রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক


প্রেমেন্দ্র মিত্রের

সুজন দাশগুপ্তের

গ্যাসলাইট মিস্ট্রি সিরিজ

এ. মুখার্জী এণ্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেড

 

 

 

 

 

 

 


 

বিহারিলালের আলোছায়া

(৫)


আজ বুধবার। দীপ্তদা বলেছিলেন শুক্রবারের মধ্যে ওনাকে লেখাটা জমা দিতে হবে। সকালে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ ওল্টাচ্ছিলাম। বাপ্পা আজ অনেকদিন বাদে সকালে হাঁটতে গিয়েছিল। মিনিট দশেক হলো ফিরেছে। চোখ মুখ দেখে তাকে বিশেষ চিন্তিত মনে হয়নি। অন্তত কালকে রাতেও শুতে যাওয়ার সময় যেমন দেখেছিলাম এখন তার ছিটেফোঁটাও চিন্তা আছে বলে বুঝছি না। সে স্নানে ঢোকার আগে বলে দিল,সাড়ে নটার সময় বেরোবে। কোথায় যাবো জানি না। কিন্ত মনে হচ্ছে আজ ভালোই আউটডোর ডিউটি আছে। তার মানে ওয়ার্কিং লাঞ্চ। আর বাপ্পা এসব ক্ষেত্রে ওই ব্যাপারটা নিয়ে একেবারেই ভাবে না। কিছু পেটে পড়লেই হলো। অবশ্য সেটা যখন তদন্ত একেবারে শেষ পর্যায়ে আসে তখন এমনভাবে চলে। এই মুহূর্তে সেটা আসতে দেরি হবে বলেই তো মনে হয়। আমাদের এক চেনা ট্র্যাভেল এজেন্ট আছে। আগেও বলেছি। জয়দীপ ইকোনমি ট্র্যাভেলস। মানে সংক্ষেপে জেট। জেটের কাছ থেকে বাপ্পা তদন্তের সময় দরকার হলে গাড়ী নিয়ে থাকে। আজও তাই। কাল রাতে সে বোধহয় কোন এক ফাঁকে তাকে গাড়ী লাগবে এ কথা জানিয়েছিল। আমরা রেডি হতে হতে জয়দীপের ড্রাইভার বিপুল গাড়ী নিয়ে এসে হাজির হলো। বাপ্পা প্রথমে চিত্রভাসের অফিসে যাবে ঠিক করেছিল। এত তাড়াতাড়ি কেউ কি আসবে?আমি একটু অবাকই হলাম। যাইহোক,বিপুলকে সেইভাবেই ও রাস্তার ডিরেকশন দিয়ে দিলো। আমরা দুবার সিগন্যালে আটকেও দশটার আগেই দীপ্তদার অফিসে পৌঁছে গেলাম। গেটে সিকিওরিটিকে দীপ্তদার নাম বলাতে সে ‘দোতলায় বাঁদিকে চলে যান’বলে রাস্তা দেখিয়ে দিলো। আমরা সিঁড়ি দিয়ে উঠে নির্দেশমতো করিডর দিয়ে হেঁটে বারান্দার শেষ মাথায় গিয়ে দরজায় নক করলাম। দীপ্তদা দেখলাম এসে গেছেন।
আরে!!!!হোয়াট এ সারপ্রাইজ!!তোরা—আয় আয়। বোস।
দীপ্তদা বসেছেন একটা সেক্রেটারিয়েট টেবিলের উল্টোদিকে একটা হেলানো চেয়ারে। যথারীতি এই টেবিলটাও অবিন্যস্ত। ভদ্রলোক সত্যি খুব অগোছালো মনে হচ্ছে। আমরা ভেতরে এসে একটা সোফায় বসলাম।
চা খাবি তো?আমার জন্য বলবই। তোরা না এলেও অফিসে ঢুকে একবার চা আমার চাই।
বাপ্পা বলল,না ছাড়ো-এই খেয়ে বেরোলাম। শোনো তোমার অফিসে পুরোনো ফিল্ম সম্পর্কে তথ্য কার সাথে কথা বললে পাওয়া যাবে বলো দেখি। এই ধরো গত পাঁচ ছয় বছর পুরোনো।
দীপ্তদা বললেন,আমিই বলছি। না হলে সুকল্যাণকে ডাকছি। এফিশিয়েন্ট ছেলে। কিন্ত কি ব্যাপার বলতো?কি জানতে চাস?
বাপ্পা বলল,এখন তুমি এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না। তোমার ঐ সুকল্যাণকে ডাকো। দীপ্তদা খানিক আশ্চর্য হচ্ছেন বুঝতে পারছি কিন্ত বাপ্পার কথায় আর তার চোখমুখের হাবেভাবে এমন কিছু ছিল যে দ্বিতীয়বার আর কিছু না ভেবে বেল টিপলেন। বেয়ারা টাইপের একজন লোক ভেতরে ঢুকতে তিনি বললেন,সুকল্যাণকে আসতে বলো।
মিনিট দুয়েকের মধ্যেই বছর সাতাশ আঠাশের এক ভদ্রলোক এলেন। মাঝারী হাইট। শ্যামলা গায়ের রঙ। স্ট্রাইপড শার্ট পরা। সঙ্গে নীল প্যান্ট। চোখে চশমা।
