রহস্য রোমাঞ্চের ঊর্ণস্থল
 

 

প্রথম পাতা


আলোচনা


গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনীর লেখক, বই, গোয়েন্দা ....


গল্প


উপন্যাস


আন্তর্জাতিক


 

 

 

 

 

 

 

 


 

বিহারিলালের আলোছায়া


(৩)


আমরা আধঘন্টা হলো ঘরে ফিরেছি। বর্মণের সাথে কথা বলার পরে আর বিশেষ কিছু করার ছিল না। এখন দেড়টা বাজে। অনন্ত খাবারের ডাক দিয়ে গেছে। বাপ্পাকে দেখে যদিও মনে হলো না যে তার খাবার কোন তাড়া আছে। সোফায় পা তুলে আধঘন্টা চুপচাপ সে শুয়ে রইল। আমি জানি তার চিন্তার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এ সময় তাকে কথা বলে বিরক্ত করাটা ঠিক হবে না। অগত্যা আজকের খবরের কাগজ দুটো নিয়ে বসলাম। কাগজে অবশ্য উল্লেখযোগ্য তেমন কোন খবর নেই। প্রথম দু পাতায় রাজনৈতিক খবর ভরা। তারপর সম্পাদকীয়। সেখানে মন বসার মত কিছু লেখা নেই। সিনেমার পাতায় নতুন সিনেমার খবর আর ছবি। কিন্ত তাতে আমার উৎসাহ কম। খেলার পাতায় সেই ক্রিকেট। গতকাল একটা একদিনের খেলায় ভারত যথারীতি ইংল্যান্ডের কাছে চার উইকেটে হেরেছে। সে নিয়ে বিস্তর সমালোচনা চলছে। দুটো নাগাদ আবার অনন্ত এসে খেতে ডেকে গেলো। বাপ্পা এবারে উঠে বসে বলল,কল্লোল মুখার্জীর সাথে আগামীকাল কথা বলার একটা সময় ঠিক করতে হবে। আর একবার দীপ্তদার বাড়ী যাওয়া দরকার। পারলে আজ সন্ধ্যায়।
খেয়ে উঠে বাপ্পা সেইমত দীপ্তদাকে মোবাইলে ধরলো। এখন যেহেতু উনি চিত্রভাসের অফিসে থাকবেন তাই ঠিক হলো যাওয়ার সময়,এই ছটা নাগাদ উনি আমাদের কালিঘাট মেট্রোর সামনে থেকে ওনার গাড়ীতে তুলে নেবেন। ফোন রেখে বাপ্পা একটা গোল্ড ফ্লেক ধরাবার উদ্যোগ নিচ্ছে দেখে জিজ্ঞেস করলাম কিছু এগোতে পারলি?
লাইটার অফ করে একগাদা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল,প্রায় নাই বলতে পারিস। তিনজনের কেউই এমন কিছু জানাননি যেখান থেকে সামান্যতম সন্দেহ চাগাড় দিতে পারে।
দুপুরটা বিশ্রাম নিয়েই কাটল। বৈকালিক চা পর্ব শেষ করে দুজনে তৈরি হয়ে বেরোলাম। আমাদের এখান থেকে মেট্রো স্টেশন হেঁটে দশ মিনিট। আর মেট্রোতে সাত আট মিনিট। নির্দিষ্ট সময়ে মেট্রো থেকে বেরিয়ে দুমিনিট অপেক্ষা করতে না করতেই একেবারে আমাদের গা ঘেঁষে দীপ্তদার অল্টো এসে দাঁড়াল। গড়িয়াহাট দিয়ে এসে সোজা বালিগঞ্জ স্টেশন ডাইনে রেখে গাড়ী এগিয়ে চলল বাইপাশের দিকে। তবে আজকাল গাড়ীর সংখ্যা এত বেড়েছে আর এতবার ক্রসিং-এর সামনে আটকাতে হয় যে পাটুলী আসতে প্রায় মিনিট চল্লিশ লেগেই গেলো। দীপ্তদার বাড়ীটা নিউ গড়িয়া স্টেশনের কাছে। আমরা আগে আসিনি। সেখানে গিয়ে যেটা দেখলাম সেটা হলো ছয়তলা বাড়ীর একতলায় ওনার ফ্ল্যাট। আজকাল যেমন সব স্ট্যান্ড এলোন কো-অপারেটিভ হয় তেমনই। তবে একজনের পক্ষে বেশ বড় ফ্ল্যাট। একা থাকলে এত বড় জায়গায় মাঝেমধ্যে ভয় করতে পারে। এমনিতে শান্ত মনোরম পরিবেশ। দুটো বড় ঘর। একটা স্টাডিরুম। এছাড়া ড্রয়িংরুম,কিচেন আর টয়লেট। পেছনে একটা ছোট বারান্দা। আমরা প্রথমে স্টাডিতে ঢুকলাম। দক্ষিণ খোলা জানালা। তার উল্টোদিকে একটা বেশ বড় টেবিল। তাতে রাজ্যের বই খাতা অবিন্যস্ত হয়ে আছে। একপাশে একটা টেবিল ল্যাম্প। টেবিলের ডানদিকে তিনটে ড্রয়ার। তালা বন্ধ,টেবিলের বামহাতে একটা ক্যালেন্ডার ও পেন বক্স রাখা আছে। বাপ্পার চোখ ঘুরছে সারা ঘরে। আমি জানি তার মনের ভেতরে সবকিছু পাকাপাকিভাবে স্টোর হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বসতে বলে অফিস ব্যাগ থেকে দীপ্তদা একগোছা চাবি বের করলেন। তার থেকে একতা বেছে নিয়ে মাঝের ড্রয়ারটা টেনে দেখালেন।
এইখানে ছিল ডিভিডিটা। এখন নেই।
হতাশামেশা গলায় বললেন তিনি।
কেউ কলিংবেল টিপেছে।
একমিনিট দাঁড়া। আমার কুক,মানে দিবাকর এলো মনে হয়। খুলে দিয়ে আসি।
একটু বাদেই ফিরে এসে বললেন,দেখ সবকিছু। আমার তো গোপন কিছু নেই। যা ছিল সেটাই লোপাট হয়ে গেছে।
বাপ্পা জানালার কাছে গিয়ে এক ঝলক বাইরেটা দেখে এসে আবার চেয়ারে বসে পড়ল। তারপর জানতে চাইল। তোমরা সেদিন কোথায় বসেছিলে?
ভেতরের ঘরে। এই ঘর থেকে বেরিয়ে উল্টোদিকের কোনের ঘরটায়।
বাপ্পা সটান চেয়ার থেকে উঠে বলল,চলো একবার। সেখানে যাই।
চল।
দীপ্তদা আমাদের নিয়ে স্টাডি থেকে বেরিয়ে উল্টোদিকের ঘরে ঢুকলেন। এ ঘরটা একটু ছোট। একটা ডবল বেড খাট পাতা আছে। একটা ছোট সাইড টেবিল। জামাকাপড় রাখবার জন্য একটা দেয়াল আলমারী। বাপ্পা সেটা খুলে ফেলে বলল,এ কি!এসব কি রেখেছ?
আমি ঘাড় উঁচিয়ে দেখি পাশাপাশি দুটো খালি বোতল রাখা আছে।
দীপ্তদা একটু হেসে বললেন,সেদিনের পাপ।
হুম। ভালোই জমিয়েছিলে আসরখানা। বসেছিলে কটায়?
একটু ভেবে নিয়ে উনি বললেন,এই ধর সাড়ে ছটা হবে।
বাপ্পা ঘরময় ঘুরতে ঘুরতে হঠাত কি মনে হওয়াতে সাইড টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানে একটা ছোট শৌখিন টেবিল কাম ক্যালেণ্ডার রাখা আছে। সেটা নিয়ে একটু উলটে পালটে নেড়ে চেড়ে দেখল। তারপর বলল,তুমি বেশ অগোছালো আছো। অন্তত তাই মনে হচ্ছে।
কেন বলছিস?
ঘড়িটা তুলে আমাদের দিকে সে দেখালো। আশ্চর্য। ঘড়িটা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন নিশ্চয় রাত সাড়ে আটটা বাজে না। আমার ঘড়ি বলছে এখন সোয়া সাতটা বাজে।
এই দেখো….এটা আবার কখন হলো!!
দীপ্তদা মনে হলো একটু অপ্রস্তুতে পড়েছে।
যখনই হোক….হয়েছে আর সেটা খুব পরিস্কার। চলো বাকি ঘরটা দেখি।
