন না, কিন্তু বাজারে এরকম একটি হালকা গুজব চালু করে খুব শক্ত নয়। যাদের বোঝার ঠিক বুঝবে কিন্তু বিতর্ক এড়ানো যাবে।
পাচক হরিহর তাঁর বহুদিনের সঙ্গী, বলা চলে তাঁর একমাত্র সহচর। বাড়ির সবকিছু সেই দেখা শোনা করে। এক কথায় বলতে গেলে সে এই বাড়ির –হর্তা, কর্তা, বিধাতা। একটু আগে সে মনে করিয়ে দিচ্ছিল –
- আপনার লোকজন কখন আসবে? একটু জলখাবারের বন্দোবস্ত করতে হবে তো
- আরে ব্যস্ত হচ্ছ কেন! সপ্তর্ষি তে তো বলে রাখা আছে-
- তা তো বলে রেখেছি, কিন্তু সব ছেলে ছোকরাদের টাইমের ব্যাপার – ঠিক মত না বললে গরম খাবার পাওয়া যাবেনা ।
- চিন্তা কর না, সরিৎ আর সরমা তো প্রথমেই আসে – ঠিক ব্যবস্থা করবে। ওরা এলেই -

কথার মাঝখানেই কলিং বেল বেজে উঠল। আর্য বলে উঠলেন-
- ঐ এল বোধহয়!
হরিহর দরজা খুলতেই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল তারা দুজন। এই সময়টুকুর জন্য কি যে প্রতীক্ষা করে থাকা!বুকের মধ্যে কিরকম যেন একটা আলোড়ন হয় এত বয়সেও। এসেই দুদ্দাড় করে যোগাড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেল। বসার ঘরে ঠিকঠাক কেক কাটার বন্দোবস্ত, সকলে বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য ঢালা বিছানার সুব্যবস্থা, একটু গান আর আবৃত্তির জন্য মিউজিক সিস্টেমের ব্যবস্থা – সব পাক্কা!
নটা নাগাদ এসে গেল বাকি কজন, মৃগাঙ্ক আসতে আসতে প্রায় সাড়ে নটা। প্রকাশক ভদ্রলোক আসার পরই শুরু হয়ে গেল কেক আর চা পর্ব।
এসব শেষ হওয়ার পর একটু গলা ঝাড়া দিলেন আর্যশেখর।
- তোমাদের সকলকে একটা ছোট্ট খবর দেওয়ার আছে। অমিতাভবাবু অর্থাৎ নালন্দা প্রকাশনীর অমিতাভ দত্তকে দেখে তোমাদের একটু অবাক হতে দেখেছি। আসলে এবারে আজকের দিনে ওনাকে ডাকার একটা কারণ আছে – সেটা ওনার হাতে আমার একটা বিশেষ লেখা তুলে দেওয়ার জন্য। সাধারণতঃ তোমরা তো জান আমার সব লেখাই বই হিসেবে প্রকাশ পাওয়ার আগে কোন না কোন পত্রিকাতে ধারাবাহিক বা এমনি প্রকাশ হয়ে থাকে। এইবারের লেখাটি কিন্তু তা নয়।
অমিতাভ বাবু এবার যোগ করলেন -
- আসলে স্যারকে অনেকদিন ধরে বলছিলাম, একটা এক্সক্লুসিভ কিছু লেখা দেওয়ার জন্য, এতদিনে উনি সাড়া দিলেন। এই উপন্যাসে ওনার নিজের জীবনের অনেকটা ছায়া আছে-
আর্য বাধা দিলেন-
- আরে তা নয়, উপন্যাসের চরিত্রে অনেক সময় জীবনের আদল থাকতেই পারে, তা বলে এটা কখনোই আমার আত্মজীবনী নয়।
কিংশুক বলে উঠল -
- স্যার, আমাদের একবার দেখাবেন না – আমি স্বচক্ষে কোনদিন বিখ্যাত লেখকের পাণ্ডুলিপি দেখিনি!
আর্যর মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল -
- ঠিক আছে, তোমাদের যদি খুব ইচ্ছে করে – কিন্তু বেশীক্ষণ নয়। উলটে পালটে দেখে এক্ষুণি ফেরত দিতে হবে।
সবাই হৈ হৈ করে উঠল। সকলের প্রায় প্রতিনিধিত্ব করে সরমা বলে উঠল,
- নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, একবার হাত দিয়ে একটু টাচ করে দেখতে চাই পাণ্ডুলিপি, এই রকম একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকা –
আর্য এবার হরিহরকে ডাকলেন -
- যাও তো ওপরের ঘর থেকে নিয়ে এস তো আমার ব্রিফকেস টা!!
সিঁড়ি দিয়ে নেমে এল হরিহর। হাতে ব্রিফকেস। সেটা খুললেন আর্য, ওপরের ডালাটা খুলতেই শরীর কেঁপে উঠল -
- একি!!
ছুটে এসে তাঁকে ধরলেন মৃগাঙ্ক, চেয়ারে বসিয়ে ব্রিফকেস টার দিকে তাকিয়ে দেখলেন – পান্ডুলিপি নয়, তাঁদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে একটি দশ বারো বছরের পুরনো শারদীয়া পত্রিকা।

------২------


- এখন শরীরটা একটু ভালো লাগছে কি!
- মৃগাঙ্ক, ব্যাপারটা কি হল বলতো! আমি তো পুরো পাজলড, মাথা ঘুরছে।
- শেখরবাবু, একটু শান্ত হয়ে আমাকে পুরো ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলবেন?
- মৃগাঙ্ক, একটা অনুরোধ রাখবে, ঘটনাটা তদন্ত করে বার করতে হবে তোমাকেই। কিন্তু পুরোপুরি প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন। পুলিশকে জানানো চলবে না, নো প্রেস, এবসল্যুটলি নো পাবলিসিটি। - আর্য এবার প্রায় মৃগাঙ্কর হাতটা জড়িয়ে ধরলেন,
- জানই তো, আমি হুজ্জতি একেবারে সহ্য করতে পারিনা। তার ওপর এখনকার মিডিয়া – শুধু তাই নয়, অমিতাভ বাবুকে আমি বলে দিয়েছি। আমি চাই তুমি অন্যদের সকলকেও এই ব্যাপারে বলে দাও। কেউ যেন কিছু জানতে না পারে!