দীপ্তদা আমাদের দিকে দেখিয়ে বললেন,এই যে তুমি এসেছো। দেখো এরা সব আমার বন্ধু। পুরোনো ফিল্মের ব্যাপারে তথ্য চাইছেন। দেখো তো হেল্প করতে পারো কিনা।
আসুন স্যার। সুকল্যাণ আমাদের দিকে তাকিয়ে প্রথমে নমস্কার করে তারপরে বললেন।
বাপ্পা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,তুই দুমিনিট বস। আমি এখুনি আসছি। চলুন-
বাপ্পা অদৃশ্য হলো।
নীল,তোমার তো চা-এ আপত্তি নেই। বলি তবে?
বলুন।
চায়ের অর্ডারটা সেই লোকটিকে দিয়ে উনি বললেন,তুমি একটু বোসো। আমি একটা মেইল পাঠিয়ে হাতের কাজটা সেরে নিই। বড়জোর পাঁচমিনিট।
মিনিট পাঁচেক পরে একথা ওকথা নিয়ে খানিক গল্পে আরো মিনিট দশেক গেলো। বাপ্পার পাত্তা নেই। শেষে দীপ্তদাই জিজ্ঞেস করলেন,প্রোগ্রেস রিপোর্ট কি? কিছু এগোলো?
তা এগিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। আমার ধারণা দু-একদিনের মধ্যে ব্যাপারটা পরিস্কার-
দীপ্তদার মোবাইলে কেউ ফোন করেছে। কেটে গেলো। মিনিট কয়েকবাদে আবার ফোন।
জেঠু বলুন,--হ্যা ফোন করেছিলাম। ওই বললাম তো পুরো কেসটা। বাধ্য হয়ে উপায় ছিল না—ওরা মানে একবার যাবে-সেটা কি জানিনা-আচ্ছা এক মিনিট ধরুন—
দীপ্তদা মোবাইলটা চেপে ধরে জিজ্ঞেস করলেন,জেঠু জানতে চাইছেন—কবে যাবি?
আমি কিছু বলবার আগেই পেছন থেকে বাপ্পা কখন এসে বলল,বলে দাও আজই। এখান থেকে সোজা যাবো।
বাকিটা দীপ্তদা কনভে করে ফোন রেখে বললেন, তোর কাজ হলো?
হ্যাঁ। যা জানার ছিল জেনে গেছি।
কিন্ত সেটা কি?
‘বে-নকাব’ নামে একটা ফিল্মের ব্যাপারে কিছু ইনফরমেশন। এর বেশি এখন বলবো না।
‘বে-নকাব’?নামটাই তো শুনিনি। কিন্ত কাকে বে-নকাব করবি?
শোনার কথা নয়। লো বাজেট বি-গ্রেড ফিল্ম। সুপারফ্লপ। আর প্রায় বে-নকাব হয়ে এসেছে তোমারই এক বন্ধু। আপাততঃ চলি। হাতে অনেক কাজ। পরে ফোন করবো।
ইতিমধ্যে চা দিয়ে গিয়েছিল। কোনোমতে সেটা শেষ করে উঠে পড়লাম।
গাড়ীতে এসে বসে বললাম,কি রে চোর ধরে ফেলেছিস?
বাপ্পা বলল,সন্দেহটা আরো গেড়ে বসেছে। বাকিটা নির্ভর করছে অর্ঘ্যর রিপোর্ট আর মিস্টার ভট্টর সাথে মোলাকাতের আউটপুটের উপর। এই যাঃ!ডাইরেকশানটাই নেওয়া হয়নি। দাঁড়া দীপ্তদাকে ফোন করি।
মোবাইলটা বের করে বাপ্পা নম্বর ডায়াল করতে লাগলো। মিনিট তিনেকে গোটা ব্যাপারটা বুঝে বাকি দু-মিনিটে বিপুলকে রাস্তাটা বুঝিয়ে দিল বাপ্পা। আমাদের গাড়ী এখান থেকে বাইপাস দিয়ে গিয়ে উল্টোডাংগার রাস্তা ধরবে। সেখান থেকে এয়ারপোর্টের রাস্তা দিয়ে না গিয়ে লেকটাউন দিয়ে সোজা শর্টকাট করে পাইকপাড়া হয়ে বিটি রোডে উঠবে। তারপর টানা রাস্তা। আমরা যাচ্ছি শ্যামনগর। যেটা শিয়ালদা থেকে ট্রেনেও যাওয়া যেত। গাড়ীতে সময়ও বেশি লাগবে। বাপ্পার মাথায় কোন মতলব যে কখন কাজ করে বলা মুশকিল। এখন বাজে সাড়ে দশটা। ও বলল,জ্যামে না আটকালে সারে বারোটার মধ্যে পৌঁছে যাবো। কিন্ত প্রশ্ন হল বাপ্পার সন্দেহের লিস্টে সবার আগে কে আছে?যাকে সন্দেহ করা যেত তাকেই আমার সবচেয়ে খোলামেলা মনে হয়। কল্লোলবাবু। আর তাও তিনি ফিল্ম লাইনে আছেন বলে। আর বাপ্পাও সিনেমা আর সিরিয়াল নিয়ে ভাবছে বলে। এটা বেশ বুঝছি যে এমন কেউ কাজটি করেছে যে সিনেমা লাইনের সাথে যুক্ত ছিল। তীর্থংকরকে দেখে পেশাদার ব্যবসায়ীর বেশি কিছু মনে হয়নি। মানসবাবুর ফটো ও স্টুডিওটাই জীবন মনে হল। আর রণজয় ভীষণ ফর্ম্যাল কর্পোরেট একজিকিউটিভ। বুঝছি না। একেবারেই বুঝছি না। বাপ্পা বোধহয় সকাল থেকে এই প্রথম সিগারেট ধরালো। বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে বাইপাশে যখন গাড়ীটা এসেছে তখন ওর মোবাইলে একটা ফোন এলো। আমি শুধু একদিকটাই শুনতে পেলাম আর সেটাই লিখছি।