ঘর থেকে বেরিয়ে ডান হাতে চললাম। ঠিক পাশেরটাই ওনার বেডরুম। ভেতরে ঢুকে একটা আয়না সবার আগে চোখে পড়ল। তার সংলগ্ন একটা ছোট টেবিল। সেখানেও ড্রয়ার। এ ঘরে এসি আছে। টয়লেটের দরজা ঘরের পশ্চিমপ্রান্তে। খাটটা একজনের পক্ষে বড় কিন্ত দুজনের পক্ষে ছোট। এ ঘরে একটা থ্রি-ডোর ওয়ারড্রোবও দেখলাম। আর একটা সাইড টেবিল। অন্য কোনো আসবাব নেই। দেখার মত আর কিছু চোখেও পড়ল না। আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে এবার ড্রয়িং স্পেশটায় এলাম। এখানে একটা সেন্টার টেবিল। একদিকে একটা বেতের সোফা। উল্টোদিকে দুটো বেতের চেয়ার।
এখানে বসা যাক। সোফার দিকে আমাদের দেখিয়ে উনি বললেন।
বাপ্পা বলল,তবে তার আগে তোমার ল্যাপটপটা একবার নিয়ে এসো। দেখা দরকার।
ইতিমধ্যে একজন অল্পবয়স্ক কাজের লোক একটা ট্রে-তে করে তিন কাপ কফি আর কিছু বিস্কুট নিয়ে এসেছে। দীপ্তদা ল্যাপটপ আনতে যেতে আমরা কফিতে চুমুক দিলাম। বাপ্পার দিকে তাকিয়ে দেখি তার কপালে গোটাকতক ভাঁজ। কি ব্যাপার জিজ্ঞেস করাতে সে বলল,তেমন কিছু নয়। একটা খটকা। সেটা কি জিজ্ঞেস করতে যাবো কিন্ত তার আগেই দীপ্তদা ল্যাপটপ নিয়ে ঢুকলেন। ল্যাপটপটা খুলতে খুলতে বাপ্পা একটা গোল্ড ফ্লেক ওকে দিয়ে নিজে একটা ধরালো। তারপর গলগল করে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল,সেদিন ল্যাপটপটা বন্ধ করলে কখন?
উনি বললেন,আমি তো লিখছিলাম। সেদিন সকালে বসেছিলাম সাড়ে দশটা নাগাদ। বিকেলের দিকেও মিনিট পঁয়তাল্লিশ মতন কাজ করেছি। তোকে এটা বলা হয়নি। ভুলে গিয়েছিলাম। যাইহোক তারপরে আর বসিনি। ওরা চলে এলো।
ওরা কে কখন এলো?একটু ভেবে বলো।
দীপ্তদা চিন্তায় পড়লেন। তারপর বললেন,দেখ মানস সাড়ে তিনটের কাছাকাছি কোনো সময় এলো। আগেই বলেছি যে ওর রান্নায় ন্যাক আছে। তো ও এসে দিবাকর আর আমার সাথে হাত লাগালো। আমি মাটনটা রেডি করে এসেছি ততক্ষণে। ভাবলাম আরেকটু কাজ এগিয়ে নেওয়া যাক। এরপরে পাঁচটা নাগাদ রণজয় এলো। এক রাউন্ড চা হলো। সেটা শেষ হতে হতে সাড়ে পাঁচটা-ছটা। ওইরকম সময়েই তীর্থ আর কল্লোল ঢুকলো। তারপর তো বসেই গেলাম।
তার মানে সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে পরেরদিন সকাল পর্যন্ত তুমি জানো না যে ডিভিডিটার কি হলো। রাইট?
পরের দিন দুপুর পর্যন্ত ধরে নে। দুটো অবধি ধর।
আচ্ছা ড্রয়িংরুমে না বসে ভেতরের ঘরে বসলে কেন?
আরে এটা তো খুব অবভিয়াস ব্যাপার। বোতল নিয়ে বসছি। কেউ হঠাত চলে এলে দরজা খুলে প্রথমেই তো এখানে চোখ পড়বে। তাই-
বাপ্পা উঠে পড়ল। ড্রয়িংরুম থেকে সোজা স্টাডিতে গেলো। সে ঘরের পর্দা ফেলা। তারপর বেরিয়ে আবার ড্রয়িংরুম পেরিয়ে যে ঘরে আড্ডা বসেছিল সেখানে ঢুকলো। একটু বাদে আবারও বেরিয়ে এলো। এসে আবার চেয়ারে বসে বলল,তার মানে কেউ যদি হঠাত আড্ডা থেকে উঠে ড্রয়িংরুম পেরিয়ে স্টাডিতে যায় তবে বাকিদের সেটা দেখার রাস্তা নেই। ঠিক কিনা?