ঘটনার পর প্রায় ঘণ্টা দুই কেটে গেছে, সমবেদনা জানিয়ে সকলেই চলে গেছে। অবশ্য বলা যায় আর্য তাদের যেতে বাধ্য করেছেন একরকম। শরীর খারাপের অজুহাতে এবং বিশ্রামের অছিলায়। শুধু মৃগাঙ্ক আর রজতাভ ছাড়া। ডাক্তার এসে তাঁকে দেখে গেছে, বলেছে একদম রেস্ট নিতে – যেন শুয়ে থাকলেই রেস্ট হয়!

- আপনি লেখাটার কোন কপি করেন নি, মানে জেরক্স! বা, স্ক্যান করে কম্প্যুটারে সেভ করে রাখা -
- ওরে বাবা! কি দরকার, কোনদিনই তো করিনি। পরশুই লেখাটা শেষ করলাম, তারপর আর সময় কোথায় পেলাম! অমিতাভ বাবু খুব তাড়া দিচ্ছিলেন। তাছাড়া অতো বড়ো লেখা - জেরক্স বা কপি করাও সমস্যা। কিন্তু একটা কথা বল - কার কি স্বার্থ থাকতে পারে। আমার তো কিছুই মাথায় আসছে না!!
- আচ্ছা, আপনার সঙ্গে ইদানীং কোন প্রকাশকের ঝগড়া হয়নি তো! ধরুন সবসময় আপনার ভালো লেখা নালন্দা ই কেন পাবে! এছাড়া বাড়ীর লোকেদের মধ্যে -
- নো চান্স। হরিহর অত্যন্ত বিশ্বাসী, অন্য লোকেদের ওপর ও সে ই নজর রাখে। মৃগাঙ্ক, তোমাকে কিন্তু একটা কথা দিতে হবে-
- বলুন, -
- একটু আগে যেটা বললাম, নো প্রেস, এবসল্যুটলি নো পাবলিসিটি। প্রমিস-
- কিন্তু, বলছিলাম যে, এত দামী জিনিষটা, ভালো করে তদন্ত না করলে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
- আরে লেখাটাই গেছে - আমি তো আছি। দরকার হলে আমি আবার লিখবো, কিন্তু যা বলেছি - প্রমিস-
- ওক্কে ওক্কে, প্রমিস।

------৩------

সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর মৃগাঙ্ক ব্যাপারটা ভাবছিল। আপসোস হচ্ছিল, খানিকটা বেশ রাগ ও হচ্ছিল আর্যশেখরের ওপর। একে তো জেরক্স বা স্ক্যান করেননি, তার ওপর আবার তদন্তে এত কড়াকড়ি! সে নিজের মনেই হেসে ফেলল - মানুষটাই এই রকম। আজকের এই রকম হুজুগের যুগে ভাবা যায় কোন মানুষ এত অল্পে সন্তুষ্ট থাকতে পারে? লোকে মিডিয়ার আলো চায় সবসময় নিজের ওপর, আর এ মিডিয়াকে এড়িয়ে থাকতে চায়। স্ত্রী মাধবীলতা এসে জিজ্ঞেস করল -
- কি কিছু বার করতে পারলে?
- সন্দেহের তালিকা থেকে হরিহর, অমিতাভ বাবু আর আমাকে বাদ দিলে থাকে আর ছজন - রজতাভ ও বাকী পাঁচজন কলেজ পড়ুয়া। চুরির সুযোগ এদেরই ছিল। শুক্রবার ই ছিল বাইশে শ্রাবণ, আমি ফোনেই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। কিন্তু এরা ছজনেই কোন না কোন সময় ওনার বাড়ি গিয়েছিল প্রণাম করতে। সকালে সরিৎ, বিকেল সাড়ে চারটের সময় সরমা ও কিংশুক - সন্ধ্যাবেলা হেমন্ত, দেবলীনা ও রজত। সম্ভবতঃ ব্যাপারটা ঘটেছিল শুক্রবারেই।
- সে কি! তুমি যে বললে এই আত্মজীবনীর ব্যাপারটা কেউ জানতো না।
- আর্য তা ভাবলেও সেটা আদপেই ঠিক নয়। রজতাভর স্মরণশক্তি খুব ভালো, উনি রজতাভর কাছে ছোটবেলার কিছু ঘটনার কথা ঝালিয়ে নিতে চান, তখন রজতের মনে সন্দেহ হয়। এরপর কথায় কথায় উনি বলে ফেলেন ঐ উপন্যাসটির কথা।
- তার মানে একমাত্র রজতাভই জানত -
- ধীরে বন্ধু ধীরে! এসব কথা চাপা থাকা একটু শক্ত। রজতাভর সঙ্গে কথা বলে আমি যেটুকু জেনেছি যে সে আবার একদিন কিংশুক আর হেমন্তর সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে গুপ্ত কথাটি ফাঁস করে দেয়। অবশ্য আর্য সেভাবে তাকে গোপন রাখতে বলেন ও নি। কাজেই এই কম্যুনিকেশন বিপ্লবের যুগে যা হওয়া সম্ভব - সেই বার্তা রটি গেল ক্রমে।
- বাবা! এছাড়া আর কিছু বার করতে পারলে?
- ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য কিছু জিনিষ পাঠিয়েছি। বাড়ির চারদিক টাও ভালো করে ঘুরে দেখলাম, ক্ল্যু বিশেষ কিছু পাইনি। শুক্রবার সকলেই ওঁর ওপরের ঘরে গিয়ে প্রণাম করেছে - ব্রিফকেসটা টেবিলের ওপরেই ছিল। একমাত্র সরিৎ কে বোধহয় বাদ দেওয়া যেতে পারে। সে এসেছিল সকালে আর শেষবার পান্ডুলিপি দেখেন আর্যশেখর দুপুর বেলা খাওয়া দাওয়ার পর। শনিবার তাঁর দুটো বড়ো মীটিং ছিল, অমিতাভ বাবুর অফিসে আর কলেজ স্ট্রীটে অন্য আর এক প্রকাশকের সঙ্গে।- তারপর রবিবার ই তো এই কাণ্ড!!
- একটা কাজ করে দেখতে পার। যদি ধরা যায় এদের কেউ করেছে, তাহলে এদের একটু নাড়াচাড়া করে দেখতে পারো। এরা কেউ পাকা অপরাধী নয়, ঝোঁকের মাথায় একটা কাজ করে ফেলেছে, এদের প্রাইভেটলি একটু জেরা করলেই ভেঙ্গে পড়বে।
- কিন্তু মুশকিল টা কি জান, সকলেই ভালো ফ্যামিলির ছেলে-মেয়ে, ভীষণ সেনসিটিভ। কাজেই খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমি ভাবছি, ওদের একবার আমাদের বাড়ীতে আড্ডার অছিলায় ডেকে একটা মাইল্ড থ্রেট করব। যত ছোটই হোক না কেন - দিস ইস ক্রিমিন্যাল অফেন্স।
- নট এ ব্যাড আইডিয়া। আমি না থাকলেই ভালো, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমাদের সর্ব শিক্ষা সমিতির একটা মিটিং আছে, আমি তোমাদের জন্য একটু চা টা দিয়ে কেটে যাব।
- ওকে! দেন ইটস ফাইনাল! হৃষিকেশ ও ততদিনে ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যাপারে কিছুটা এগোতে পারবে।