হ্যাঁ বলুন—জানতে পেরেছেন—হুম—কেন?—তারপর?—বেশ বলে যান—(একটা লম্বা বিরতি)—ওকে। গ্রেট জব ডান—থ্যাংক ইউ সো মাচ।
ফোন রাখার পর জানতে চাইলাম,অর্ঘ্য?
ইয়েস বস।
রিপোর্ট দিলো?
দিলো। দারুণ কাজ করে দিয়েছে রে।
কি রিপোর্ট?
জিস্টটা হচ্ছে ‘ওরা কয়েকজন ও আমি’ সিরিয়ালটিতে আমি যার কথা ভাবছি তিনি কাজ শুরু করেন। শুটিং শুরু হওয়ার কিছুদিন পরে ডিরেকটর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমাদের এই মিস্টার ‘এক্স’ ডিরেকশান দেওয়া শুরু করেন। কিন্ত গোটাকতক এপিসোড শুটিং হলেও তাঁর সঙ্গে প্রোডিউসারের নানা কারণে গন্ডগোল হয়। তার একটা কারণ হলো খরচ। ডিরেকটরের কথানুযায়ী চলতে গিয়ে প্রোডিউসারের বাজেট বেড়ে যাচ্ছিল। তারপর প্রোডিউসার ভদ্রলোক বাধ্য হন সিরিয়ালটির কাজ বন্ধ করে দিতে। এরপর আমার অনুমান মিথ্যে না হলে এই মিস্টার ‘এক্স’ মুম্বই পাড়ি জমান। অবশ্যই কোনো পৃষ্ঠপোষক ধরে। সেখানে একটি বি-গ্রেড হিন্দি ফিল্মে কাজ করেন। হিরো নয়। তবে একেবারে দু-মিনিটের রোলও নয়। কিন্ত বলাই বাহুল্য ফিল্মটি চলেনি। আরো কিছুদিন চেষ্টা চরিত্র করে শেষমেশ বিফল মনোরথ হয়ে ইনি কলকাতায় ফেরত আসেন। নতুনভাবে সবকিছু শুরু করবেন ভেবে।
কিন্ত তিনি কে?
ভাবো বন্ধু। অনেক তথ্য দিয়ে দিলাম। বাকি রাস্তা মাথা খাটাও। বুঝতে পারবে।
বাকি রাস্তা মাথা ঘামাতে ঘামতে একসময় একটু চোখটা লেগে গিয়েছিল। চটকা ভাঙলো বাপ্পার ডাকে। তাকিয়ে দেখি আমাদের গাড়ীটা একটা রেলগেট পার হচ্ছে। সেটা পেরিয়ে বাপ্পা পথচলতি একজনকে জিজ্ঞেস করলো,মিলনসংঘ খেলার মাঠটা কোনদিকে। ভদ্রলোক যেদিকটা দেখালেন,গাড়ীটা সোজা সেদিক ধরে গিয়ে যেখানে রাস্তাটা একটা স্কুলের পাশে রাইট টার্ন নিয়েছে সেদিকে ঘুরল। এখান থেকে সোজা গিয়ে একটা মাঠের সামনে দাঁড়াবার পর আবার জিজ্ঞাসা। এবার বোঝা গেলো মাঠের পাশ দিয়ে একটা রাস্তা দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। সেখানে অজিত ভট্ট থাকেন। মফঃস্বল শহর,ছোট জায়গা। সবাই সবাইকে চেনে। আর দীপ্তদার কথানুযায়ী ভদ্রলোক বেশ পপুলার। আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে একটা তিনতলা বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে ডাইনে বাঁয়ে তাকাচ্ছি। ইতিমধ্যে একজন বেঁটেখাটো মোটাসোটা ভদ্রলোক,চোখে চশমাটা পড়তে পড়তে বেরিয়ে এলেন। বোধহয় গাড়ীর আওয়াজ পেয়ে।
আপনারা কাকে চাইছেন?
আজ্ঞে মিস্টার অজিত ভট্ট। তিনি এখানে থাকেন কি?
তীক্ষ্ণ অন্তর্ভেদী দৃষ্টিতে বাপ্পাকে দশ সেকেন্ড নিরীক্ষণ করে ভদ্রলোক জানতে চাইলেন,বাপ্পাদিত্য?
বাপ্পা স্মিত হেসে বলল,আজ্ঞে ঠিকই ধরেছেন। এ হলো আমার-
নীলাব্জ। শুনেছি। দীপ্ত আমায় বলেছে। ভেতরে এসো তোমরা। তুমি বলছি তোমাদের। তোমরা আমার দীপ্তর থেকেও ছোট।
নিশ্চয়।
সরু প্যাসেজের থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে। পায়জামা ও ফতুয়া পরিহিত ভদ্রলোক সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছেন। আমরা তাকে ফলো করে দোতলায় একটা হলঘরে এসে ঢুকলাম। একপাশে একটা সিংগল খাট। তারপাশে একটা কম্পিউটার টেবিলের ওপরে একটা ডেস্কটপ রাখা। আরেক পাশে একটা সাইড টেবিল যার ওপরে সিগারেট,দেশলাই,ছাইদান আর গোটাকতক বই রাখা।