সে তো বটেই।
ড্রয়ার যদি খোলা থাকে যে কেউ তার মানে জিনিষটা নিতে পারে। আর আমি সিওর তোমার ল্যাপটপ খোলা ছিল। যেই নিয়ে থাক,তাকে বেশি খুঁজতে হয়নি। ডেস্কটপ থেকে সে নিশ্চয় নিজের পেন ড্রাইভে কপি করেছে। তারপর লেখাটা উড়িয়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে দু-তিন মিনিটের কাজ। যে কেউ ওয়াসরুমে যাওয়ার নাম করেও কাজটা করতে পারে। আর আমার বিশ্বাস এখানে হয়েছেও তাই। আর সেজন্য তোমার দুটো ভুল দায়ী। এক,তুমি ল্যাপটপ বন্ধ করোনি। একটু আগেই বলেছি। দুই,ড্রয়ার লক করোনি। ভেবে দেখো।
বাপ্পা থেমেছে। আমি ব্যাপারটা মানসচক্ষে দেখবার চেষ্টা করছি। আর দীপ্তদা মাথা ঝুঁকিয়ে বসে আছে। কি মনে হওয়াতে বাপ্পা আবার উঠে পড়ল। আবার স্টাডিতে গেলো। মিনিট দুয়েকবাদে বেরিয়ে এসে এতক্ষণে ল্যাপটপের সামনে বসলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে জিনিষটা দামি। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে জিজ্ঞেস করল,কোথায় ছিল ফাইলটা?
দীপ্তদা ডেস্কটপের ওপরে একটা জায়গা দেখালেন। তারপর বললেন,বাংলায় লিখছিলাম,অভ্র কি বোর্ডে। আজকাল তো সবাই তাই করে।
জানি। একমনে কি সব দেখতে দেখতে বাপ্পা বলল। তারপর ডিভিডি ড্রাইভারটা খুলে দেখল। সবশেষে পেন ড্রাইভের পোর্টগুলো। কোথাওই কোনও চিনহ নেই।
নাহ। যা ভাবছিলাম তাই। যে কাজটি করেছে সে অত্যন্ত সাবধানে করেছে। আচ্ছা দিবাকরের সাথে একবার কথা বলা যায়?
হ্যাঁ,হোয়াই নট। ডাকছি।
ডাকতে হবে না। তোমরা বোসো। আমি কথা বলে আসছি।
বন্ধুটি সোজা ড্রয়িংরুমের শেষপ্রান্তে বাঁ হাতে ঢুকে গেলো। মিনিট পাঁচেক বাদে দেখলাম সে কোথা থেকে একটা সাদা কাগজ ভাঁজ করে প্যান্টের পকেটে রাখতে রাখতে ফিরে আসছে। এক ঝলক তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম কপালের ভাঁজগুলো অদৃশ্য হয়েছে। তাকে বেশ চিন্তামুক্ত মনে হচ্ছে।
বাইরে বেরিয়ে এসে দীপ্তদাকে বলল কল্লোল মুখার্জীকে ধরে কাল একটা মিটিং-এর ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা দেখতে। আর ওনার জেঠুকে জানিয়ে রাখতে বলল যে এর মধ্যে হয়ত কোনোদিন সে ওনার সাথে যোগাযোগ করবে।
দীপ্তদা আমার মেট্রোর দিকে যাওয়ার আগে জানতে চাইলেন,কিছু বুঝছিস?আমাকে এই শুক্রবারের মধ্যে লেখাটা জমা দিতে হবে। কি করব?আবার বসে লিখবো?
বাপ্পা বলল,তোমায় এখনি কিছু প্রমিস করছিনা। আমায় আরো দিন দুয়েক সময় দাও।
মেট্রো থেকে নেমে বেলতলা রোডের দিকে যেতে যেত জিজ্ঞেস করলাম,কাগজ রহস্যটা বললি না?
বাপ্পা আমার দিকে তাকিয়ে একবার বিচিত্র হেসে বলল,রহস্য কিছু নেই রে। কবি বলিয়াছেন, যেখানে দেখিবে ছাই,উড়াইয়া দেখো তাই।