------৪------

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলা সবচেয়ে আগে এল কিংশুক ও হেমন্ত। তারপর একে একে সকলে এসে পড়ল। সবচেয়ে শেষে এল রজতাভ। অফিসের পর যানজট এড়িয়ে আসতে তার একটু দেরী হয়ে গেছে। মাধবী সকলের চা জলখাবারের ব্যবস্থা করে বেরিয়ে পড়ল।
মৃগাঙ্ক শুরু করল, -
- তোমরা সকলেই আন্দাজ করেছ কেন আজকে আমরা মিট করছি। আমাদের প্রিয় লেখক আর্যশেখরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখার পান্ডুলিপি নিখোঁজ। আমার ধারণা, এই ঘরে যারা উপস্থিত তাদের মধ্যে কেউ বা কারা এই কাজটি করেছে। আমি চাই অপরাধী আমাকে নিজেই জানিয়ে দেবে।
সকলেই চুপ, হেমন্ত বলে উঠল -
- আপনি এতটা সিওর হচ্ছেন কিভাবে? উনি হয়তো অন্য কোথাও রেখেছেন বা বা অন্য কারুকে দিয়েছেন। এটুকু ভুল তো মানুষ মাত্রেরই হতে পারে।
- অসম্ভব! আমরা সমস্ত চেক করেছি। দ্যাখ, আমরা তদন্ত শুরু করেছি, ধরা অপরাধী পড়বেই। অবশ্য আমি এটাও জানি যে এই কাণ্ডটি ঘটিয়েছে সে এই কাজের জন্য সে নিজেই খুব অনুতপ্ত। তোমরা সকলেই খুব ইয়াং, আমি চাইনা তোমাদের কারুর জীবনে শুরুতেই কোন রকম একটা বিশ্রী দাগ পড়ুক। আগামী দুদিন সময় দিচ্ছি, পান্ডুলিপি সে আমাকে নিজে দিয়ে যাবে।
এবারে সরমা মুখ খুলল -
- কি বলছেন! আমার এখন ও বিশ্বাস ই হচ্ছেনা যে আমাদের মধ্যেই কেউ -
- ইয়েস, ইটস ট্র্যু! দ্যাখ, যেই করেছে ঝোঁকের মাথায়, কাজেই ব্যাপারটা হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কিছু করতে হবে। যদি নিজে এসে দিতে ইচ্ছে না করে, সে কিন্তু ক্যুরিয়ার করে ও পাঠাতে পারে। আমি কথা দিচ্ছি, কোনরকম ইনভেস্টিগেশন হবে না, কাকপক্ষীতে কিছু টের পাবে না।
ঘরে এক অদ্ভুত নৈশব্দ- শুধু হাল্কা করে এসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে - গলা ঝাড়া দিল মৃগাঙ্ক।
- তোমাদের সকলের সামনে কাগজ রাখা আছে, এতে তোমাদের বাড়ীর ঠিকানা আর ফোন নম্বর লিখে দাও!

সকলে চলে গেলে সে তার ল্যাপটপ টি নিয়ে বসে গেল “সত্যান্বেষণে”! আর্যশেখর রায়চৌধুরী সম্পর্কে বেশ অনেক খোঁজাখুঁজি করে কিছু তথ্য যোগাড় করে ফেলতে পারল। আর্যর স্কুল কলেজ আর লেখক জীবনের মোটামুটি একটি ইতিহাস নথিবদ্ধ করা গেছে। দেখা যাক, কোন আলোর কিরণ দেখা যায় কিনা। প্রথম প্রথম আর্যর ওপর রাগ হলেও এখন ব্যাপারটা বেশ থ্রিলিং লাগছে। এই প্রথম মৃগাঙ্ক সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করছে। হঠাৎ একটা কথা মনে এল - এরকুল পোয়ারো ভাবার চেষ্টা করতেন তিনি যদি এই অপরাধী হতেন তাহলে তিনি কেন আর কি ভাবে এই কাণ্ডটি ঘটাতেন। একটা ক্ষীণ হাসি এল মুখে-

পরদিন অফিসে বসে নথীগুলো দেখতে দেখতে এলোমেলো অনেক কথা মনে আসছিল। মোবাইলটা হঠাৎ পরিচিত সুরে গান গাইতে আরম্ভ করল:
- বলুন, কি লাগবে?
- উঃ, কিছু লাগবে না। এই শোন না, কিছুদিন আগে না নববঙ্গ বলে একটা প্রোগ্রামে তোমার লেখক বাবুর বহু পুরনো একটা সাক্ষাৎকার রিপিট টেলিকাস্ট করছিল, বেশ কিছু পুরনো কথাও – মানে ওনার স্কুল জীবন -
- বুঝেছি, বুঝেছি- কোন চ্যানেল!
- তোমার ফেভারিট সুচেতনার চ্যানেল – “বাংলার মুখ”!!
- তাই !! সো নাইস অফ ইস্যু!
- বাব্বা, হোল কি, ভূতের মুখে রামনাম!!
- আচ্ছা, এখন ছাড়ছি।
ফোন ছেড়েই আর একটা ফোন করল।
- সুচেতনা ব্যানার্জী আছেন কি!