তোমরা বসো। একটু চা খাবে নাকি এখন?
বাপ্পা বলল,কিচ্ছু দরকার নেই। আপনি ব্যস্ত হবেন না।
ভদ্রলোক সিগারেটের প্যাকেট টেনে নিতে নিতে বললেন,ব্যস্ত তো হইনি ভাই। এখন বলো তোমরা কি জানতে চাও। ভালো কথা তোমরা আজ দুপুরে দুটো ডাল-ভাত আমার এখানেই খেয়ে যাবে। আমি জানি দুপুরে তোমাদের অন্যত্র খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এবার বলো।
বাপ্পা একবার আমার দিকে তাকিয়ে ওনার দিকে ফিরে বলল,আপনি শুনেছেন তো সব।
আমায় দীপ্ত বলেছে।
বাপ্পা বলল,আমার যেটা সবার আগে জানার দরকার সেটা হলো দীপ্তদার যে চারজন বন্ধু এই কেসটায় জড়িয়ে আছেন তাদের আপনি চেনেন?মানে সবার সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় আছে?
ভদ্রলোক বললেন,ঐ মানস নামে যে ছেলেটি ওর বন্ধু, তাকে আমি বেশ ভালো চিনি। ওর বাবার সংগে আমার বহুদিনের ঘনিষ্ঠতা বলতে পারো। বাকিদের দেখেছি বার দুয়েক। একবার এই কিছুদিন আগে। দীপ্ত পুরস্কার পেলো। আমায় যেতে বলেছিলো। গিয়েছিলাম। সেখানে ওরা সবাই ছিল। আরেকবার—
ভদ্রলোক কিছু ভাবছেন। স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন মনে হল।
বেশ খানিকক্ষণ বাদে বললেন, হ্যাঁ। মনে পড়েছে। ওই দীপ্তর ফ্ল্যাটে। গৃহপ্রবেশ করলো যেদিন সবাইকে তখন নেমতন্ন করে খাইয়েছিল। সেদিন প্রথমবার ওদের সাথে পরিচয় আর কথাবার্তা হয়। তবে তাও কয়েকবছর হলো।
তবু আপনি যা দেখেছেন,যেটুকু কথাবার্তা হয়েছে ওদের সাথে তার ভিত্তিতে এখন ব্যাপারটা জেনে আপনার কাউকে সন্দেহ হয়?
জেঠু প্রায় হাঁ হাঁ করে উঠলেন। বললেন,সেরকমভাবে ওদের চিনিইনা যে এমন চিন্তা মাথায় আসতে পারে। এরা সকলেই ভালো ছেলে। পড়াশোনাতেও কেউই খারাপ তো নয়ই বরং যা শুনেছি ওই রণজয় আর তীর্থংকর তো খুবই সাইন করেছে। কল্লোল বা মানস,যেটুকু বুঝেছি অ্যাভারেজ ব্রেনের স্টুডেন্ট। আমিও তো সারা জীবন স্টুডেন্ট নিয়েই কাটালাম। বুঝি।
আপনি কোথায় পড়াতেন?
অনেক জায়গায় পড়িয়েছি ভাই। প্রথম জীবনে বিহারে ছিলাম। তারপর গেলাম আসাম। কিছুদিন ভুবনেশ্বরেও কাটিয়েছি। তারপর বাকি কিছু বছর এই রাজ্যেই থেকে গেলাম। এখন তো অখন্ড অবসর। বই নিয়েই কেটে যায়।
একাই থাকেন এখানে?
একটি কাজের ছেলে আছে। সে রান্নাবান্না করে দেয়। আরেকজন ঘরের বাকি কাজ করে। আমার ছেলে নাগপুরে চাকরি করে। মাঝে মাঝে যাই। আমার স্ত্রী কয়েক মাস ওখানে থাকেন। বাকিটা এখানে। এখন যেমন নাগপুরে গেছেন।
বাপ্পা বলল,এদের ফ্রেন্ডশিপটার নেচার আর ডিউরেশন নিয়ে কি জানেন?
উনি বললেন,দেখো আসল বন্ধু ছিলো দীপ্ত আর রণজয়। অন্তত আমি যা শুনেছি। বাকিরা কে কখন জুটে গেছে বলতে পারবো না। এদের মধ্যে মানস আবার এক ব্যাচ জুনিয়র। ও যে কখন ওদের সাথে মিশলো সেটা আমার জানা নেই। সকলেই প্রায় সেই স্কুল জীবনের বন্ধু। এই ঘটনা ঘটার আগে জেনে এসেছি খুবই স্ট্রং ফ্রেন্ডশিপ এদের। এরপরে কি দেখতে হবে জানি না। তুমি ভালো জানবে।
খানিকবাদে বাপ্পা বলল,বিহারীলাল ভট্ট আপনার কে হন?আই মিন কিভাবে উনি আপনার সাথে রিলেটেড?
দীপ্ত বলেনি?
না সেই ডিটেইলটা—
নেওয়া হয়নি তো!আচ্ছা বলছি। আমার পিতামহ ও বিহারীলাল দুই সহোদর ভাই ছিলেন। বিহারীলালের জীবনের প্রথম কয়েকবছর এখানেই কাটে। অবন্তীপুর নামে এখানে একটা জায়গা আছে। সেখানে থাকতেন। পরে,মানে ধরো এই দশ বছর বয়সে তাঁর পিতৃদেবের সঙ্গে গুয়াহাটি চলে যান। সেখান থেকে শিলচরের চাকরি নেন।