(৪)


পরেরদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাপ্পা একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট নিয়ে পড়ে রইল। মাঝে দীপ্তদা ফোন করে জানিয়েছেন কল্লোল মুখার্জী আজ রাত আটটার পরে কথা বলতে পারবেন জানিয়েছেন। তবে তাঁর বাড়িতে যেতে হবে। আর দুপুরবেলা খেতে বসার আগে বাপ্পা টালিগঞ্জের সিনেমা পাড়ায় একজনকে ফোন করেছে। এনার নাম অর্ঘ্য চক্রবর্তী। বিকেল ছটায় একবার নাকি ইনি আসবেন। আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই ভদ্রলোককে কি কাজে লাগবে। সে তাতে জানিয়েছে কিছু খবর জানা দরকার। আর অর্ঘ একাজে উপযুক্ত ব্যক্তি। সকাল থেকে সে কি ঘেঁটে বেরালো একথাটা তাকে বিকেলে চা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম। তাতে সে যা বলল,আমার সংগে তার কিছুটা হলেও মিললো। দীপ্তদার চার বন্ধুর প্রোফাইল দেখছিল সে। তার জন্য দীপ্তদার প্রোফাইলে ঢুকলেই হয়। সেভাবেই সে কাজটি সেরেওছে। কিন্ত কি জানা গেলো সেখান থেকে?
বাপ্পা মুচকি হেসে একটা গোল্ড ফ্লেক ধরালো। তারপর বলল,এখনো পরিস্কার কিছু বুঝিনি। তাই অর্ঘ্যকে দরকার। সে আসুক।
সোয়া ছটা নাগাদ অর্ঘ্যবাবু এলেন। ছোটখাটো চেহারা। গায়ের রং ফর্সা,ব্যাকব্রাশ করা চুল,চোখে হাল ফ্যাসানের চশমা। এককথায় সুশ্রী দেখতে। বলা দরকার এনার সঙ্গে বাপ্পার পরিচয় নতুন নয়। আগেও দু-একবার তিনি বাপ্পাকে সাহায্য করেছেন। য়ার টালিগঞ্জ পাড়ায় ওনার যাতায়াতও বেশ কিছু বছর যাবৎ চলছে।
বাপ্পা প্রথমে তাকে জিজ্ঞেস করল,আপনি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সাথে যুক্ত কি?
উনি একটু হেসে বললেন,হ্যা আছি। তবে আমার নামে পাবেন না।
ঠিক তাই। সেজন্য পাইওনি।
আমার ডাকনাম তোজো। আর ওখানে নাম দিয়েছি তোজো ফর ফ্রেন্ডস।
বেশ। এখন যেজন্য ডাকা, ‘ওরা কয়েকজন ও আমি’এই নামে একটা সিরিয়াল বেশ কিছুদিন আগে হত। আপনি জানেন কি?
নামটা চেনা চেনা লাগছে।
লাগলে ভালো। যদি না লাগে তবে একটু খবর নিন। সম্ভবতঃ সিরিয়ালটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আমার জানা দরকার সেটা কোন সময় হত,কারা অভিনয় করতেন,কার প্রোডাকশন ও ডিরেকশন,কেন বন্ধ হয়। সময় পাচ্ছেন দুদিন। পারলে আরো আগে জানান।
অর্ঘ্য কিছু একটা চিন্তা করছেন। বললেন ঠিক আছে। আমি দেখছি। আপনার কোনো কেসের জন্য লাগবে আশা করি।
বাপ্পা ঘাড় হেলিয়ে বলল,খুব মুশকিলে ফেলছি না নিশ্চয়।
নো নো। নট অ্যাট অল।
অনন্ত কফি আর কুকিস দিয়ে গিয়েছিল। কথাবার্তা বলতে বলতে সে সব খেয়ে উনি বেরিয়ে গেলেন। এখন বাজে প্রায় সাতটা।
বাপ্পা বলল, রেডি হয়ে নে। কল্লোলবাবুর বাড়ী যেতে হবে। আটটায়। মনে আছে তো?
সে আছে। কিন্ত এই সিরিয়ালের ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না তো?তুই কাকে খুঁজছিস?
ধীরে বন্ধু ধীরে। কাল সকালে বসে তুইও খোঁজাখুঁজি কর। তুইও কিছু বের করতে পারবি।
আমরা বেরোবার পরে বাপ্পা তার মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে উবেরের ট্যাক্সিকে ডেকে নিলো। ও বলল,আমাদের এখান থেকে চট করে অন্যভাবে যাওয়া মুশকিল। তাই এই ব্যবস্থা। বাপ্পার আটটা মানে আটটাই। আমরা বাড়ীর নম্বর মিলিয়ে যে হাউজিংটার সামনে গিয়ে হাজির হলাম সেটা একটা বড় কো-অপারেটিভ মনে হল। অনেক ফ্ল্যাট। বাপ্পা ফোনে নম্বরটা আগে জেনে এসেছিল। গেটে সিকিউরিটিকে ‘কোথায় যাবেন’ জিজ্ঞেস করায় সেটা ও বলেও দিল। খাতায় নাম এন্ট্রি করার ব্যাপার চুকিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। এই প্রথম একজন অভিনেতাকে মিট করতে