------৫------

সাবার্বান ট্রেনে চড়ার অভ্যাস একেবারেই নেই। কিন্তু ক্যানিং পেরিয়ে যে গ্রামে আর্যশেখরের আদিবাড়ী সেখানে যেতে গেলে ট্রেনই সুবিধে। উলটো দিকে বলে ট্রেন ফাঁকা ও রয়েছে। ট্রেনে বসে জানলার বাইরে মেঘলা আকাশ দেখতে দেখতে অনেক কিছু চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সুচেতনাকে ফোন করে সাহায্য করতে বলেছিল। ইন্টরভিউ এর টেপটা দেখা সম্ভব হয়েছে।
ঐ সাক্ষাৎকারটিতে তিনি তাঁর সাহিত্য জীবনের একেবারে গোড়ার দিকের কিছু কথা বলেছিলেন। কৈশোরে তাঁর গ্রামের এক মাস্টারমশাই তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা করেন। বলতে গেলে তখনই এই সাহিত্য প্রেমের বীজটি উপ্ত হয়। গ্রামের নামটি জানার পর মৃগাঙ্কর কিছু আর অসুবিধে হয়নি। হালকা পুলিশী তদন্তে স্কুলের ঠিকানা আর মাষ্টার মশাইয়ের বাড়ীর ঠিকানা ও পাওয়া গেছে। মৃগাঙ্কর সাহিত্য আর সাহিত্যিক প্রীতি মোটামুটি সুবিদিত। কাজেই আশা করা যেতে পারে কেউ কোনরকম সন্দেহ করবে না। এখন দেখা যাক, মাষ্টার মশাই কোনরকম সাহায্য করতে পারেন কিনা। কথায় বলে – যেখানে পাইবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই । ষ্টেশনে নেমে, বাস বদল করে আর তারপর রিক্সা করে স্কুলের কাছে পৌঁছতে প্রায় সাড়ে দশটা। একটু খোঁজাখুঁজি করতেই পাওয়া গেল রথীন্দ্রনাথ রায়চৌধুরীর বাড়ী।
লাস্ট ডিসেম্বরে একটা স্ট্রোক হওয়ার পর বাড়ীতে বন্দী থাকতে হচ্ছে ভদ্রলোককে। মৃগাঙ্কর পুলিশী পরিচয় গোপন আছে, তিনি আর্যশেখরের একজন ভক্ত। কাছাকাছি অফিসের কাজে এসেছিলেন, টিভি ইন্টারভিউ তে রথীনবাবুর কথা জানতে পেরে দেখা করতে এসেছেন। আলাপ করে খুব খুশী হলেন ভদ্রলোক-

- আর্য আমাকে এখন ও মনে রেখেছে! বুঝলেন ঐ ইন্টারভিউ টা আমিও দেখেছি। আসলে গত বেশ কমাস ধরে ছেলে পড়ানো, আড্ডা, তাস সবই বন্ধ। - টিভি টাই একমাত্র সঙ্গী। বুঝলে না ভাই, তখনকার দিনে ছেলেদের ধরনধারণ ই অন্য রকম ছিল।
- উনি তো বলেন ওঁর সাহিত্য জীবনের গোড়াপত্তন আপনার অনুপ্রেরণাতে সম্ভব হয়েছিল।
- আরে না না, প্রতিভা ওর ছিল ই। সেটাকে ই একটু উসকে দেওয়া আর কি! জানেন, ওরা দুই বন্ধু ছিল, দুজনেই ভাল লিখত। আমার ও বয়সটা অন্যান্য শিক্ষকদের তুলনায় কম ছিল। প্রায় আমাদের তিনজনের প্রচেষ্টাতেই একটা দেওয়াল পত্রিকা ও বার করেছিলাম আমরা। মুশকিল হল, সেই ছেলেটির নাম ও আমি ভুলে গেছি। স্কুলে তো আমরা ওদের দুজনকে আর্য আর অনার্য বলে ডাকতাম। ওদের সংস্পর্শে এসে আমার ও কিছু নতুন সাহিত্য ভাবনা আসতে শুরু করল।
- সে তো বটেই, ভালো ছাত্রদের পড়ানোর একটা আলাদা আনন্দ আছে।
- আরো কি বলুন তো, এখানে ভালো ছাত্রও তো কম, তার ওপর একসঙ্গে দুজন-। মজার কথা কি জানেন, সেদিন হঠাৎ আমার নাতি একটা বহু পুরনো স্কুল ম্যাগাজিন বার করল অপরের ঘর থেকে। পুরনো সব লেখা, দেখি আর্যর ও লেখা আছে তাতে। টেবিলের তলায় রয়েছে ম্যাগাজিনটা -
হাতে নিয়ে ম্যাগাজিনটা উলটে পালটে দেখছিল মৃগাঙ্ক। পিছনের দিকে কটি ছবিও ছাপা আছে। হঠাৎ চোখ পড়ল ছবিতে। - আরে আর্যর ছবি না !
- দেখুন তো ছবিটা, আপনিও রয়েছেন মনে হচ্ছে
ভারী চশমাটা এডজাস্ট করলেন রথীনবাবু -
- এক্কেবারে, ঠিক! পুরনো ছবি তো আর আমাদের গ্রামের ফটোগ্রাফারের তোলা, কিন্তু তাও বেশ বোঝা যাচ্ছে। আরে, আরে এই তো সেই অনার্য দেখ তো ভাই, নাম টা নীচে লেখা আছে কিনা-
ম্যাগাজিনটা থেকে নামটা পড়ে শোনাল মৃগাঙ্ক রথীনবাবুকে -
- ঠিক ঠিক!
- আচ্ছা, এই ম্যাগাজিনটা আমি একটু রাখতে পারি!
- নিশ্চয়ই, তবে ফেরৎ পাঠালে খুব খুশী হব।
কথা দিয়ে বেরিয়ে পড়ল মৃগাঙ্ক। ফেরার সময় ট্রেনে জানলার ধারে বসে ম্যাগাজিনটা পড়ে শেষ করে ফেলল। মোবাইলে একটা ফোন করল হৃষীকে-
- তোকে আর একটা কথা বলার ছিল!
- বলে ফেল।
ফোনে কয়েকটা জরুরী নির্দেশ দিতে দিতে শিয়ালদহ স্টেশন এসে গেল।