বাপ্পা একটুক্ষণ ভেবে বলল,আচ্ছা ডিভিডিটা মিসিং তার ভ্যালু কত হতে পারে?
ভদ্রলোক একটু ভাবলেন। তারপর বললেন,জানি না জানো!ফিল্ম লাইনে তেমন সমঝদার লোক থাকলে আর তেমন দর যদি কেউ হাঁকে তবে ভালো দামই পাবে। কথা হলো যে নিয়েছে সে কতটা দাম চড়াতে পারবে আর তেমন বিক্রির লোক পাবে কিনা। আদারওয়াইজ—খুব সামান্য দামেও কেউ বিক্রি করতে পারে। তাতে তার লাভ হবে কিনা জানিনা। তবে এটা রেয়ার ফিল্ম।
জেঠু বললেন, বেলা হয়ে গেছে। চলো খেয়ে নেওয়া যাক।
বাপ্পা বলল,চলুন। আপনি না খাইয়ে ছাড়বেন না বুঝেছি।
নিজেই পাতে খাবার পরিবেশন করতে করতে বললেন,সামান্য আয়োজন বাবা। তেমন বিশেষ কিছু ব্যবস্থা করতে পারিনি। তোমাদের হয়ত অসুবিধেই হচ্ছে।
বাপ্পা খেতে খেতে বলল,প্রশ্নই নেই। আপনার রান্নার লোকের হাত যে চমৎকার সে কথা বলতেই হবে।
সত্যিই তাই। উচ্ছে ভাজা,মুগের ডাল,আলু ফুলকপির তরকারী আর কাতলা মাছের কালিয়া। প্রতিটি পদই উপাদেয়। শেষপাতে একটি রাজভোগ।
খাওয়ার পর বাপ্পা বলল,আচ্ছা মানসবাবুর বাড়ী এখানে না?
জেঠু বললেন,হ্যাঁ। এই তো কাছেই। মিলন সংঘের মাঠের কাছে। কেন বলো তো?
আসলে ভাবছিলাম একবার ওনার বাবার সাথে কথা বলা যায় কি?এলামই যখন।
হ্যাঁ। সে যেতেই পারো। আমিই না হয় সাথে গেলাম। কিন্ত এখন বোধহয় ওরা একটু বিশ্রাম করছে। তবু দাঁড়াও। আমি নীলেন্দু মানে ওর বাবাকে ফোন করছি। এই তো কাল দেখা হল। বলল,ছেলে নাকি সন্ধ্যাবেলায় আসবে।
ও—তাই নাকি। মানসবাবু কি তবে এখন এখানেই?মানে বাড়ীতেই আছেন?থাকলে তো খুবই ভালো হয়।
কথা কথা বলতে বলতে জেঠু মোবাইল থেকে মানসবাবুর বাবার নম্বর বোধহয় ডায়াল করেছেন।
এক মিনিটের মধ্যেই কথা সেরে ফোন অফ করে উনি বললেন,মানসবাবুর বাবা নিজের কোনো কাজে এখন চুঁচুড়া যাচ্ছেন। বিকেলে ফিরবেন। মানসবাবু এসেছিলেন। তবে আজ খানিক আগেই বেরিয়ে গেছেন। দিল্লী যাবেন। হাওড়া থেকে দুরন্ত এক্সপ্রেস ধরবেন। আমরা চাইলে বিকেলের পরে ওনার বাড়ী যেতে পারি।
বাপ্পার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার কপালে আবার চিন্তার ভাঁজ। আনমনা হয়ে একটা চেয়ারে বসে সামনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। জেঠু একটু অবাক হচ্ছেন বুঝতে পারছি। কিন্ত বাপ্পার এই ভাবভঙ্গি আমার খুব চেনা। ওর মাথায় এখন নির্ঘাত দ্রুতবেগে নানা সমীকরণ ও তার সমাধানসূত্র ছোটাছুটি করছে। আমি আর জেঠু খাটের ওপর বসেছি। উনি একটা সিগারেট ধরিয়েছেন। বাপ্পা কি মনে হওয়াতে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে খুটখাট করতে লাগলো। মিনিট দু-তিন পরে চেয়ার ছেড়ে উঠে ঘরের মধ্যে টানা পায়চারী শুরু করল। জেঠু এমন হাবেভাবে বিরাট অবাক হচ্ছেন সেটা ওনার চোখমুখ দেখেই বুঝতে পারছি। আমার মন বলছে বাপ্পা দ্রুত কিছু চিন্তা করছে। একটু বাদে সে কেমন এক স্বগতোক্তির ঢঙ্গে বলল,বেশ—তবে তাই হোক!
তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল,বেরোতে হবে। আর সেটা এখনি।
বলতে বলতে মোবাইলটা নিয়ে দ্রুত কোনো নম্বর ডায়াল করে অপেক্ষা করতে লাগলো। উল্টোদিকে কেউ ফোন ধরেছে।
মিস্টার বক্সি—কোথায় আছেন?—হু হু—শুনুন একটা ভীষণ জরুরি তথ্য আধঘন্টার মধ্যে জেনে দিতে হবে—