যাচ্ছি। এর ব্যাপার স্যাপার নিশ্চয় অন্যরকম হবে। লিফটে করে চারতলায় নেমে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ডোর বেল বাজালাম। খানিকবাদে একজন ছোকরা চাকর এসে খুলে দিয়ে আমাদের পরিচয় জানতে চাইল। বাপ্পা তার ওয়ালেট থেকে একটি কার্ড বের করে তার হাতে দিয়ে দিলো। মিনিটখানেকের মধ্যেই সে ফিরে এসে আমাদের ভেতরে এসে বসতে অনুরোধ করল। জানালো তার বাবু আসছেন। আমরা সুসজ্জিত ড্রয়িংরুমে এসে বসলাম। কত বড় ফ্ল্যাট জানি না তবে এই জায়গাটা অনেকটাই বড়। একটা হলঘরের মতন হবে। দেওয়ালে একদিকে দুটি অয়েল পেইন্ট। আরেকদিকে হলিউডের দুজন নামী অভিনেতার ছবি। একজন মার্লন ব্র্যান্ডো,আরেকজন ডাস্টিন হফম্যান। বোঝা গেলো ইনি সেদেশের ছবি ও অভিনেতাদের ভক্ত। সেন্টার টেবিলের একদিকে ঘোরানো সোফা। অন্যদিকে গদি আঁটা চেয়ার। আমরা সোফাতে বসতে বসতেই একজন ভারী গলায় ‘গুড ইভনিং’ বলে আমাদের পেছন দিয়ে ঢুকলেন। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি ভদ্রলোক এসে গেছেন। এবার সামনাসামনি দেখে মনে হল,এনাকে টিভির পর্দায় আগে দেখেছি। নাম জানতাম না,এই যা। চোখে রিমলেস চশমা,লাল ড্রেসিং গাউন পরে আছেন। ফর্সা চেহারা। গা থেকে পারফিউমের হালকা গন্ধ বের হচ্ছে। বেশ আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব বলে প্রথম দর্শনে মনে হবে।
বাপ্পা আত্নপরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।
কল্লোল বাবু বললেন,কি নেবেন বলুন?ভদকা না ওয়াইন?
বাপ্পা বলল,কোনটাই নয়। আমরা ও রসে বঞ্চিত।
সে কি মশাই!!ড্রিংক করেন না?তাহলে সফট কিছু বলি? নাকি চা-কফি?
যেমন আপনার ইচ্ছে।
ভদ্রলোক ‘বিশু’ বলে হাঁক পাড়তে সেই ছেলেটি ব্যস্ত হয়ে চলে এলো।
এনাদের জন্য দুটো লেমন জুস। আর আমার ওয়াইনটা দিয়ে যা।
এবার আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,বলুন কি হেল্প করতে পারি। কিছু মনে করবেন না,আমার আবার সন্ধ্যার পরে একটু ড্রিংক না হলে চলে না।
ইটস ওকে। বাপ্পা স্মিত হেসে বলল।
তা আমার বন্ধু কি সাসপেক্ট করছে যে তাকে আমরা ডুবিয়েছি?
বাপ্পা বলল, কতকটা তাই-ই বটে।
দেখুন আই হ্যাভ আ ফিলিং যে আপনি কিছু ইনফরমেশন আমার থেকে পাবেন যেটা আপনার কাজে লাগতে পারে। কেন জানেন?
বাপ্পার উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে উনি বলে চললেন,দীপ্ত আমার ওল্ড ফ্রেন্ড। ও যা করেছে সেটা অ্যাপ্রিশিয়েবল। আই মিন দ্যাটস ফাইন। কিন্ত ওর মত কেয়ারলেস পার্সন আমি লাইফে দুটো দেখিনি। আপনি কি জেনেছেন জানিনা। কিন্ত ওর সেদিন যা হাল হয়েছিল সেটা জাস্ট কহতব্য নয়।
কি রকম?
হি ওয়াজ আউট। আউট ফর আওয়ারস।
ইউ মিন ওয়াজ হি ড্রাঙ্ক?
অফ কোর্স ইয়েস। দেখুন আমি নিয়মিত ড্রিংক করি। ও খায় শখে। ইদানিং সেটা বেড়েছে। সেদিন শুরু করেছে ছটায়। বাই দ্য টাইম উই লেফট হি ওয়াজ টোট্যালি আউট। বাকিটা তীর্থ আর রণ সামলেছে। রাত কটায় ওরা খেয়েছে জানিনা। কি খেয়েছে তাও জানিনা। পরেরদিন বিকেলে ভাংগা গলায় সে যখন এই খবরটি সে আমায় দিল আই… আই ওয়াজ—মানে আই হ্যাড নাথিং টু সে। কি বলতাম ওকে সেই সময়ে। গড নোজ কে চুরি করেছে। যেই করুক ব্যাড। ভেরি ব্যাড। ওর অবস্থার সুযোগ নিয়েছে।
কল্লোল বাবু থেমেছেন। আমি হতবাক। বোধকরি বাপ্পাও।
মিনিটখানেক বাদে বাপ্পা বলল,এটা তো একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওনার কেয়ারলেসনেসের আরো কিছু জানেন নাকি?