------৬------

রবিবারের সকালে আরাম করে রবিবাসরীয় কাগজ পড়া মৃগাঙ্কর খুব শখের কাজ। সুযোগের অভাবে প্রায়শই সে শখ পূরণ হয় না। আজ সে বেশ আরাম করে আমেজটুকুকে উপভোগ করছিল। আকাশ পুরো কালো মেঘে ঢাকা, ঝির খির করে বৃষ্টি পড়ছে। হাল্কা করে রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান চলছিল। মাধবীলতা বলল –
- এই, একটা কথা বলব, রাগ করবে না!
- বল, বল! তুমি তো আর ভীরু মাধবী নও – তোমার আবার দ্বিধা কেন?
- খুব মুড !! শোন, আমাকে না একবার একটু বেরোতে হবে – ঘণ্টা দু-একের জন্য।
- এই ওয়েদারে – খুব জরুরী দরকার নাকি!
- আমাদের ক্লাবের একটি সংবর্ধনা সভা আছে, সেই ব্যাপারে মীটিং। প্রেসিডেন্ট হঠাৎ করে সোমবার থেকে কদিন থাকবেন না, তাই আজই –। তোমার তো ভালই, তুমি গান শোন আর মনের আনন্দে কাগজ পড়ো না- জ্বালাবার কেউ নেই।
- আমারও কাজ আছে, একজন অতিথি আসছে – তুমি থাকলে একটু ভালো আপ্যায়ন হতো।
- ফ্লাস্কে চা রাখা আছে, রান্নাঘরেও প্রচুর স্ন্যাক্স। আর তাকে যদি আটকাতে পারো, তো একসঙ্গে লাঞ্চ করা যেতে পারে। বাই দ্য ওয়ে, কে তোমার সেই বিশেষ অতিথি –
- বিশেষ তো বটেই , - আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল মৃগাঙ্ক। হঠাৎ করে বেল বাজল – মাধবীলতা গিয়ে দরজা খুলল;-
- আরে তুমি, ও তুমি ই সেই বিশেষ অতিথি
- আসলে মৃগাঙ্কবাবু বলেছিলেন সকালে আসতে।
মৃগাঙ্ক এগিয়ে এলো – তুমি একটু বসো, লতা তুমি আর দেরী কোর না, বেরিয়ে পড়ো।
মাধবীলতা বেরোতে বেরোতে বলে গেলো – এই, ওকে ছাড়বে না কিন্তু, একসঙ্গে লাঞ্চ করব।
রেনকোটটা হ্যাঙারে টাঙ্গিয়ে দিল মৃগাঙ্ক। দরজা বন্ধ করে গানটা অফ করে দিল।
- আরে বেশ আরাম করে বস।
- হঠাৎ সক্কাল সক্কাল ফোন করে ডাকলেন, আর কেউ নেই – আমি একা –
- ইচ্ছে হল, আসলে মনটা খুব ভালো আছে –
- তার মানে কেস টা কি সলভ হয়ে গেছে?
- আমার তো সেরকম ই মনে হচ্ছে – সেটা কনফার্ম করার জন্যই তোমার একটু পরামর্শ চাই।
- বলুন না, কে করেছে কাণ্ডটা –
- আস্তে আস্তে বলছি। আচ্ছা তোমার কারুকে সন্দেহ হয়নি?
- দেখুন ঘটনাটা দেখে মনে হয় নিশ্চয় চেনাজানার মধ্যে – নাহলে এতটা সাহস!
- দ্যাটস দ্য রাইট পয়েন্ট। এখন সন্দেহের তীর যাদের দিকে তারা হল তোমরা পাঁচ বন্ধু আর আর্যশেখরের ভাইপো রজতাভ। কাজটা করতে গেলে যা যা দরকার তা হল, সুযোগ আর মোটিভ। সুযোগের কথায় পরে আসছি, কিন্তু কি মোটিভ থাকতে পারে – চুরি করে এই পান্ডুলিপি ছাপানোর চেষ্টা – উঁহু, আর্যর হাতের লেখা অনেক প্রকাশকের ই চেনা, ধরা পড়ে যাবে। চলবে না। আমি অনেক ভেবে চিনতে একটা জোরালো মোটিভ পেয়েছি!! সেটাই তোমার সঙ্গে ডিসকাস করতে চাই।
- পেয়েছেন!! কি, কি সেটা –
- একটা বা দুটো ও বলতে পারো। পাকে চক্রে লেখক মশাই কে বিপদে ফেলা –
- তার মানে কি ছাপতে না দেওয়া – মানে আটকে রেখে বিপদে ফেলা
- এবং পরে চাপ দিয়ে টাকা আদায় অর্থাৎ ব্ল্যাকমেল। আর্যর পক্ষে পুরনো খসড়া থেকে আবার লেখাটাকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসা অসম্ভব নয় কিন্তু কষ্টসাপেক্ষ ব্যাপার। তা ছাড়া প্রথমবারের স্বাদু লেখাটা দ্বিতীয়বারে নিরেস হয়ে যেতে পারে। সেই সুযোগে অপরাধীর পক্ষে ওঁর বা প্রকাশকের কাছে ধমকি দিয়ে বেশ কিছু টাকা আদায় করা কিন্তু শক্ত ব্যাপার নয়। প্রকাশক হয়তো সব কিছু প্ল্যান করে ফেলেছে, এখন সব কিছু বানচাল হলে মুশকিল। আর ধর ডিম্যান্ড যদি রিজনেবল হয়, প্রকাশকের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব নয়।
- দারুণ ধরেছেন তো! কিন্তু এরকম টাকার দরকার হতে পারে বলে মনে হয়?
- দ্যাখ, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তোমাদের বন্ধু-বান্ধবদের সকলেরই অবস্থা বেশ ভাল। কারোরই সেরকম কোন বদসঙ্গ বা নেশা নেই, আই মীন এরকম ডেসপারেট হতে গেলে যেরকম দরকার। একমাত্র রজতাভ র কেসটা –