* * * * * * * * * * * * * * * * * *


আমরা নিচে নেমে এসেছি। বাপ্পা জেঠুকে ওনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বলল,আমার ধারণা আমি আপনার সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারবো। অবশ্য যদি আমার অনুমান সঠিক হয়। একটা লাস্ট হেল্প লাগবে।
বলো। তোমায় কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
এখান থেকে মিনিমাম টাইমে বারাসাত যাওয়ার রাস্তা কি সেটা যদি বলে দেন।
তোমার ড্রাইভারকে ডাকো। বলে দিচ্ছি। কিন্ত তুমি কি এখন বারাসাত যাবে?
সেটা একটা ইনফরমেশনের ওপর নির্ভর করছে।
ঠিক আছে। দেখো,যা ভালো বোঝো করো।
বাপ্পা বিপুলকে গাড়ীটা একবার ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে বলল। দু-মিনিটের মধ্যে সে চলে এলো। জেঠু তাকে রাস্তার দিগনির্দেশ বুঝিয়ে দিলেন।
আসি আমরা।
বাপ্পা ওনাকে প্রণাম করতে নিচু হলো। সঙ্গে আমিও।
থাক বাবা। তোমরা আমার দীপ্তর সম্মানটা রেখো। সে বড় ভালো ছেলে।
গাড়ীতে উঠতে যাওয়ার আগে উনি আমাদের কাছে এগিয়ে এসে বললেন,আরেকটা কথা। তুমি ডিটেকটিভ হতে পারো। কিন্ত আমিও ডিটেকটিভ বই পড়ি। তুমি কি ভাবছো সেটা বোধহয় আমি বুঝে গেছি। আমার বিশ্বাস তুমি আমার সম্পত্তি,স্যরি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে। শুধু দেখো যেন মিডিয়ায় ব্যাপারটা না ছড়ায়।