বিশু খানিক আগে ওয়াইন আর জুস দিয়ে গিয়েছিল। ভদ্রলোক দুটো সিপ দিয়ে বললেন,আছে আছে। সেই স্কুল লাইফ থেকে দেখছি তো। অসম্ভব ভূলোমনা। ও যে চাকরিটা কি করে এত সুনামের সাথে করে এটা ভেবেই অবাক লাগে। কিন্ত একটা কথা বলতেই হবে। সেটা হলো ফিল্মটা ও খুব ভালো বোঝে। ওর লেখা পড়ছি বহুদিন ধরে। খুব ভালো লেখে। আমার ডিয়ার ফ্রেন্ড বলে বলছি না। হি নোজ হাউ টু রাইট অন দিস এরিয়া। বেস্ট জার্নালিস্টের প্রাইজটা ওরই প্রাপ্য।
বাপ্পা কিছুক্ষণ কি যেন ভাবল। তারপর বলল,সে রাতে ফিরে যাই। আপনি ফিরে এসেছিলেন। কখন বেরোলেন?
ঐতো মানস বেরোল। তারপরেই। আরে মশাই ঘড়ি দেখিনি। দীপ্তকে বলেছি বটে তবে আমরাও সবাই খুব স্টেডি ছিলাম এমন নয়। আমারও পা টলছিল। বাট ঠিক আছে। সব মনে আছে। খুব ভালো রান্না হয়েছিল। সবাই মিলে খাওয়াটা হলো না,এই যা। কিন্ত অনেকক্ষণ আড্ডা হয়েছে বহুদিন বাদে। দেদার আড্ডা। আসলে দীপ্তকে নিয়ে আমরা চার বন্ধুই খুব ইমোশনাল। ও ডেকেছে-মানে আমরাই পার্টিটা আদায় করলাম ওর কাছ থেকে। দারুণ ছেলে। এমন ছেলে কোটিতে মেলে মশাই। আমি বিশ্বাস করি না যে আমাদের মধ্যে কেউ এ কাজ করেছে। আমি জানি, আপনি আমায় জিজ্ঞেস করবেন যে আমি কাউকে সন্দেহ করি কিনা। তাই আগেই বলে রাখলাম যে করি না। সেরকম কিছু যদি পরে শুনি তবে খুবই দুঃখ পাবো।
বাপ্পা একটা গোল্ড ফ্লেক বের করে ওনাকে দিয়ে নিজে একটা ধরিয়ে বলল,আপনি অভিনয় করছেন কতদিন হলো?
এই ধরুন বছর চারেক। আসলে করছি আরো এক বছর আগে থেকে। তবে সেটা ফিল্ম নিয়ে কোর্স,ট্রেনিং,স্টাডি এইসব নিয়ে কিছুদিন পুণাতে ছিলাম। এখানেও করেছি।
বেশ। ডিভিডিটা দেখেছিলেন তো?
দেখেছি। আমি সিনেমাটাই দেখতে চেয়েছিলাম। তো দীপ্ত বলল,সে কি আলাদা এক শো-এর ব্যবস্থা করবে। সেখানেই সবাইকে নিমন্ত্রণ করে দেখাবে। এখন করো। এত মিস করছি জানেন। ওর এই বেয়াক্কেলে স্বভাবটার জন্য বোধহয় আর কোনোদিন এমন একটা রেয়ার ফিল্ম আমার দেখা হবে না।
আপনি কি বরাবর বালিগঞ্জেই থাকতেন?
না,না। আমরা ভবানীপুরের বাসিন্দা ছিলাম। গ্র্যাজুয়েশন করি স্কটিশ থেকে। তখন থাকতাম ভাড়া বাড়ীতে। তারপর কিছুদিন কম্পিটিটিভ পরীক্ষার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করে শেষে ফিল্ম স্টাডিজে ভর্তি হই। ব্যাস। লাইফ চেঞ্জ করা শুরু হলো।
আপনার কি নিজের গাড়ী আছে?
না,না। কেন বলুন তো?
জানতে চাইছিলাম যে সে রাতে ফিরলেন কিভাবে?
ট্যাক্সিতে গিয়েছি। আর ট্যাক্সিতেই ফিরেছি।
আচ্ছা সেদিন আপনাদের আড্ডা চলাকালীন এমন হয়েছে যে কেউ হঠাৎ উঠে গেছেন। আবার খানিকবাদে ফিরে এসেছেন?
অনেকবার। সবচেয়ে বেশিবার মনে হয় আমি উঠেছি। বার বার স্টুডিও থেকে ফোন আসছিল। শুটিং-এর ব্যাপারে। কিচেনে গেছি কাবাব আনতে। ওয়াসরুমে গেছি। বাকিরাও কেউ হয়ত উঠেছে। কিন্ত অত খেয়াল নেই। ওভাবে ঠিক বলতে পারবো না কে কখন কতবার উঠেছে।
আচ্ছা। শেষ প্রশ্ন। এই ফ্ল্যাটে কে কে থাকেন?
আমি,আমার ওয়াইফ আর আমার মেয়ে থাকে। এটা আমার নিজের ফ্ল্যাট নয়। ভাড়ায় থাকি। সন্তোষপুরে আমার মা-বাবা থাকেন। ওখানে আমাদের একটা নিজেদের ফ্ল্যাট আছে। এই মুহুর্তে আমি একাই আছি। কারণ আমার ওয়াইফ মেয়েকে নিয়ে তার বাপের বাড়ী গেছেন।
আর কিছু জানার ছিল না। ভদ্রলোককে ‘গুড নাইট’ বলে বাইরে বেরিয়ে এলাম।
ট্যাক্সি পেতে কিছু সময় লাগলো। রাত বেড়েছে বলেই হয়ত। অল্প অল্প ঠান্ডাও লাগছে।
লিখতে ভুলে গেছি,লেমন জুসটা দারুণ ছিল। বাপ্পাকে সে কথা বলায় সে গা করলো না। উল্টে ট্যাক্সিতে উঠে সে একটা অদ্ভুত মন্তব্য করল।
মক্কেলই যদি মিসগাইড করে তবে তদন্ত এগোবে কিভাবে?
জানতে চাইলাম,তার মানে?
মানে এই যে দীপ্তদার এই আউট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা।