- কি বলছেন কি! ওর নিজের জেঠু, ভীষণ শ্রদ্ধা করে, এমনকি বাবার চেয়েও বেশী।
- সেটা আমি জেনেছি। তবে কি জান, ওর বাড়ীর অবস্থা অতটা ভালো নয়। ওর বাবা মা, কিন্তু রজতের মত আর্যর ওপর অতটা শ্রদ্ধাশীল নয়। ওঁদের ধারণা, আর্যর যা ক্ষমতা সেই তুলনায় তাঁরা কোনদিনই আর্যর কাছে হেল্প পাননি। বাবা-মা র এই ধারণা কিন্তু ছেলে মেয়ে দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ধর যদি কোন ফ্যামিলি সিক্রেটের ব্যাপার থাকে যা বাইরের লোক বড় একটা জানে না – হাজার হোক অলমোস্ট আত্মজীবনী ই তো!
- তার মানে সত্যি রজতাভই। আশ্চর্য, একবার ও মনে হয়নি যে ও এরকম কাজ করতে পারে। জানেন, গতবার যখন উনি অসুস্থ হয়েছিলেন, কিরকম সেবা করেছিল।
- আরে আরে এখুনি কনক্লুড কোরো না। আমি একটা সম্ভাবনার কথা বলছিলাম মাত্র – যাকে বলে হাইপথিসিস। এটাকে ফার্ম আপ করতে গেলে অনেক তথ্য প্রমাণের এবং বিশ্লেষণের দরকার। আচ্ছা, তোমার কি মনে হয়, আপাত ভাবে যে রজতকে আমরা চিনি সেটা তার মুখোশ, আসলে সে সুযোগ খুঁজছিল প্রতিশোধ নেওয়ার – তার বাবা মা কে অবহেলার – এমনকি অসুখের সময় সেবা ও ভান, কাছে আসার আর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা!-
- সেটার সম্ভাবনা – ভীষণ কনফিউসড লাগছে।
- আমার ও! কারণ অন্য একটা জায়গাতে আবার গোলমাল –
- সেটা কি – অন্য কোন এঙ্গেল
- দ্যাটস রাইট। তোমরা পাঁচ বন্ধু আর রজতাভ – এরা সকলেই পাণ্ডুলিপির কথা জানতে। উঁহু, মাথা নেড় না, আমি এই ব্যাপারে কনফার্মড। পাক্কা খবর-
- আসলে উনি একবার রজতের সঙ্গে কথায় কথায় বলে ফেলেছিলেন, তারপর রজত সেটা –
- অর্থাৎ তোমরাও জানতে। জেনেও সবাই না জানার ভান করলে !! কিন্তু দ্যাখ, এই পয়েন্টটা কি আবার রজতের বিপক্ষে চলে গেলনা – তার যদি কুমতলব ই থাকে তাহলে সে সকলকে বলবে কেন। তাহলে কি রজত করেনি বা আসল মোটিভ টাকা নয়? অন্য কিছু মোটিভ থাকতে পারে –
- হয়তো রজত সন্দেহটা অন্য কারো দিকে ঘোরাতে চায় – ডিটেকটিভ গল্পে তো এরকম কতই দেখা যায়-
- ব্রিলিয়ান্ট!! কিন্তু তর্কের খাতিরে অন্য কোন মোটিভ ভাবা যেতে পারে কি
- অন্য মোটিভ , শত্রুতা করে ওনাকে বিপদে ফেলবে এরকম –
- খুব স্ট্রং মোটিভ কিন্তু। হয়তো একটু ইমম্যাচিওর – কিন্তু যাদের সুযোগ ছিল তাদের অর্থাৎ তোমাদের সকলের পক্ষেই ঝোঁকের মাথায় এই রকম একটা ইমম্যাচিওর কাজ করে বসা অসম্ভব নয়।
- কিন্তু কার সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে – রজত কে ও তো বাতিল করে দিলেন –
- কারুকে বাতিল করিনি, আমরা শুধু বিভিন্ন সম্ভাবনাগুলিকে খতিয়ে দেখেছি। বর্তমান নয়, আমরা একটু অতীতে ফিরে যাই। আর্যশেখর স্কুলে থাকতেই লেখা শুরু করেছিলেন। উনি এবং ওনার এক ক্লাসমেট দুজনে ছিলেন একটি স্কুল ম্যাগাজিনের যুগ্ম সম্পাদক। বন্ধুটিও ভালোই লিখতেন, এমনকি ওঁদের বাংলা টিচারের মতে সেই সময় আর্যর চেয়ে তাঁর লেখার ধার এবং বুদ্ধিমত্তার ছাপ ছিল বেশী। কাল ঘটনাচক্রে ওনার গ্রামের সেই টিচারের কাছ থেকে ওঁদের একটা পুরনো ম্যাগাজিন যোগাড় করে এনেছি। তাতে দুজনেরই লেখা আছে। আরো মজার ব্যাপার কি জান, একটা ছবিও আছে - আর্যর, সেই টিচারের আর ও সেই বন্ধুর।
উঠে গিয়ে পত্রিকাটা নিয়ে এসে সেই ছবির পাতাটা খুলে দিল মৃগাঙ্ক। ছবিটা দেখিয়ে বলল -
- চিনতে পারছো –
একটু ইতস্তত করে উত্তর এল -
- এই তো আর্যর ছবি – যদিও একটু অস্পষ্ট, তবু বোঝা যাচ্ছে। এই বয়স্ক ভদ্রলোক কি টিচার-
- হ্যাঁ, আর ঐ বন্ধুর ছবিটা – খুব ভালো করে চেয়ে দ্যাখো – চেনা লাগছে কি!
- মা—নে – আমি কি করে ওনাকে চিনব --!!
- চেন কি চেন না – নো এমবিগুইটি – আনসার ইয়েস অর নো!!
মৃগাঙ্কর গলায় এখন পুলিশী কাঠিন্য। একরাশ ভেঙে পড়া কান্নার মধ্যে থেকে উত্তর এল -
- ইয়েস!!
স্বীকারোক্তি মৃগাঙ্কর গলাটা নরম করে দিল-
- পরের গল্পটা তোমার কাছে ই শুনব দেবলীনা। আমি চা আর স্ন্যাক্স নিয়ে আসছি। গেট রেডি!!