* * * *


লালবাজারের অনুরূপ বক্সির সঙ্গে আমাদের আলাপ আজকের নয়। বাপ্পার বাবা মানে অম্লানকাকু অনেক বছর লালবাজারে ছিলেন। এখন ট্রান্সফার হয়ে এলাহাবাদে গেছেন। বক্সি সেই সময় চাকরিতে ঢোকেন। কোনো এক অজানা কারণে বাপ্পা বয়সে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও তাকে আপনি করে বলেন। আমাকেও। এককথায় আমাদের ঘরের লোক। কোনো দরকার থাক বা না থাক আমাদের বেলতলা রোডের আস্তানায় মাসে বারদুয়েক আড্ডা দিতে আসবেনই। সেই তিনিই বাপ্পাকে ফোন করেছেন মিনিট কুড়ির ভেতরে। একদিককার কথা শুনলাম আর তাই লিখছি।
হ্যাঁ বলুন—কনফার্মড?—নেই?ওকে। আচ্ছা ইনস্পেকটর লাহিড়ীকি এখনও আগের জায়গাতেই আছেন?ইয়েস—লাগবে কিন্ত স্রেফ তিনি—আর আপনার লোকেশন?—ফাইন—চলে আসুন—পৌনে চারটে।
ইন্সপেকটর লাহিড়ীকে চিনি। কয়েকমাস আগেই আমাদের সঙ্গে একটা কেসের ব্যাপারে দেখা হয়েছিল। কিন্ত তিনি তো যতদূর মনে পড়ছে এয়ারপোর্ট থানার ইনচার্জ। আমাদের গাড়ী ব্যারাকপুর স্টেশনের আগের ফ্লাইওভারে উঠে গেছে। ইন্ডিকেটর বলছে ওয়ে টু বারাসাত। সে কথাই হয়েছিল। আমার বন্ধু এই মুহুর্তে মোবাইলে দ্রুত কিছু টাইপ করছে। কাউকে মেসেজ পাঠাচ্ছে কি?হতে পারে?বক্সি?নাকি অন্য কেউ?জানি না। কিন্ত কি লিখছে?সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। মেসেজটা পাঠিয়ে সে সামনের দিকে তাকালো। একটা চার মাথার ক্রসিং-এ সিগন্যালে আটকে আছি। পরে জেনেছিলাম এ জায়গাটার নাম ওয়্যারলেস মোড়। আমাদের গাড়ী ঠিক এই মুহুর্তে পূবমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর উত্তর-দক্ষিণ বরাবর একটা হাইওয়ে যাচ্ছে। বলা ভালো এক্সপ্রেসওয়ে। কথা নেই বার্তা নেই বাপ্পা দুম করে দরজা খুলে নেমে রাস্তার পাশের একটা পান-সিগারেটের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সিগারেট কিনতে?সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম,দোকানের লোকটি মাথা আর হাত নেড়ে নেড়ে দেখিয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। বাপ্পা সেটা শুনে দেড় মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে গাড়ীতে বসে বলল,বিপুল ডানদিকে যাবো। এটা কল্যানী এক্সপ্রেসওয়ে।
বিপুল জানতে চাইল বারাসাত যাবেন না স্যার?
এটা তো আমারো প্রশ্ন।
বাপ্পা বলল,নাহ। সোজা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে চলো।
সিগন্যাল গ্রীন হয়ে গেছে। বিপুল গাড়ী ডানদিকে ঘুরিয়েছে। একটু যেতেই বোঝা গেলো এটা রাস্তা হিসেবে অনেক ভালো। তায় ফাঁকা। বাপ্পা একটা সিগারেট ধরিয়ে বিপুলকে বলল,সোজা গিয়ে যেখানে রাস্তা শেষ হয়েছে সেখান থেকে বাঁদিক নিয়ে নিও। বিরাটিতে গিয়ে উঠবে।
এবারে বোঝা গেলো বারাসাত আদপে যাওয়ার দরকার ছিল না। তার মানে অন্য কোথাও। তার মানে---তার মানে--!!
আমার চকিতে একটা সম্ভাবনা মাথায় উঁকি দিতে বাপ্পাকে জিজ্ঞেস করলাম,এয়ারপোর্ট?
এতক্ষণে সে একবার আমার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলল,যাক বুঝেছিস। ইয়েস ব্রাদার। আমাকে একটা চান্স নিতেই হচ্ছে।
বাপ্পার কথা শুনে মনে হলো সামনে ক্লাইম্যাক্স। একটা অজানা টেনশনে আমার বুকটা ধুকপুক করে উঠলো। কিন্ত কে?কাকে বাপ্পা চেজ করতে যাচ্ছে?দুপুরবেলা। ফাঁকা রাস্তায় বিপুল স্পিড তুলেছে একশো কুড়ির কাছাকাছি। ইতিমধ্যে আবার ফোন। আবার একদিকের কথা। সেটাই লিখছি।