হ্যা। মানে তাতে কি বোঝা গেলো?
কিছু বোঝা যায়নি নীল। কিন্ত বোঝা দরকার।
কিন্ত কি বোঝা দরকার?
তুই বুঝতে পারছিস না?
না। খুলে বল।
বলবার চেষ্টা করছি যে এত বড় ঘটনা তিনি বলতে ভুলে গেলেন?নাকি সুকৌশলে চেপে গেলেন?
চেপে যাবেন কেন?আত্নভোলা লোক। নির্ঘাত ভুলে গেছেন। বা হয়ত ওনার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হয়নি।
হু। সেটা হলেই ভালো। এ ব্যাপারটা ওকে একবার জিজ্ঞেস করতে হবে। বাকি রাস্তা আর কোনো কথা হয়নি। বাড়ী ফিরতে ফিরতে সোয়া দশটা। তারপর ডিনার। সেসব সেরে উঠে বাপ্পা বলল,কাল ঘোরাঘুরি আছে। অনেক কাজ। সকাল সকালই বেরোব। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিস।
বিছানায় ঢুকে কম্বলটা বেশ ভালো করে গায়ে জড়িয়ে শুয়ে পড়লাম। কিন্ত ঘুম আসছিল না। পাশের খাটে বাপ্পা। তার ওপাশের বেডসাইড ল্যাম্প জ্বলছে। হাতে মোবাইল। কিছু একটা সে দেখছে বা ঘাঁটছে। সেটা কি জানি না। সে কি এখনো কাউকে সন্দেহ করছে না?এবার এই প্রশ্নটাই তাকে করলাম।
একটা কথা ভেবে দেখ। সুযোগ সবারই ছিল। আর এটা এমন একটা কাজ যে এর জন্য কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। আজকাল প্রায় সবারই ওটাতে একটা বেসিক নলেজ থাকে। এখন দেখতে হবে যে হঠাৎ করে কার লোভ চাগাড় দিয়ে উঠলো। আর কেন?
বললাম,চুরিটা কখন হল সেটাও তো জানা দরকার। তোর আন্দাজ?
সব থেকে সেফ টাইম হচ্ছে রাত এগারোটার পরে। দুজন ততক্ষণে চলে গেছে। হোস্ট নিজে বেহুঁশ। বাকি দুজন হাত মেলাতে পারে। হাতে অঢেল সময়। অবাধ সুযোগ। আবার তাদের মধ্যে কেউ একজন অন্যজনকে লুকিয়ে কাজটা সারতে পারে। অন্যদিক থেকে দেখলে যারা সেইসময় ছিলো না তাদের কাছেও সুযোগ ছিল। এরা দুজন যখন বেরোয় তখন কল্লোলের ভার্সান অনুযায়ী দীপ্তদা সে সময় আউট। কাজেই ধরা পড়ার চান্স কম।
একটু থেমে মিনিট দুয়েক কিছু ভেবে নিয়ে চিন্তামগ্ন গলায় সে বলল,না রে। এভাবে এগিয়ে কাউকে ধরা যাবে না। আরো তথ্য চাই। কেউ মিথ্যে বলছে। কেউ সত্যি চেপে যাচ্ছে। বন্ধুকে ডোবানোর জন্য কে এগিয়ে এলো?কাল একবার ভাবছি—
বাপ্পা থেমে গেছে। একমনা হয়ে কিছু চিন্তা করে চলেছে। তারপর বিছানা থেকে উঠে একটা গোল্ড ফ্লেক ধরিয়ে ঘরময় পায়চারী করতে করতে পরপর ধোঁয়ার রিং ছাড়তে লাগল। খানিকবাদে সে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ফের কিছু ভাবনা। ফের পায়চারী। ফের থেমে পড়া। এবার সটান আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,যার কোন একটা কথা সত্যি বলে প্রমাণিত হয় না তাকে আর বিশ্বাস করা চলে কি?
না। কিন্ত কে মিথ্যে বলল?
বাপ্পা গম্ভীর গলায় বলল,যে সিরিয়ালে কাজ করত। যে সিরিয়াল মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্ত কেন বন্ধ হলো?মিথ্যেই বা বলতে হয় কেন?তারপর কি হল?সিরিয়ালে সে লোক কি করত?অভিনয় না ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ?অর্ঘ্য চক্রবর্তীর ফিড-ব্যাকের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আর অবশ্য—হ্যা। আরেকটা রাস্তা আছে। কাল তাহলে----হতেই হবে। আর একটু ভেবে দেখা দরকার।

 

পরের অংশ

   অনীশ মুখোপাধ্যায়

 

লেখক পরিচিতি - পেশায় অর্থনীতির অধ্যাপক।ন'হাটা কলেজে কর্মরত।লেখালেখি নিয়ে চিন্তাভাবনার শুরু ২০১০-এ।প্রথম উপন্যাস 'জগতরত্ন রক্তনীল' আনন্দমেলায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ২০১৪-২০১৫ সালে।বিহারীলালের আলোছায়া দ্বিতীয় রচনা। ক্রিকেট নিয়ে লেখালেখিতে আগ্রহী।ফেসবুকে এ ব্যাপারে নিজস্ব পেজ 'বাইশ গজের ডাইরি'তে নিয়মিত লিখে থাকেন।