------৭------

বেশ কিছুক্ষণ কান্নার পর চা খেয়ে একটু শান্ত হয়ে, সামলে নিয়ে মুখ খুলেছে দেবলীনা। --
- ছোটবেলা থেকেই আমার খুব প্রিয় লেখক আর্যশেখর। ওঁর ছোটদের লেখার হাত ও তো দারুণ। কিন্তু বাবা, কেন জানি কখনোই ওঁকে একদম পছন্দ করতেন না, - বলতেন ওর কোন মৌলিক কিছু লেখার ক্ষমতা নেই, নিশ্চয়ই কোথা থেকে ঝেড়ে দিয়েছে – খোঁজ নিলেই জানা যাবে। আমি রেগে যেতাম বাবার ওপর কিন্তু বাবা কিছু আর বলতেন না। বেশ বড় হয়ে বাবার কাছে ঘটনাটা শুনি। আমার বাবা সৌম্য ও আর্য একই স্কুলে পড়তেন। আর আপনি যা বলেছেন সেটা ও ঠিক, দুজনেই ঐ টিচারের সাথে পত্রিকা সম্পাদনা করতেন ওঁরা। একবার স্কুলের ওই ম্যাগাজিনের জন্য বাবার লেখা দুটি ছোট গল্প পড়ে মাস্টারমশাই খুব মুগ্ধ হন – বাবাকে বলেন গল্প দুটি একটু মডিফাই করে আলো ভাল হবে, - কি করতে হবে তাও বলে দিলেন। সেই সময় বাবা পরীক্ষার পড়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু তার মধ্যেও সেটা কমপ্লিট করে ফেললেন। কথা ছিল কলকাতায় একটি পত্রিকায় পাঠানোর। আর্য তখন একটা বিশেষ কাজে কলকাতায় যাচ্ছিলেন, তাই আর ডাকে না পাঠিয়ে আর্যর হাতে পাঠিয়ে দেয়া হয় জমা করার জন্য। এইখানে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করলেন আর্যশেখর, গল্প দুটিকে উলটে পালটে বেশ একত্রিত করে তৈরি করে ফেললেন একটি অণু –উপন্যাস। জমাও দিলেন – কিন্তু নিজের নামে। ফিরে এসেও ব্যাপারটা সবার কাছে গোপন করে গেলেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষায় পাশ করে দুজনেই চলে গেলেন কলকাতায় দুই কলেজে পড়তে – আর্যর আর্টস আর সৌম্যর সায়েন্স। বেশ কিছুদিন পর, যথাসময়ে লেখাটি প্রকাশিত হল – সেই সাহিত্য পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাতে। বেশ সাড়া ও পড়ল – কলেজের ছেলেদের কাছে শুনে আর লেখাটি পড়ে প্রিয় বন্ধুর এই বিশ্বাসঘাতকতায় জ্বলে উঠলেন তিনি। কোন কৈফিয়ত ও চাইলেন না বন্ধুর কাছে, কোন সম্পর্কও আর রাখলেন না। সাহিত্যের সঙ্গে সব বন্ধন ছিন্ন করে বৈজ্ঞানিক হয়ে গেলেন। আর কোনদিন বাংলাতে বিশেষ কিছু লেখেননি, অনেক লেখা লিখেছেন, ইংরাজিতে এবং সবগুলি ই বিজ্ঞান সংক্রান্ত। বেশ কয়েকবার তাঁর কাছে অনুরোধ এসেছে – ছোট বড় পত্রিকার তরফ থেকে, সহজ বাংলাতে আধুনিক বিজ্ঞানের কিছু লেখার জন্য। সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এবারে মৃগাঙ্ক মুখ খুললেন। -
- বাবার ওপর এই বিশ্বাসঘাতকতার বদলা নিতেই তুমি কি ওঁর কাছে যাওয়া শুরু করলে -
- ঠিক তা নয়। একটা অদম্য কৌতূহল ছিল – একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের এরকম একটা পাস্ট থাকতে পারে – সেই মানুষটাকে জানার ইচ্ছে
- গিয়ে কি দেখলে – একেবারে অন্যরকম না খুব হতাশ হলে
- একেবারেই অন্য রকম। সব নর্মাল হয়ে আসছিল। তারপর যখন নিজের জীবনের ভিত্তিতে ঐ উপন্যাসটির কথা শুনলাম, হঠাৎ করে খুব রাগ হল। মনে হল নিশ্চয়ই নিজের সাহিত্য শুরুর গল্প ফাঁদবেন, নিজের ছোট বেলার বড় বড় কথা লিখে আর কুকর্মটিকে চেপে-
এবার দেবলীনার গলায় আবার কান্নার সুর, গলা ভার ভার, বিষণ্ণতার আভাস -
- কিন্তু আমি হেরে গেলাম, বুঝলেন, মানে উনি আমাকে হারিয়ে দিলেন-
- একটু বুঝিয়ে বলবে- ঠিক ধরতে পারলাম না।
দেবলীনার চোখে জল – রুমাল বার করে চোখটা মুছে নিয়ে বলল -
- পড়তে গিয়ে দেখলাম, উনি অক্ষরে অক্ষরে স্বীকার করে নিয়েছেন নিজের ভুলকে। ক্ষমা ও চেয়ে নিয়েছেন তাঁর জীবনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী সেই বন্ধুটির কাছে। তারপর থেকেই ভুগতে লাগলাম অসম্ভব অপরাধবোধে – বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। বারেবারে শুধু আপনার কথাই মনে পড়ছিল। আপনার ফোনটা পেয়েই-
- লেখাটা কোথায়! আমাকে কখন দেবে?
- আমি সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছি। আমার মনে কি রকম একটা অস্থিরতা ছিল – তাই সকালে আপনার ফোনটা পেয়েই কিরকম বুঝতে পারলাম – ‘খেলা শেষ’-
কথা শেষ না করেই ব্যাগ থেকে বার করে দিল একটা মোটা কভার
- এবারে একটু বললেন, কিভাবে জানলেন
- আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্ট বন্ধুটি খুব সাহায্য করেছে। তুমি কিন্তু খুব বুদ্ধি খাটিয়েছিলে, - আর্যশেখরের বাড়ির পুরনো শারদীয়া পত্রিকা ভরে দিয়ে – ব্রিফকেস না খুললে বোঝা যাবেনা। এটা ও প্রায় নিশ্চিত ছিলে উনি থানা পুলিশ করবেন না – বাড়ী সার্চ তো দূরের কথা-