বলুন—কথা হয়েছে?হু—না না—কোনো ভীড় নয়-কেবল আপনারা দুজন—না না—এন্ট্রি দেবেন না-গেটে বা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলুন।
বাকি রাস্তাটুকু আর কথা হয়নি। এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে বাপ্পা শুধু বলে দিল,ডোমেস্টিক।
বিপুল যখন ডিপারচার গেটের সামনে গাড়ী দাঁড় করালো তখন ঠিক চারটে বাজতে দশ। আমরা গাড়ী থেকে নেমে সামনে এগোতেই মিস্টার বক্সিকে দেখতে পেলাম।
বললেন,এই যে আপনারা। এসে গেছেন!যাক,এদিকে আসুন।
বক্সি সোজা হনহন করে খানিকদূর এগোলেন। আমরা তার পিছু পিছু। একটা অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গার সামনে এসে দেখি এক ভদ্রলোক একটি চেয়ারে ম্লান মুখে বসে আছেন। অফ হোয়াইট জিন্স আর আকাশী নীল জ্যাকেট পরা। ব্যাকব্রাশ করা চুল। কাঁধে একটা ব্যাগ। ঠোঁটের উপরে একটা ভারী গোঁফ। কেমন যেন চেনা-চেনা লাগছে। ভদ্রলোকের উল্টোদিকে ইন্সপেক্টর লাহিড়ী আর একজন ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন।
বাপ্পা এগিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসা ভদ্রলোককে বলল,চালটা চেলেছিলেন ভালো। কিন্ত নিজেই যে মাত হয়ে যাবেন সেটা ভাবেননি বোধহয়।
কথা শেষ করে ওনার কাছে এগিয়ে গিয়ে ব্যাকব্রাশ করা চুল ধরে একটান মারতে সেটা আমাকে অবাক করে খুলে চুলে এলো। উইগটা হাতে নিয়ে ঘোড়াতে ঘোড়াতে বাপ্পা বলল,আপনি দিল্লী যাচ্ছিলেন ঠিকই কিন্ত হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে নয়,কলকাতা-দিল্লী জেট এয়ারওয়েজের ইভনিং ফ্লাইটে। যদিও আপনার বাবা দুরন্তর কথাই বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন। কিন্ত আজ যে বুধবার। আজ তো সে ট্রেন যায় না মিস্টার বর্মন। এ খবর আমি নিয়ে থাকলেও তিনি আশা করি জানেন না। সে ট্রেন বাই উইকলি। সোমবার আর শুক্রবার ছাড়ে হাওড়া থেকে। সেটা আমি ধরে ফেলবো ভাবতে পারেননি বোধহয়। তাই না?
যাকে লক্ষ করে ও কথাগুলো বলল,সেই বর্মণ মশাইয়ের মাথাটা ততক্ষণে ঝুলে গেছে।
মিস্টার বক্সি চুপচাপ এনাকে গাড়ীতে নিয়ে আমার বেলতলা রোডের ফ্ল্যাটে চলুন। তারপর দেখা যাক এনাকে নিয়ে কি করা যায়।
গাড়ীতে উঠতে উঠতে জানতে চাইলাম,বক্সিকে পেলি কোথায়? আর কোথাকার ম্যানেজারের কথা বললি?
বাপ্পা এতক্ষণে একটা সিগারেট ধরিয়ে গাড়ীতে উঠতে উঠতে বলল,উনি একটা তদন্তের কাজে সল্ট লেকে এসেছিলেন। তাই চলে আসতে বললাম। উনি থাকলে অনেক সুবিধা হয়। আর ম্যানেজার মানে এয়ারপোর্ট ম্যানেজার। মেইন গেটে বর্মণকে আটকাতে গেলে হয়ত ওনার সাহায্য লাগত। সেটাই বক্সিকে বললাম। দরকার হয়ে থাকলে হয়ত উনি কথা বলেছেন

পরের অংশ

   অনীশ মুখোপাধ্যায়

 

লেখক পরিচিতি - পেশায় অর্থনীতির অধ্যাপক।ন'হাটা কলেজে কর্মরত।লেখালেখি নিয়ে চিন্তাভাবনার শুরু ২০১০-এ।প্রথম উপন্যাস 'জগতরত্ন রক্তনীল' আনন্দমেলায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ২০১৪-২০১৫ সালে।বিহারীলালের আলোছায়া দ্বিতীয় রচনা। ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখিতে আগ্রহী।ফেসবুকে এ ব্যাপারে নিজস্ব পেজ 'বাইশ গজের ডাইরি'তে নিয়মিত লিখে থাকেন।