- সার্চ করলেও পাওয়া যেত না – শুক্রবারই তো আমি ব্যাগের মধ্যে নিয়ে আসি।
- ওই পত্রিকাটি এবং ব্রিফকেসটা আমি ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্ট কে দিয়ে পরীক্ষা করাই – কিছু পাইনি, সবেতেই হরিহর আর আর্যর ই ছাপ ছিল।
- আসলে ফিংগারপ্রিণ্টের কথাটা মাথায় ছিল, রুমাল ইউস করেছিলাম।
- তাই ভেবেছিলাম। মনে আছে, তোমাদের নিজের হাতে করে বাড়ীর এড্রেস আর ফোন লিখিয়েছিলাম। তাতে করে তোমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে যখন কিছু হল না, শুরু করলাম মনের মধ্যে খুঁজতে।
- মনের মধ্যে খোঁজা, ঠিক বুঝলাম না-
- মানে এতক্ষণ যেটা বললাম। কি হতে পারে মোটিভ। চলে গেলাম ওঁর অতীতে। তন্ন তন্ন করে সার্চ করা হল কলেজ আর স্কুল জীবন। কিছু পাওয়া গেল না। হঠাৎ ওঁর পুরনো ইন্টারভিউ এর একটা রেফারেন্স পেলাম। সেখানে স্কুল জীবনের উল্লেখ আর বাংলার টিচার। ব্যাস, হিয়ার উই আর!!
- আসলে এই ঘটনাটা যখন ঘটে সেই এক মিনিট আমার কোন কন্ট্রোল ছিল না। হেমন্ত আর রজত বাইরের বারান্দায় গল্প করছিল। চোখের সামনে ব্রিফকেসটা এবং তাতে চাবি ঝুলছে দেখে আমি খুলতে যাই। খুলে দেখি - ম্যানাস্ক্রিপটা। এরপর আর সামলাতে পারিনি।
- একটাই ক্ল্যু ছিল, খুব ভালো করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে ব্রিফকেস এর চাবির গোছা তে তোমার হাল্কা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে।
- তাই !! ও, মনে পড়েছে । প্রথমে চাবিটাতে হাত দিয়ে ফেলেছিলাম - কিন্তু তারপর রুমাল দিয়ে সব কিছু করেছিলাম। রুমালটা দিয়ে চাবিটা ও মুছেছিলাম।
- যাকে বলে মুছেছিলে তবু মোছনাই, জানায়ে গেলে তাই। এটা তোমার প্রথম অপরাধ খুব গুরুতর ও হতে পারত। অনুতাপের কথা অবশ্য বিবেচ্য।
সামনে রাখা ফোনটা কে স্পীকার মোডে দিয়ে ডায়াল করল মৃগাঙ্ক-
- হ্যালো-
- আমি মৃগাঙ্ক বলছি। উদ্ধার হয়েছে -
- হয়েছে, কি করে - আর্যশেখরের গলার স্বস্তি ও উত্তেজনা একসঙ্গে স্পীকার ফোন পেরিয়েও দেবলীনার কানে পৌঁছচ্ছিল
- আপনি ই তো বলেছিলেন - শুধু উদ্ধার - নো পাবলিসিটি! তাই আমাকেও বলতে হচ্ছে - নো এক্সপ্ল্যানেশন, শুধু উদ্ধার।
- বিলক্ষণ! আই স্টিক টু দ্যাট!!
- আসলে যে কাজটা করেছে, সে নিজেই খুব অনুতপ্ত - ঝোঁকের মাথায় করে বসে-
- মৃগাঙ্ক, সে যে ফিরিয়ে দিয়েছে তাতেই সব মাফ। কখন দেখা হচ্ছে!
- সন্ধেবেলায়, চা এর সময়। দুপুরে ওটা পড়ে ফেলতে চাই -আপত্তি আছে !!
- ছি, ছি, কি যে বলো।
দেবলীনা কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে তাকালো-
- আর কে কে জানবে?
- আমার একটাই সমস্যা। মাধবীই আমাকে অতীতের আইডিয়া টা দেয়। ইন ফ্যাক্ট, স্কুলের টিচারের ব্যাপারটাও ওর দেখা সেই ইন্টারভিউ থেকে জানতে পারা-
- নিশ্চয়ই। কিন্তু আর অন্য কেউ-
- আমাকে আর্য বারে বারে বলেছেন - ‘নো পাবলিসিটি’! কাজেই আমি চাইলেও তোমাকে কোন শাস্তি দিতে পারবো না। তোমার বন্ধুরা জানবে এক অজানা ক্যুরিয়ারে এসে হাজির হয়েছে লেখাটা। কিন্তু দেবলীনা, এই ছোট অপরাধ আর তার থ্রিল কিন্তু সাংঘাতিক - এরাই ভবিষ্যতে বড় অপরাধের রাস্তা তৈরি করে।
মৃগাঙ্ক উঠে দাঁড়ালো, নাটকীয় ভঙ্গীতে ফুটবলের রেফারীর মত হাতটা উঠিয়ে বলল-
- ইয়ু আর শোন ‘দ্য ইয়েলো কার্ড’!
- আই একসেপ্ট, থ্রিল আমার হয়নি, অনুশোচনা হয়েছে - আই উইল নেভার সি এনাদার ইয়েলো কার্ড! - ইটস আ প্রমিস!!
ছাড়া পাওয়ার আনন্দে কান্না আর বাঁধ মানলো না। মৃগাঙ্ক উঠে গিয়ে সিডি প্লেয়ার টা আবার চালিয়ে দিল- বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে কিন্তু দেবব্রত র গলায় যেন ঘরের মধ্যে আবার বৃষ্টি নেমে এল -

বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান
আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান --

দুজনে চুপচাপ গান শুনতে শুনতে মাধবী লতার প্রতীক্ষা করতে লাগলো!

ভাস্কর বসু

 

ভাস্কর বসু - জন্ম কলকাতায়, বেড়ে ওঠা দক্ষিন চব্বিশ-পরগনার রাজপুর-সোনারপুর অঞ্চলে। ১৯৮৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রনিক্স ও টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনীয়ারিং পাস করে কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে। শখের মধ্যে অল্প-বিস্তর বাংলাতে লেখা - অল্প কিছু লেখা রবিবাসরীয় আনন্দবাজার, উনিশ-কুড়ি, নির্ণয়, দেশ, ইত্যাদি পত্রিকায় এবং বিভিন্ন ওয়েব ম্যাগাজিন (সৃষ্টি, অবসর, ইত্যাদিতে) প্রকাশিত।